নোয়াখালী অফিস ও মাদারীপুর প্রতিনিধি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় গত শুক্রবার রাতে একটি মন্দিরে ভাঙচুর এবং অন্য একটি মন্দিরে লুটপাট চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই রাতে মাদারীপুর শহরের কুলপদ্বী এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বাড়িতে দুষ্কৃতকারীরা আগুন দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুসারে, গত শুক্রবার রাত একটার দিকে চার-পাঁচজনের একটি দল বেগমগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণরামপুর উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন কালিরহাট শ্রীশ্রীরক্ষাকালী মন্দিরের সদ্যনির্মিত সীমানাপ্রাচীর ভাঙতে শুরু করে। এ সময় লোকজন শব্দ শুনে মন্দিরের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় তাদের দেখে মন্দিরের সামনে থেকে দুই ব্যক্তি দ্রুত হেঁটে চলে যান। একই রাতে চৌমুহনী চৌরাস্তায় শ্রীশ্রীরক্ষাকালী মন্দিরের লোহার ফটক ও কাঠের দরজার তালা ভেঙে দুষ্কৃতকারীরা প্রণামী বাক্স থেকে কয়েক হাজার টাকা এবং প্রতিমার সামনে থাকা স্বর্ণালংকার লুটপাট করে।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ আহসানুল ইসলাম বলেন, মন্দিরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর চৌমোহনী চৌরাস্তার ঘটনাটি চুরির। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মাদারীপুর জেলা শহরের কুলপদ্বী এলাকায় গত শুক্রবার রাতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের এক লোকের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুলপদ্বী এলাকার উত্তম কুমার মালো রাত দুইটার দিকে মাদারীপুর লেকে মাছ ধরার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এর কিছুক্ষণ পর একদল দুষ্কৃতকারী তাঁর ঘরের টিনের চালায় রাসায়নিক পদার্থ ছিটিয়ে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় গৃহকর্ত্রী চায়না রানী মালো চিৎকার করলে এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রথম আলো
৩২ জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা, ২৪ দিনে ৩১৯টি মন্দির, বাড়ি-দোকানে হামলা
![]() |
| ৩২ জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা, ২৪ দিনে ৩১৯টি মন্দির, দেড় হাজার বাড়ি-দোকানে হামলা |
২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকে এসব হামলা চালানো হয়। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা ফাঁসির আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালান বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে। কিছু এলাকায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরাও হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে শুরু থেকেই জামায়াত এ ধরনের হামলায় জড়িত, থাকার কথা অস্বীকার করে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছে।
অবশ্য এক সপ্তাহ ধরে গভীর রাতে বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা চালানো হচ্ছে। এসব হামলায় কারা জড়িত পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তা বলতে পারছে না।
২৪ দিনের ঘটনায় সংখ্যালঘু ব্যক্তিরা ২৬টি মামলা করেছেন। পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে ১৭টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ১৮৯ জন।
চট্টগ্রাম: রায় ঘোষণার দিন জামায়াত-শিবির বাঁশখালী উপজেলার জলদী ও গুনাগরি এলাকায় সাতটি বাড়ি, তিনটি মন্দির ও ৪০টি দোকানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। জলদীর ধোপাপাড়া এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় বৃদ্ধ দয়াল হরিকে। এতে আহত হয় অন্তত ১৫ জন।
একই দিন সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নে নয়টি মন্দির, নয়টি দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ৫৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
৮ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ার আঁধারমানিক শীলপাড়ার তিনজনের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। বাড়ির লোকজন কোনোরকমে বাঁচতে পারলেও পুড়ে ছাই হয়ে যায় বসতভিটা। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১৩টি দোকানে আগুন দেওয়া হয়।
নোয়াখালী: ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা পৌনে দুইটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ বাজার এবং পাশের আলাদীনগর ও টঙ্গীরপার গ্রামে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। আগুনে আটটি বাড়ির ২১টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় ৪৬টি ঘরে।
ছয়টি মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভেঙে ফেলা হয় মন্দিরের প্রতিমাগুলো। হামলা চালানো হয় রাজগঞ্জ বাজারের হিন্দুদের সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। পরে আগুন দেওয়া হয় চাটখিল উপজেলায় একটি মন্দিরসহ সেনবাগ ও কবিরহাট উপজেলার সাতটি বাড়ির ১০টি খড়ের গাদায়।
এর মধ্যে আলাদীনগর গ্রামের মালীবাড়িতেই পুড়িয়ে দেওয়া হয় ১২টি বসতঘর। বাড়ির বাসিন্দা অমূল্য চন্দ্র জানান, পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারেননি তাঁদের বাড়ির লোকজন।
এসব ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। এতে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে দেড় থেকে দুই হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পুলিশ গ্রেপ্তার করে ৩৮ জনকে।
সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জের কালিরহাট রক্ষাকালী মন্দিরে আবারও হামলা চালিয়ে মন্দিরের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। একই রাতে চৌমুহনী চৌরাস্তায় আরেকটি রক্ষাকালী মন্দিরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
রংপুর: ২৮ ফেব্রুয়ারি মিঠাপুকুর উপজেলার পাঁচটি মন্দির ও ৮ মার্চ নগরের আমাশু কুকরুল এলাকায় একটি মন্দির ও মন্দিরভিত্তিক পাঠাগার পুড়িয়ে দেয় জামায়াত-শিবির। পীরগাছার তাম্বুলপুর বাজারে হিন্দুদের পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পুলিশ তিনটি মামলা করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
দিনাজপুর: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ জেলার খানসামা, চিরিরবন্দর ও সদর উপজেলায় সংখ্যালঘুদের ১৪টি বাড়ি, সাতটি দোকান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় সাতটি মামলা করেছে তিন থানার পুলিশ।
বগুড়া: ৩ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত জেলার গাবতলী ও দুপচাঁচিয়া উপজেলার পাঁচটি মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর এবং একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হিন্দুদের দুজনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়েছে। শেরপুর উপজেলায় দুই ব্যক্তির খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।
জয়পুরহাট: পাঁচবিবি ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে হিন্দুদের ২৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আটটি বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং সেগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে এ হামলায় একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। রায় ঘোষণার পরপর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। জেলার তিনটি থানায় পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা বাদী হয়ে ৫২টি মামলা করেছেন। পাঁচবিবি থানায় ৪১টি, সদর থানায় সাতটি ও কালাই থানায় চারটি মামলায় ৪০০ জনের নামে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৫ থেকে ১৬ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
জয়পুরহাট জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে জেলার সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
খুলনা: বিএনপির ডাকা হরতাল চলাকালে ৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী বাজারের হামলা করে ২০টির বেশি দোকান ভাঙচুর করা হয়। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিরোধ করলে হামলাকারীরা বাজারের পাশে রজকপাড়ায় (ধোপা) ঢুকে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা নারীদের আটকে রেখে কয়েকটি বাড়ি ও একটি মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
১৮ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে একদল দুর্বৃত্ত ককটেল ফাটিয়ে ও লাঠি, রামদা, ইট নিয়ে খুলনা নগরের দৌলতপুর পাবলা বণিকপাড়ার দুটি হিন্দু মন্দির এবং তাদের অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
পাবলা বণিকপাড়া সর্বজনীন কালীমন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তিলক গোস্বামী বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর আগে কখনো এমন ঘটনা দেখিনি।’ এ ঘটনায় দুটি মামলায় ২৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।
সাতক্ষীরা: জেলা সদর, শ্যামনগর ও দেবহাটা উপজেলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত হিন্দুদের ১৩টি দোকান, একটি বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিংযোগ ও লুটপাট করা হয়।
গত বুধবার সদর উপজেলার শাখরা বাজারে গেলে একজন গ্রাম্যচিকিৎসক বলেন, ৪ মার্চ রাত সাড়ে সাতটার দিকে জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থক তাঁর ক্লিনিকসহ বাজারের কয়েকজন হিন্দু ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
ওই বাজারের একটি দোকানের মালিক জানান, ৪ মার্চ ভোমরার দিক থেকে আসা জামায়াত-শিবিরের কয়েক শ নেতা-কর্মীর মিছিল থেকে তাঁর দোকানের শোকেস ও ফ্রিজ ভাঙচুর করে টাকা, মিষ্টি ও দই লুটপাট করা হয়।
শ্যামনগরের নওয়াবেকি বাজারের একজন ব্যবসায়ী তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও মন্দিরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, লুটপাট করলে কিছু থাকে। কিন্তু পুড়িয়ে দিলে সব শেষ হয়ে যায়। সেই ছাই দিয়েও কোনো কাজ করা যায় না।
সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মনোরঞ্জন মুখার্জি বলেন, দেশে কিছু ঘটলেই সংখ্যালঘু ব্যক্তিরা তার বলি হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বারবার সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি। হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পর সংখ্যালঘু ব্যক্তিরা মামলা করারও সাহস পাচ্ছেন না।
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হত্যার অভিযোগে ৬৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এক হাজার ৯৬ জনের নাম উল্লেখ করে কয়েক হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ২৮ ফেব্রুয়ারি কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের পর কানসাট গঙ্গা আশ্রম, গঙ্গামন্দির ও কালীমন্দিরেও হামলা চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা আশ্রমঘাটের ১৩০ ফুট পাকা সীমানাপ্রাচীরসহ দুটি গেট, গঙ্গামন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং কালীমন্দিরের প্রাচীর ভেঙে ফেলে।
৩ মার্চ রাতে দুর্বৃত্তরা শিবগঞ্জ পৌর এলাকার আলীডাঙ্গা গ্রামের দুর্গামন্দিরের বাঁশ-কাঠ-খড়ের দুর্গা প্রতিমার কাঠামো পুড়িয়ে দেয়। মন্দির থেকে সরস্বতী দেবীর একটি প্রতিমাও চুরি করে নিয়ে যায়।
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও বেলকুচি উপজেলায় পাঁচটি; কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, গাজীপুরের সদর ও শ্রীপুরে তিনটি করে; পটুয়াখালীর বাউফল, লালমনিরহাটের আদিতমারী ও হাতীবান্ধা, লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও রায়পুর, নেত্রকোনার সদর ও পূর্বধলা, কুমিল্লার দাউদকান্দি ও ব্রাহ্মণপাড়া এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং ও সিরাজদিখান উপজেলায় দুটি করে মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বরগুনার বামনা, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ী, গোপালগঞ্জ, পাবনা, বরিশালের গৌরনদী, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, নাটোর, শেরপুর ও নীলফামারীতে। লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নাটোর ও গাইবান্ধায় একটি করে বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চারটি দোকান ও মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তিনটি দোকান এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার এক সংখ্যালঘু ব্যক্তির দেবতাঘরে আগুন দেওয়া হয়।
গত শুক্রবার রাতে মাদারীপুর শহরের কুলপদ্বী এলাকায় মৎস্যজীবী উত্তম কুমার মালোর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বত্তরা।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা]
প্রথম আলো
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা
এসব আক্রমণ কি বন্ধ হবে না?
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে গত মাসের শেষ থেকে যে রাজনৈতিক সহিংসতা দেখা দিয়েছিল তা এখন বন্ধ হয়েছে, কিন্তু সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ বন্ধ হচ্ছে না কেন? অস্থির ও সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর সম্পর্ক কী? কেন তারা আক্রান্ত হচ্ছে? কেন তাদের নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটছে না? বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার, সব রাজনৈতিক দল ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের জন্য এটা যারপরনাই লজ্জা ও গ্লানির বিষয়।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে গাজীপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেছে, কিন্তু চারটি প্রতিমা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চারটি মন্দিরের ১১টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। বুধবার বাগেরহাট জেলায় মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়েছে দ্বিতীয় দফায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার খবর দেশি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দেড় হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মন্দিরে আক্রমণের ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ঘটেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র, সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তিহীন। তাঁরা কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক সুরক্ষাও পাননি। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট দৃঢ় ব্যবস্থা যে এখনো নেওয়া হয়নি, উল্লিখিত সাম্প্রতিক আক্রমণের ঘটনাগুলো থেকে সেটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকার এসব ঘটনায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার চেয়ে বেশি উৎসাহ দেখিয়েছে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচারে। জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে প্রধান প্রতিপক্ষ দল বিএনপিকেও দোষারোপ করেছে। অন্যদিকে, বিএনপি উল্টো দোষারোপ করেছে সরকারি দলকে। সব মিলিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষগুলোর নাজুকতাকে পুঁজি করে যে রাজনীতি চলেছে, তা এককথায় ন্যক্কারজনক।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন মোটামুটি শান্ত, অন্তত সেই সহিংস পরিস্থিতির আপাত-অবসান ঘটেছে, যা সব মানুষের জীবনকে নিরাপত্তাহীন ও শঙ্কাময় করে তুলেছিল। এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মন্দিরে আক্রমণ চালিয়ে আগুন লাগানো ও প্রতিমা ভাঙচুর করার ঘটনাগুলো ঘটছে রাতের অন্ধকারে। সংবাদমাধ্যমে আক্রমণকারীদের বলা হচ্ছে ‘দুর্বৃত্ত’। আক্রান্ত জনগোষ্ঠী দুর্বৃত্তদের সম্পর্কে পুলিশকে বিশেষ কিছু জানাচ্ছে না বা জানাতে পারছে না। স্বভাবতই তাদের মধ্যে ভীতি-শঙ্কা কাজ করছে। এ রকম পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠোর হাতে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া প্রথম কর্তব্য। এ দায়িত্ব সরকারের, এটা পালন করতে হবে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থের বিবেচনা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে, পুলিশের দুর্নীতির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে। আর প্রয়োজন সামাজিক শক্তি-সমাবেশ; আক্রান্ত সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষকে, সাম্প্রদায়িক আক্রমণের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে প্রবল ও ব্যাপক সামাজিক প্রতিরোধ।
সম্পাদকীয় | তারিখ: ২৪-০৩-২০১৩ প্রথম আলো
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে গত মাসের শেষ থেকে যে রাজনৈতিক সহিংসতা দেখা দিয়েছিল তা এখন বন্ধ হয়েছে, কিন্তু সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ বন্ধ হচ্ছে না কেন? অস্থির ও সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর সম্পর্ক কী? কেন তারা আক্রান্ত হচ্ছে? কেন তাদের নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটছে না? বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার, সব রাজনৈতিক দল ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের জন্য এটা যারপরনাই লজ্জা ও গ্লানির বিষয়।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে গাজীপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেছে, কিন্তু চারটি প্রতিমা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চারটি মন্দিরের ১১টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। বুধবার বাগেরহাট জেলায় মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়েছে দ্বিতীয় দফায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার খবর দেশি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দেড় হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মন্দিরে আক্রমণের ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ঘটেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র, সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তিহীন। তাঁরা কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক সুরক্ষাও পাননি। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট দৃঢ় ব্যবস্থা যে এখনো নেওয়া হয়নি, উল্লিখিত সাম্প্রতিক আক্রমণের ঘটনাগুলো থেকে সেটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকার এসব ঘটনায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার চেয়ে বেশি উৎসাহ দেখিয়েছে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচারে। জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে প্রধান প্রতিপক্ষ দল বিএনপিকেও দোষারোপ করেছে। অন্যদিকে, বিএনপি উল্টো দোষারোপ করেছে সরকারি দলকে। সব মিলিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষগুলোর নাজুকতাকে পুঁজি করে যে রাজনীতি চলেছে, তা এককথায় ন্যক্কারজনক।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন মোটামুটি শান্ত, অন্তত সেই সহিংস পরিস্থিতির আপাত-অবসান ঘটেছে, যা সব মানুষের জীবনকে নিরাপত্তাহীন ও শঙ্কাময় করে তুলেছিল। এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মন্দিরে আক্রমণ চালিয়ে আগুন লাগানো ও প্রতিমা ভাঙচুর করার ঘটনাগুলো ঘটছে রাতের অন্ধকারে। সংবাদমাধ্যমে আক্রমণকারীদের বলা হচ্ছে ‘দুর্বৃত্ত’। আক্রান্ত জনগোষ্ঠী দুর্বৃত্তদের সম্পর্কে পুলিশকে বিশেষ কিছু জানাচ্ছে না বা জানাতে পারছে না। স্বভাবতই তাদের মধ্যে ভীতি-শঙ্কা কাজ করছে। এ রকম পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠোর হাতে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া প্রথম কর্তব্য। এ দায়িত্ব সরকারের, এটা পালন করতে হবে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থের বিবেচনা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে, পুলিশের দুর্নীতির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে। আর প্রয়োজন সামাজিক শক্তি-সমাবেশ; আক্রান্ত সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষকে, সাম্প্রদায়িক আক্রমণের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে প্রবল ও ব্যাপক সামাজিক প্রতিরোধ।
সম্পাদকীয় | তারিখ: ২৪-০৩-২০১৩ প্রথম আলো
মাদারীপুরে সংখ্যালঘুর বাড়িতে আগুন, চার লাখ টাকার মাল পুড়ে ছাই
নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর, ২৩ মার্চ ॥ মাদারীপুর শহরের কুলপদ্বী এলাকায় একটি সংখ্যালঘুর বাড়িতে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এতে ঘরের মধ্যে থাকা মাছ ধরার জাল ও মাছের খাবারসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদারীপুর শহরের কুলপদ্বী এলাকার মৎস্যজীবী উত্তম কুমার মালো রাত ২টার দিকে মাদারীপুর লেকে মাছ ধরার জন্য বের হয়। গৃহকর্তা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কিছু সময় পর পরই একদল দুর্বৃত্ত ঘরের টিনের চালায় এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ছিটিয়ে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আগুন দেখে গৃহকর্ত্রী চায়না রানী মালো সঙ্গে সঙ্গে টের পেয়ে চিৎকার করলে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত উত্তম কুমার মালো জানান, মাছ ধরার বড় কয়েকটি জাল, ২ টন মাছের খাবার ও কাঠপাটসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বাড়িতে নির্মাণ কাজের একটি বৈদ্যুতিক পানির পাম্পের সংযোগ থাকায় দ্রুত পানি দিয়ে আশপাশের অন্য ঘরগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একদল দুর্বৃত্ত এই পরিবারটিকে হয়রানি ও ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা গত রাতে ঘরে আগুন দিয়েছে। শীঘ্রই দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
দৈনিক জনকণ্ঠ
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদারীপুর শহরের কুলপদ্বী এলাকার মৎস্যজীবী উত্তম কুমার মালো রাত ২টার দিকে মাদারীপুর লেকে মাছ ধরার জন্য বের হয়। গৃহকর্তা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কিছু সময় পর পরই একদল দুর্বৃত্ত ঘরের টিনের চালায় এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ছিটিয়ে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আগুন দেখে গৃহকর্ত্রী চায়না রানী মালো সঙ্গে সঙ্গে টের পেয়ে চিৎকার করলে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত উত্তম কুমার মালো জানান, মাছ ধরার বড় কয়েকটি জাল, ২ টন মাছের খাবার ও কাঠপাটসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বাড়িতে নির্মাণ কাজের একটি বৈদ্যুতিক পানির পাম্পের সংযোগ থাকায় দ্রুত পানি দিয়ে আশপাশের অন্য ঘরগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একদল দুর্বৃত্ত এই পরিবারটিকে হয়রানি ও ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা গত রাতে ঘরে আগুন দিয়েছে। শীঘ্রই দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
দৈনিক জনকণ্ঠ
গুমের ৬ দিন পর সন্তোষের মাটিচাপা লাশ উদ্ধার
ঘাতক বাবুল গ্রেফতার
নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর, ২৩ মার্চ ॥ লক্ষ্মীপুরে সন্তোষ চন্দ্র বর্মনকে (৩১) হত্যা করার ৬ দিন পর শনিবার সন্ধ্যায় তার মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিজের স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার জেরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এই যুবককে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেয় দুর্বৃত্তরা। লাশ গুম করার ছয়দিন পর শনিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ওসি লিটন দেওয়ানের উপস্থিতিতে সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর স্থানীয় আলী আজম মাস্টার খামার বাড়ীর একটি গর্ত খুড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার কাছে পাওয়া আইডি কার্ডে বাড়ি-গাইবান্ধা জেলার বাজারপাড়ার বেকাটরি গ্রামের কথা উল্লেখ রয়েছে। সন্তোষ চন্দ্র বর্মন ও তার স্ত্রী সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর স্থানীয় দালাল বাজার ইউপি’ রাধা গোবিন্দের আখড়ার সভাপতি রাধে শ্যাম বাবুর বাসায় কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করত।
নিহতের স্ত্রী ও চার বছর বয়সী কন্যা সন্তানের জননী পলি রানী পঞ্চমী জানান, গত ১৮ মার্চ সোমবার এশার নামাজের আজানের পর একই এলাকার বাবুল (৪০) তার স্বামী সন্তোষকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর আর সে বাসায় ফেরেনি। এর আগে বাবুল নিহতের স্ত্রী পলিকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত এবং একা ধিকবার তাকে কু-প্রস্তাবও দেয়। সন্তোষ চন্দ্র এ নিয়ে ঘটনার দিন আসামি বাবুলকে বকাঝকা করে। নিখোজ হওয়ার পর বাবুলের কাছে সন্তোষের খবর জানতে চাইলে বাবুল তাকে জানিয়ে দেয় যে সন্তোষ আর ফিরে আসবে না। এর পরও প্রায় প্রতিনিয়ত পলিকে উত্ত্যক্ত করে যাচ্ছিল বাবুল। ঘটনা আঁচ করতে পেরে ২১মার্চ পলি রানী পঞ্চমী বাদী হয়ে বাবুলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। ওইদিন রাতেই পুলিশ বাবুলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শনিবার সন্ধ্যায় গর্ত খুড়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য রাতে লাশটি সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ শাহজাহান, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সন্তোষ বর্মনকে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের সুরতহাল অনুযায়ী নিহতের মাথার পেছনে বামদিকে, বাম ও ডান হাতের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের কাটা গভীর গর্ত রয়েছে। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য লাশ গুম করা হয়েছিল। আর সেখানে খুনীদের আস্তানা ছিল। ৬দিন অতিবাহিত হওয়ায় লাশে পচন ধরেছে। জীবন সঙ্গীকে হারিয়ে স্ত্রী পলির আর্তনাদে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। স্বামীর হত্যার বদলে তিনি খুনীদের ফাঁসির দাবি করেছেন।
জনকণ্ঠ
নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর, ২৩ মার্চ ॥ লক্ষ্মীপুরে সন্তোষ চন্দ্র বর্মনকে (৩১) হত্যা করার ৬ দিন পর শনিবার সন্ধ্যায় তার মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিজের স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার জেরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এই যুবককে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেয় দুর্বৃত্তরা। লাশ গুম করার ছয়দিন পর শনিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ওসি লিটন দেওয়ানের উপস্থিতিতে সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর স্থানীয় আলী আজম মাস্টার খামার বাড়ীর একটি গর্ত খুড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার কাছে পাওয়া আইডি কার্ডে বাড়ি-গাইবান্ধা জেলার বাজারপাড়ার বেকাটরি গ্রামের কথা উল্লেখ রয়েছে। সন্তোষ চন্দ্র বর্মন ও তার স্ত্রী সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর স্থানীয় দালাল বাজার ইউপি’ রাধা গোবিন্দের আখড়ার সভাপতি রাধে শ্যাম বাবুর বাসায় কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করত।
নিহতের স্ত্রী ও চার বছর বয়সী কন্যা সন্তানের জননী পলি রানী পঞ্চমী জানান, গত ১৮ মার্চ সোমবার এশার নামাজের আজানের পর একই এলাকার বাবুল (৪০) তার স্বামী সন্তোষকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর আর সে বাসায় ফেরেনি। এর আগে বাবুল নিহতের স্ত্রী পলিকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত এবং একা ধিকবার তাকে কু-প্রস্তাবও দেয়। সন্তোষ চন্দ্র এ নিয়ে ঘটনার দিন আসামি বাবুলকে বকাঝকা করে। নিখোজ হওয়ার পর বাবুলের কাছে সন্তোষের খবর জানতে চাইলে বাবুল তাকে জানিয়ে দেয় যে সন্তোষ আর ফিরে আসবে না। এর পরও প্রায় প্রতিনিয়ত পলিকে উত্ত্যক্ত করে যাচ্ছিল বাবুল। ঘটনা আঁচ করতে পেরে ২১মার্চ পলি রানী পঞ্চমী বাদী হয়ে বাবুলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। ওইদিন রাতেই পুলিশ বাবুলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শনিবার সন্ধ্যায় গর্ত খুড়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য রাতে লাশটি সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ শাহজাহান, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সন্তোষ বর্মনকে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের সুরতহাল অনুযায়ী নিহতের মাথার পেছনে বামদিকে, বাম ও ডান হাতের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের কাটা গভীর গর্ত রয়েছে। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য লাশ গুম করা হয়েছিল। আর সেখানে খুনীদের আস্তানা ছিল। ৬দিন অতিবাহিত হওয়ায় লাশে পচন ধরেছে। জীবন সঙ্গীকে হারিয়ে স্ত্রী পলির আর্তনাদে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। স্বামীর হত্যার বদলে তিনি খুনীদের ফাঁসির দাবি করেছেন।
জনকণ্ঠ
গাজীপুরে কেশুরিতা মধ্যপাড়া শ্রীশ্রী লক্ষীমাতা মন্দিরে আগুন
![]() |
| গাজীপুরে শ্রীশ্রী লক্ষীমাতা মন্দিরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা |
গাজীপুর সদর উপজেলায় একটি মন্দিরে আগুন দিয়েছে ‘দুর্বৃত্তরা’।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার কেশুরিতা মধ্যপাড়া শ্রীশ্রী লক্ষীমাতা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, রাত ৩টার দিকে মন্দিরে আগুন জ্বলতে দেখে এলাকাবাসী দ্রুত তা নিভিয়ে ফেলে।
আগুনে মন্দিরের চারটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানালেও কারা এ আগুন দিয়েছে- সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি শ্যামল চন্দ্র।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া রহমান সকালে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শন করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর জামায়াত-শিবির কর্মীরা সারাদেশে টানা তাণ্ডব শুরু করে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির-বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
নীলফামারীতে প্রতিমা ভাংচুর
নীলফামারী, প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
নীলফামারী সদরে একটি কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার রাতের কোনো এক সময় কে বা কারা সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ কালী মন্দিরের তিনটি প্রতিমা ভাংচুর করে।
নীলফামারী সদর থানার ওসি আবু আক্কাস আহমেদ প্রতিমা ভাংচুরের সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষে মন্দির চত্বরে প্রতিবাদ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুর রহমান রিন্টু ও টুপামারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মছিরত আলী শাহ ফকির বক্তব্য রাখেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
নীলফামারী সদরে একটি কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার রাতের কোনো এক সময় কে বা কারা সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ কালী মন্দিরের তিনটি প্রতিমা ভাংচুর করে।
নীলফামারী সদর থানার ওসি আবু আক্কাস আহমেদ প্রতিমা ভাংচুরের সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষে মন্দির চত্বরে প্রতিবাদ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুর রহমান রিন্টু ও টুপামারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মছিরত আলী শাহ ফকির বক্তব্য রাখেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বগুড়া ও বাগেরহাটে মন্দিরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ
প্রথম আলো ডেস্ক |
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের চারটি মন্দিরে ১১টি প্রতিমা গত মঙ্গলবার রাতে ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী পীরগাছা-গাবতলী সড়ক অবরোধ করে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। এদিকে, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে গতকাল ভোরে অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
আমাদের আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর:
বগুড়া: গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সাবেকপাড়া ও বামুনিয়া গ্রামের তিনটি মন্দিরের নয়টি প্রতিমা অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর করে। ভাঙা অবস্থায় তিনটি প্রতিমা পীরগাছা-গাবতলী সড়কে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের দেবনাথপাড়া গ্রামের একটি মন্দিরের দুটি প্রতিমা একই রাতে ভাঙচুর করা হয়। মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর উদ্যোগে পীরগাছা বাজারের অদূরে সাবেকপাড়ায় গাছ ফেলে গতকাল সকাল থেকে অবরোধ ও বিক্ষোভ করা হয়। প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে ওই অবরোধ দুপুরে তুলে নেওয়া হয়।
গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহমেদ হাশমী বলেন, পীরগাছা-গাবতলী সড়কে মঙ্গলবার রাত তিনটা পর্যন্ত পুলিশ টহল দিয়েছে। এরপর দুর্বৃত্তরা মন্দিরগুলোতে হামলা করে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক সারোয়ার মাহমুদ, পুলিশ সুপার (এসপি) মোজামেঞ্চল হক, গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা সুলতানা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি এনসি বাড়ৈ প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গাবতলীর কাগইল বাজারের একটি মন্দিরে গত সোমবার হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। এ ছাড়া উপজেলার আরও দুটি স্থানে দুই সপ্তাহ আগে মন্দির ভাঙচুর করা হয়।
বাগেরহাট: কচুয়া উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন দুর্গামন্দিরের দুটি পৃথক মণ্ডপে গতকাল ভোরে বেশ কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোবিন্দ গোপাল বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা দুর্গামন্দির ও সংলগ্ন কালীমন্দিরে হামলা চালিয়ে একাধিক প্রতিমা ভাঙচুর শেষে বেড়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আশপাশের লোকজন পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাতে সমর্থ হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের সিংজোড় গ্রামের গোপালপুর সর্বজনীন মন্দিরের প্রতিমা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর ও বনগ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই নেতার বাড়িতে এবং রামচন্দ্রপুরের ডুমুরিয়া গ্রামের একটি মন্দিরে ১ মার্চ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
বেগমগঞ্জের তদন্ত কর্মকর্তা বদলি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিলকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় বদলি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব এখন জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রশীদ প্রথম আলোকে গতকাল বলেন, থানার পুলিশকে দৈনন্দিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই এই মামলাটির বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনায় ডিবি পুলিশকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।
রাজগঞ্জ বাজার এবং টঙ্গীরপাড় ও আলাদীনগর গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘর-মন্দিরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। এসব ঘটনায় জামায়াতের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা জড়িত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ওই ঘটনায় ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ ৩৮ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রথম আলো
![]() |
| গত মঙ্গলবার রাতে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের মানুষ গতকাল সকালে তাত্ক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। ছবি: প্রথম আলো |
আমাদের আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর:
বগুড়া: গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সাবেকপাড়া ও বামুনিয়া গ্রামের তিনটি মন্দিরের নয়টি প্রতিমা অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর করে। ভাঙা অবস্থায় তিনটি প্রতিমা পীরগাছা-গাবতলী সড়কে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের দেবনাথপাড়া গ্রামের একটি মন্দিরের দুটি প্রতিমা একই রাতে ভাঙচুর করা হয়। মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর উদ্যোগে পীরগাছা বাজারের অদূরে সাবেকপাড়ায় গাছ ফেলে গতকাল সকাল থেকে অবরোধ ও বিক্ষোভ করা হয়। প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে ওই অবরোধ দুপুরে তুলে নেওয়া হয়।
গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহমেদ হাশমী বলেন, পীরগাছা-গাবতলী সড়কে মঙ্গলবার রাত তিনটা পর্যন্ত পুলিশ টহল দিয়েছে। এরপর দুর্বৃত্তরা মন্দিরগুলোতে হামলা করে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক সারোয়ার মাহমুদ, পুলিশ সুপার (এসপি) মোজামেঞ্চল হক, গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা সুলতানা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি এনসি বাড়ৈ প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গাবতলীর কাগইল বাজারের একটি মন্দিরে গত সোমবার হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। এ ছাড়া উপজেলার আরও দুটি স্থানে দুই সপ্তাহ আগে মন্দির ভাঙচুর করা হয়।
বাগেরহাট: কচুয়া উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন দুর্গামন্দিরের দুটি পৃথক মণ্ডপে গতকাল ভোরে বেশ কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোবিন্দ গোপাল বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা দুর্গামন্দির ও সংলগ্ন কালীমন্দিরে হামলা চালিয়ে একাধিক প্রতিমা ভাঙচুর শেষে বেড়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আশপাশের লোকজন পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাতে সমর্থ হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের সিংজোড় গ্রামের গোপালপুর সর্বজনীন মন্দিরের প্রতিমা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর ও বনগ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই নেতার বাড়িতে এবং রামচন্দ্রপুরের ডুমুরিয়া গ্রামের একটি মন্দিরে ১ মার্চ আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
বেগমগঞ্জের তদন্ত কর্মকর্তা বদলি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিলকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় বদলি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব এখন জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রশীদ প্রথম আলোকে গতকাল বলেন, থানার পুলিশকে দৈনন্দিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই এই মামলাটির বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনায় ডিবি পুলিশকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।
রাজগঞ্জ বাজার এবং টঙ্গীরপাড় ও আলাদীনগর গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘর-মন্দিরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। এসব ঘটনায় জামায়াতের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা জড়িত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ওই ঘটনায় ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ ৩৮ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রথম আলো
বগুড়ায় ৪ মন্দিরে হামলা ভাংচুর, ৯ প্রতিমা ভেঙ্গে রাস্তায় নিক্ষেপ
বাগেরহাটে অগ্নিসংযোগ, ঝালকাঠিতে পাঁচ দুর্বৃত্ত আটক
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আবার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ে হামলা ও ভাংচুর শুরু হয়েছে। চলতি মাসের গোড়ার দিকের উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই বুধবার ফের বগুড়া, বাগেরহাট ও ঝালকাঠিতে পৃথক ঘটনায় কয়েকটি মন্দিরে চড়াও হয় দুর্বৃত্তরা। হামলাকারীরা মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলে এবং বাইরে নিক্ষেপ করে। বাগেরহাটে মন্দিরে হামলার পর আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। অনুরূপ ঘটনা ঘটে ঝালকাঠিতে। সেখান থেকে ৫ দুর্বৃত্তকে আটক করা হয়। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার।
বগুড়া ॥ বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চারটি গ্রামে বুধবার ভোরে সশস্ত্র দুর্বত্তরা ৪টি মন্দিরে একযোগে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে সব প্রতিমা ভেঙ্গে টুকরো করে রাস্তায় ফেলে দেয়। এই ঘটনায় এলাকাবাসী বিস্মিত। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছে। গাবতলী উপজেলা সদর থেকে কিছুটা দূরে সোনারায় ও রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম সাবেকপাড়া, কর্মকারপাড়া, বামুনিয়া ও কামারচন্দ্রদেবনাথ পাড়ার অবস্থান প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে। এই গ্রামগুলোতে বহু বছর ধরে তিনটি সার্বজনীন ও একটি সরস্বতী মন্দির আছে। ইটের গাঁথুনির টিনের চালার পুরনো মন্দিরগুলোতে নিয়মিত পুজো অর্চনাসহ শারদীয় দুর্গোৎসব হয়।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার রাতের মধ্যভাগের পরও মন্দিরগুলো অক্ষত ছিল। পুলিশের টহল দল এই পথ দিয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে লোকজন দেখে এলাকার সব মন্দিরে পরিকল্পিতভাবে একযোগে হামলা চালান হয়েছে। মন্দিরের ভেতরে ভাংচুরের পর রাধাকৃষ্ণ কালী শিব, সরস্বতীসহ ৯টি প্রতিমা ভেঙ্গে টুকরো করে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে সকালে তারা পিরগাছা- আটাপাড়া সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে অবিলম্বে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার ওপর আঘাত উল্লেখ করে দুর্বত্তদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
বাগেরহাটে ফের অগ্নিসংযোগ, ভাঙ্গচুর ॥ বাগেরহাটের কচুয়ার গোপালপুরে বুধবার ভোরে দক্ষিণ সার্বজনীন দুর্গা মন্দির-এর ৫টি প্রতিমা ভাঙ্গচুর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার উত্তর গোপালপুরের দক্ষিণ সার্বজনীন দুর্গা মন্দির এ ঘটনা ঘটে। মন্দির কমিটির সভাপতি পুলিন বিহারী পাইক ও সম্পাদক শুভাষীস সিকদার জানান, দুর্বৃত্তরা পূজামণ্ডপের কালী, গণেষ, কার্তিক, মহাদেব ও মহিষাসূর প্রতিমা ভাঙ্গচুর করে। পরে তারা পূজাম-পে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঝালকাঠিতে ৫ জন আটক ॥ ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া বাজার সংলগ্ন সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ব্যপারে মন্দির সেবাইত হরিপদ দাস আমুয়া বাজারের ৪ নৈশপ্রহরীসহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাঁঠালিয়া পুলিশ আটক করেছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।
জনকণ্ঠ
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আবার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ে হামলা ও ভাংচুর শুরু হয়েছে। চলতি মাসের গোড়ার দিকের উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই বুধবার ফের বগুড়া, বাগেরহাট ও ঝালকাঠিতে পৃথক ঘটনায় কয়েকটি মন্দিরে চড়াও হয় দুর্বৃত্তরা। হামলাকারীরা মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলে এবং বাইরে নিক্ষেপ করে। বাগেরহাটে মন্দিরে হামলার পর আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। অনুরূপ ঘটনা ঘটে ঝালকাঠিতে। সেখান থেকে ৫ দুর্বৃত্তকে আটক করা হয়। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার।
বগুড়া ॥ বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চারটি গ্রামে বুধবার ভোরে সশস্ত্র দুর্বত্তরা ৪টি মন্দিরে একযোগে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে সব প্রতিমা ভেঙ্গে টুকরো করে রাস্তায় ফেলে দেয়। এই ঘটনায় এলাকাবাসী বিস্মিত। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছে। গাবতলী উপজেলা সদর থেকে কিছুটা দূরে সোনারায় ও রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম সাবেকপাড়া, কর্মকারপাড়া, বামুনিয়া ও কামারচন্দ্রদেবনাথ পাড়ার অবস্থান প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে। এই গ্রামগুলোতে বহু বছর ধরে তিনটি সার্বজনীন ও একটি সরস্বতী মন্দির আছে। ইটের গাঁথুনির টিনের চালার পুরনো মন্দিরগুলোতে নিয়মিত পুজো অর্চনাসহ শারদীয় দুর্গোৎসব হয়।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার রাতের মধ্যভাগের পরও মন্দিরগুলো অক্ষত ছিল। পুলিশের টহল দল এই পথ দিয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে লোকজন দেখে এলাকার সব মন্দিরে পরিকল্পিতভাবে একযোগে হামলা চালান হয়েছে। মন্দিরের ভেতরে ভাংচুরের পর রাধাকৃষ্ণ কালী শিব, সরস্বতীসহ ৯টি প্রতিমা ভেঙ্গে টুকরো করে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে সকালে তারা পিরগাছা- আটাপাড়া সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে অবিলম্বে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার ওপর আঘাত উল্লেখ করে দুর্বত্তদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
বাগেরহাটে ফের অগ্নিসংযোগ, ভাঙ্গচুর ॥ বাগেরহাটের কচুয়ার গোপালপুরে বুধবার ভোরে দক্ষিণ সার্বজনীন দুর্গা মন্দির-এর ৫টি প্রতিমা ভাঙ্গচুর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার উত্তর গোপালপুরের দক্ষিণ সার্বজনীন দুর্গা মন্দির এ ঘটনা ঘটে। মন্দির কমিটির সভাপতি পুলিন বিহারী পাইক ও সম্পাদক শুভাষীস সিকদার জানান, দুর্বৃত্তরা পূজামণ্ডপের কালী, গণেষ, কার্তিক, মহাদেব ও মহিষাসূর প্রতিমা ভাঙ্গচুর করে। পরে তারা পূজাম-পে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঝালকাঠিতে ৫ জন আটক ॥ ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া বাজার সংলগ্ন সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ব্যপারে মন্দির সেবাইত হরিপদ দাস আমুয়া বাজারের ৪ নৈশপ্রহরীসহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাঁঠালিয়া পুলিশ আটক করেছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।
জনকণ্ঠ
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জে ধ্বংসপ্রাপ্ত সরস্বতী দেবীর প্রতিমা
সংসদে হিন্দু প্রতিনিধিত্বের দাবি
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন,“দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। সব সরকারই নির্বাচনের পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে আর খবর রাখেন না।”
তিনি বলেন, “স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি না হওয়ায়, জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন প্রতিনিধিত্ব না থাকার কারণে এবং রাজনৈতিক কারণেই হিন্দু সম্প্রদায় বারবার আক্রান্ত হচ্ছে।”
আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু নির্যাতন নিরোধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ৬০ টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থারও দাবি জানায় হিন্দু মহাজোট।
প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রতি বিষোদগার করে তিনি বলেন, বিগত কয়েকদিনে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মঠ-
মন্দির, প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়িঘর ও ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগকারীদেরকে সরকার চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে ব্যার্থ হয়েছে। দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল একে অন্যের ওপর দোষারোপ করে চলেছে। এর ফলে অপরাধীরা অপরাধ করতে আরো উৎসাহিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলার রায়ের পরপরই দেশে ব্যাপকভাবে হিন্দু বাড়িঘর মঠ-মন্দিরে হামলা হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য মামলাগুলোর রায় ঘোষণার পর পরই হিন্দুদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্যাতনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকারকে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।
দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত থাকলেও হিন্দু নির্যাতন নিয়ে সংসদে কোন আলোচনা নেই। এমনকি এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলীয় নেত্রী কোন কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একইভাবে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করার দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৫দিনের মধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করার দাবি জানানো হয়।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দিনবন্ধু রায়, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সভাপতি মনোজ কুমার মন্ডল, মহাজোটের যুগ্ম মহাসচিব অরুণ মজুমদার, হিন্দু যুব মহাজোট সভাপতি রিপন দে, হিন্দু ছাত্র মহাজোট সাবেক সভাপতি প্রভাষক বিপুল বিশ্বাস প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৬১০ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০১৩
এমএন/সম্পাদনা: জনি সাহা, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন,“দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। সব সরকারই নির্বাচনের পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে আর খবর রাখেন না।”
তিনি বলেন, “স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি না হওয়ায়, জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন প্রতিনিধিত্ব না থাকার কারণে এবং রাজনৈতিক কারণেই হিন্দু সম্প্রদায় বারবার আক্রান্ত হচ্ছে।”
আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু নির্যাতন নিরোধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ৬০ টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থারও দাবি জানায় হিন্দু মহাজোট।
প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রতি বিষোদগার করে তিনি বলেন, বিগত কয়েকদিনে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মঠ-
মন্দির, প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়িঘর ও ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগকারীদেরকে সরকার চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে ব্যার্থ হয়েছে। দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল একে অন্যের ওপর দোষারোপ করে চলেছে। এর ফলে অপরাধীরা অপরাধ করতে আরো উৎসাহিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলার রায়ের পরপরই দেশে ব্যাপকভাবে হিন্দু বাড়িঘর মঠ-মন্দিরে হামলা হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য মামলাগুলোর রায় ঘোষণার পর পরই হিন্দুদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্যাতনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকারকে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।
দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত থাকলেও হিন্দু নির্যাতন নিয়ে সংসদে কোন আলোচনা নেই। এমনকি এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলীয় নেত্রী কোন কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একইভাবে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করার দাবিও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৫দিনের মধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করার দাবি জানানো হয়।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দিনবন্ধু রায়, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সভাপতি মনোজ কুমার মন্ডল, মহাজোটের যুগ্ম মহাসচিব অরুণ মজুমদার, হিন্দু যুব মহাজোট সভাপতি রিপন দে, হিন্দু ছাত্র মহাজোট সাবেক সভাপতি প্রভাষক বিপুল বিশ্বাস প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৬১০ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০১৩
এমএন/সম্পাদনা: জনি সাহা, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
খুলনায় মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা
খুলনা প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
মহানগরীর দৌলতপুর পাবলা সার্বজনীন কালী মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলার পর আরো পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাহিদুল (২৩), লিমন (১৮), হালিম (২২), শাহাবুদ্দিন (৪০) ও শামীম (২৫)।
এর আগে ঘটনার রাতেই হুমায়ূন কবীর (২৬) ও আরমান (১৮) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার পর এ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান দৌলতপুর থানার ওসি মো: আখতার হোসেন।
দৌলতপুরের পাবলা সার্বজনীন কালী মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সোমবার রাতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তিলক গোস্বামী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
মহানগরীর দৌলতপুর পাবলা সার্বজনীন কালী মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলার পর আরো পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাহিদুল (২৩), লিমন (১৮), হালিম (২২), শাহাবুদ্দিন (৪০) ও শামীম (২৫)।
এর আগে ঘটনার রাতেই হুমায়ূন কবীর (২৬) ও আরমান (১৮) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার পর এ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান দৌলতপুর থানার ওসি মো: আখতার হোসেন।
দৌলতপুরের পাবলা সার্বজনীন কালী মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সোমবার রাতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তিলক গোস্বামী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
পাঁচ স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর
প্রথম আলো ডেস্ক | তারিখ: ২০-০৩-২০১৩
দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার রাতে খুলনার দৌলতপুর, রংপুরের পীরগাছা, শেরপুর, নেত্রকোনা ও গাজীপুরে সংখ্যালঘু মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এসব স্থানে অন্তত ১৫টি বাড়িঘর, চারটি মন্দির হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। প্রথম আলোর আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
খুলনা: এলাকাবাসী জানান, শতাধিক দুষ্কৃতকারী সোমবার রাতে খুলনার দৌলতপুরের পাবলা বণিকপাড়ায় দুটি মন্দিরে এবং স্থানীয় হিন্দুদের অসংখ্য বাড়িঘরে হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, রামদা, ইটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত এসব যুবক প্রথমে রাত আটটার দিকে পাবলা সর্বজনীন কালীমন্দিরের সামনে ককটেল ফাটিয়ে মন্দিরের ফটক, টাইলস ও কাচ ভাঙচুর করে। পরে তারা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বণিকপাড়ার হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায়। পরে তারা পাশের গাছতলা মন্দিরের সামনে গিয়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
হামলায় স্থানীয় বাসিন্দা আশুতোষ সাধু, সাধন সাধু, মিহির দত্ত, সুবিমল সাহাসহ অন্তত ১২ জনের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন স্মৃতি রাণী দত্ত (৪০) নামের এক নারী। ঘটনার পর রাতেই খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
রংপুর: এলাকাবাসী জানান, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছোট ঝিনিয়া গ্রামের সংখ্যালঘু নীলকান্ত রায়ের বসতবাড়িতে সোমবার রাত দুইটার দিকে কতিপয় দুর্বৃত্ত আগুন দেয়। আগুনে দুটি টিনের ঘর, আসবাব, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ভস্মীভূত হয়। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে একটি গাভি ও ২০-২৫টি হাঁস-মুরগি মারা গেছে।
শেরপুর (বগুড়া): বগুড়ার শেরপুরে ভীমজানি পশ্চিম হিন্দুপাড়া গ্রামের ঐশিনী রায় ও রসরঞ্জন রায়ের বাড়িতে দুটি খড়ের গাদায় সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুর্বৃত্তরা যাতে আবার হানা দিয়ে ক্ষতিসাধন করতে না পারে, সে জন্য রাত থেকেই গ্রামে পাহারা বসিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শেরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা বের করতে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনা সদর উপজেলার কালিয়ারা-গাবরাগাতি ইউনিয়নের বোবাহালা গ্রামের সর্বজনীন হরিমন্দিরে সোমবার সন্ধ্যায় হামলা করে দুর্বৃত্তরা। তারা মন্দিরের পাঁচটি মূর্তি ভাঙচুর করে। পার্শ্ববর্তী দুটি মাদ্রাসার ৮-১০ জন ছাত্র মন্দিরে এ হামলা চালায় বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়।
ঘটনার পর গতকাল মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইউসুফ আলী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া পারভীন এবং জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গাজীপুর: এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা সোমবার মধ্যরাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মার্তা দক্ষিণপাড়া এলাকায় মার্তা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক সুপেন্দ্র চন্দ্র দাসের বাড়িতে অবস্থিত কালীমন্দিরে হামলা করে। এ সময় তারা মূর্তি ভাঙচুর করার পাশাপাশি চারটি মূর্তির মাথা নিয়ে গেছে। গতকাল সকালে বিষয়টি টের পাওয়ার পর পুলিশকে জানানো হয়। শ্রীপুর থানার ওসি আমির হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
প্রথম আলো
![]() |
| গাজীপুরের শ্রীপুরে গতকাল কৃপাময়ী কালীমন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করে চারটি মাথা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা |
খুলনা: এলাকাবাসী জানান, শতাধিক দুষ্কৃতকারী সোমবার রাতে খুলনার দৌলতপুরের পাবলা বণিকপাড়ায় দুটি মন্দিরে এবং স্থানীয় হিন্দুদের অসংখ্য বাড়িঘরে হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, রামদা, ইটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত এসব যুবক প্রথমে রাত আটটার দিকে পাবলা সর্বজনীন কালীমন্দিরের সামনে ককটেল ফাটিয়ে মন্দিরের ফটক, টাইলস ও কাচ ভাঙচুর করে। পরে তারা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বণিকপাড়ার হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায়। পরে তারা পাশের গাছতলা মন্দিরের সামনে গিয়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
হামলায় স্থানীয় বাসিন্দা আশুতোষ সাধু, সাধন সাধু, মিহির দত্ত, সুবিমল সাহাসহ অন্তত ১২ জনের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন স্মৃতি রাণী দত্ত (৪০) নামের এক নারী। ঘটনার পর রাতেই খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
রংপুর: এলাকাবাসী জানান, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছোট ঝিনিয়া গ্রামের সংখ্যালঘু নীলকান্ত রায়ের বসতবাড়িতে সোমবার রাত দুইটার দিকে কতিপয় দুর্বৃত্ত আগুন দেয়। আগুনে দুটি টিনের ঘর, আসবাব, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ভস্মীভূত হয়। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে একটি গাভি ও ২০-২৫টি হাঁস-মুরগি মারা গেছে।
শেরপুর (বগুড়া): বগুড়ার শেরপুরে ভীমজানি পশ্চিম হিন্দুপাড়া গ্রামের ঐশিনী রায় ও রসরঞ্জন রায়ের বাড়িতে দুটি খড়ের গাদায় সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুর্বৃত্তরা যাতে আবার হানা দিয়ে ক্ষতিসাধন করতে না পারে, সে জন্য রাত থেকেই গ্রামে পাহারা বসিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শেরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা বের করতে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনা সদর উপজেলার কালিয়ারা-গাবরাগাতি ইউনিয়নের বোবাহালা গ্রামের সর্বজনীন হরিমন্দিরে সোমবার সন্ধ্যায় হামলা করে দুর্বৃত্তরা। তারা মন্দিরের পাঁচটি মূর্তি ভাঙচুর করে। পার্শ্ববর্তী দুটি মাদ্রাসার ৮-১০ জন ছাত্র মন্দিরে এ হামলা চালায় বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়।
ঘটনার পর গতকাল মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইউসুফ আলী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া পারভীন এবং জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গাজীপুর: এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা সোমবার মধ্যরাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মার্তা দক্ষিণপাড়া এলাকায় মার্তা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক সুপেন্দ্র চন্দ্র দাসের বাড়িতে অবস্থিত কালীমন্দিরে হামলা করে। এ সময় তারা মূর্তি ভাঙচুর করার পাশাপাশি চারটি মূর্তির মাথা নিয়ে গেছে। গতকাল সকালে বিষয়টি টের পাওয়ার পর পুলিশকে জানানো হয়। শ্রীপুর থানার ওসি আমির হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
প্রথম আলো
বাগেরহাটে কালী প্রতিমা ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ
বাগেরহাট প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি সার্বজনীন মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করে তাতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা
বুধবার ভোরে উত্তর গোপালপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম ও থানার ওসি গোবিন্দ গোপাল বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তবে কারা এই হামলা চালিযেছে তা মন্দির কমিটি কিংবা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের সিংজোড় গ্রামের গোপালপুর সার্বজনীণ মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করা হয়। পরদিন (১ মার্চ) একই উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই নেতার বাড়িতে এবং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে একটি পূজা মন্দিরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
কচুয়া থানার ওসি গোবিন্দ গোপাল বিশ্বাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুর্বৃত্তরা কালী মন্দিরের দেবী ও মহিষাসুরের মাথা ভেঙ্গে ফেলে এবং মহিষাসুরের মাথা পুড়িয়ে দেয়। কার্তিক প্রতিমাটি উল্টে ফেলে এবং গণেশের গলা ভেঙ্গে দেয়।
এছাড়া তারা মন্দিরের বেড়ায়ও আগুন দেয়। পরে আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে আগুন নেভায়।
উত্তর গোপালপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি পুলিন বিহারী পাইক বলেন, ভোর ৪টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত মন্দিরে হামলা চালায়।
পাশের বাড়ির সুশান্ত পাইক বাইরে এলে আগুন দেখে লোকজনকে ডাকেন। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি সার্বজনীন মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করে তাতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা
বুধবার ভোরে উত্তর গোপালপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম ও থানার ওসি গোবিন্দ গোপাল বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তবে কারা এই হামলা চালিযেছে তা মন্দির কমিটি কিংবা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের সিংজোড় গ্রামের গোপালপুর সার্বজনীণ মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করা হয়। পরদিন (১ মার্চ) একই উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই নেতার বাড়িতে এবং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে একটি পূজা মন্দিরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
কচুয়া থানার ওসি গোবিন্দ গোপাল বিশ্বাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুর্বৃত্তরা কালী মন্দিরের দেবী ও মহিষাসুরের মাথা ভেঙ্গে ফেলে এবং মহিষাসুরের মাথা পুড়িয়ে দেয়। কার্তিক প্রতিমাটি উল্টে ফেলে এবং গণেশের গলা ভেঙ্গে দেয়।
এছাড়া তারা মন্দিরের বেড়ায়ও আগুন দেয়। পরে আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে আগুন নেভায়।
উত্তর গোপালপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি পুলিন বিহারী পাইক বলেন, ভোর ৪টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত মন্দিরে হামলা চালায়।
পাশের বাড়ির সুশান্ত পাইক বাইরে এলে আগুন দেখে লোকজনকে ডাকেন। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বগুড়ার ৪টি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর
বগুড়া প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে ৪টি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
উপজেলা সোনারায় ইউনিয়নের সাবেক পাড়া, কর্মকার পাড়া, বামুনিয়া ও রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের কামারচট্ট গ্রামের মন্দিরের এসব প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানান গাবতলী থানার ওসি আলী আহমেদ হামশী।
বুধবার সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসক সারোয়ার মাহমুদ, জেলা পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পূজা উদযাপন পরিষদ, আওয়ামী লীগ নেতারাসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
রামেশ্বরপুরের কামারচট্ট গ্রামের বাসিন্দা শিশির কর্মকার সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে তার এলাকার মন্দির ভাংচুরের পর লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে হিন্দু পরিবারের সদস্যরা শঙ্কিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিরা সুলতানা জানান, যে মন্দিরগুলো ভাঙ্গা হয়েছে সবগুলোই রাস্তার পাশে। প্রতিটি মন্দিরে শুধু প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরের আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ এইচ আজম খান জানান, আক্রান্ত এলাকার লোকজন খুবই গরিব এবং নিরক্ষর। কে বা কারা মন্দির ভাঙ্গেছে এ বিষয়ে তারা মুখ খুলছেন না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়।
রায়ের পর পরই সারাদেশে জামায়াত-শিবিরে তাণ্ডবে সাত পুলিশসহ ৬৭ জন নিহত হয়। এ সময় বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়।
বগুড়ায় পুলিশের উপর হামলা, আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘরে হামলা, ছাত্রাবাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।
পাশাপাশি শাহবাগ গণজাগরণ আন্দোলনের সংহতি মঞ্চও ভেঙ্গে দেয় জামায়াত ইসলাম ও তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে ৪টি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
উপজেলা সোনারায় ইউনিয়নের সাবেক পাড়া, কর্মকার পাড়া, বামুনিয়া ও রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের কামারচট্ট গ্রামের মন্দিরের এসব প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানান গাবতলী থানার ওসি আলী আহমেদ হামশী।
বুধবার সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসক সারোয়ার মাহমুদ, জেলা পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পূজা উদযাপন পরিষদ, আওয়ামী লীগ নেতারাসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
রামেশ্বরপুরের কামারচট্ট গ্রামের বাসিন্দা শিশির কর্মকার সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে তার এলাকার মন্দির ভাংচুরের পর লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে হিন্দু পরিবারের সদস্যরা শঙ্কিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিরা সুলতানা জানান, যে মন্দিরগুলো ভাঙ্গা হয়েছে সবগুলোই রাস্তার পাশে। প্রতিটি মন্দিরে শুধু প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরের আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ এইচ আজম খান জানান, আক্রান্ত এলাকার লোকজন খুবই গরিব এবং নিরক্ষর। কে বা কারা মন্দির ভাঙ্গেছে এ বিষয়ে তারা মুখ খুলছেন না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়।
রায়ের পর পরই সারাদেশে জামায়াত-শিবিরে তাণ্ডবে সাত পুলিশসহ ৬৭ জন নিহত হয়। এ সময় বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়।
বগুড়ায় পুলিশের উপর হামলা, আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘরে হামলা, ছাত্রাবাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।
পাশাপাশি শাহবাগ গণজাগরণ আন্দোলনের সংহতি মঞ্চও ভেঙ্গে দেয় জামায়াত ইসলাম ও তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
নেত্রকোনায় প্রতিমা ভাংচুর
নেত্রকোনা প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
নেত্রকোনা সদর উপজেলার পল্লীতে একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
![]() |
| ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিমার কয়েকটি |
সোমবার রাতের কোনো এক সময় বোবাহলা গ্রামের হরিমন্দিরের এ ঘটনা ঘটে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আজিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গ্রামের মিঠুন চন্দের বাড়ির সামনের বারোয়ারি এ হরিমন্দিরের তালা ভেঙে দুস্কৃতকারীরা প্রতিমা ভাংচুর করে।
এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
মন্দিরের সেবায়েত মিঠুন চন্দ জানান, দুর্বৃত্তরা রাধা, গোবিন্দ ও পঞ্চতত্বের সাতটি প্রতিমা ভাংচুর করে। প্রতিটি প্রতিমা ভেঙে কয়েক টুকরো করে ফেলা হয়।
মঙ্গলবার সকালে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া পারভীন, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নির্মল কুমার দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক কেশব রঞ্জন সরকার ও সদর উপজেলা কমিটির সম্পাদক পঙ্কজ কুমার সাহা রায় সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা হয়। পুলিশের অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধী একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব চালাচ্ছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
খুলনায় মন্দির ও সংখ্যালঘুদের বাড়ি-দোকান ভাংচুর
খুলনা প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
খুলনার দৌলতপুরে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর-দোকানপাট ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার রাতে নগরীর বণিকপাড়া পাবলা সার্বজনীন কালীবাড়ী মন্দির এবং এর আশেপাশের বাড়ি ও দোকানে এ হামলা চালানো হয় বলে পুলিশ জানায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সাড়ে ৯টার দিকে দেড়শতাধিক যুবক লাঠিসোটা ও রামদা নিয়ে কালীবাড়ী মন্দিরটি ঘিরে ফেলে এবং প্রধান ফটক ভাঙ্গার চেষ্টা চালায়।
“ফটক ভাঙ্গতে না পেরে তারা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে মন্দিরের টাইলস ও কাঁচ ভাংচুর করে। এ সময় তারা দু’টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।”
এরপর তারা আশুতোষ সাধু, সাধন সাধু, মন্টু ও পশুপতি ঘোষের বাড়ি, হাকিম সরদারের বাড়ি, মৌচাক টাওয়ার ও কবীর সাহেবের বাড়ির হিন্দু ভাড়াটিয়াদের ঘর ভাঙচুর করে।
হামলাকারীরা মিহির দত্ত, ফুল সাহা, অনুপ, বিশু, নিতাই, সুভাষ ও খোকনের দোকান ভাংচুর করে। বাধা দিতে গেলে মুদি দোকানদার খোকনকে কুপিয়ে আহত করে তারা।
হামলা শুরুর পর পুলিশ সময়মতো আসেনি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে দৌলতপুর থানার ওসি মোঃ আখতার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হামলার খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সেখান থেকে দুই যুবকে আটক করেছি।”
আটক হুমায়ুন কবির (২৬) ও আরমানকে (১৮) জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলেছে।”
হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শণে যান খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুণ্ডু বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য একটি অপশক্তি পরিকল্পিতভাবে মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।”
হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন তিনি।
এই হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় মন্দিরের সামনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
খুলনার দৌলতপুরে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর-দোকানপাট ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার রাতে নগরীর বণিকপাড়া পাবলা সার্বজনীন কালীবাড়ী মন্দির এবং এর আশেপাশের বাড়ি ও দোকানে এ হামলা চালানো হয় বলে পুলিশ জানায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সাড়ে ৯টার দিকে দেড়শতাধিক যুবক লাঠিসোটা ও রামদা নিয়ে কালীবাড়ী মন্দিরটি ঘিরে ফেলে এবং প্রধান ফটক ভাঙ্গার চেষ্টা চালায়।
“ফটক ভাঙ্গতে না পেরে তারা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে মন্দিরের টাইলস ও কাঁচ ভাংচুর করে। এ সময় তারা দু’টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।”
এরপর তারা আশুতোষ সাধু, সাধন সাধু, মন্টু ও পশুপতি ঘোষের বাড়ি, হাকিম সরদারের বাড়ি, মৌচাক টাওয়ার ও কবীর সাহেবের বাড়ির হিন্দু ভাড়াটিয়াদের ঘর ভাঙচুর করে।
হামলাকারীরা মিহির দত্ত, ফুল সাহা, অনুপ, বিশু, নিতাই, সুভাষ ও খোকনের দোকান ভাংচুর করে। বাধা দিতে গেলে মুদি দোকানদার খোকনকে কুপিয়ে আহত করে তারা।
হামলা শুরুর পর পুলিশ সময়মতো আসেনি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে দৌলতপুর থানার ওসি মোঃ আখতার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হামলার খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সেখান থেকে দুই যুবকে আটক করেছি।”
আটক হুমায়ুন কবির (২৬) ও আরমানকে (১৮) জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলেছে।”
হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শণে যান খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুণ্ডু বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য একটি অপশক্তি পরিকল্পিতভাবে মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।”
হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন তিনি।
এই হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় মন্দিরের সামনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
গাজীপুরে প্রতিমা ভেঙ্গেছে দুর্বৃত্তরা
গাজীপুর,প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
উপজেলার মার্তা দক্ষিণপাড়া এলাকায় অবস্থিত মন্দিরে সোমবার গভীররাতে ভাংচুর চালানো হয় বলে জানান মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক রনেন্দ্র চন্দ্র দে।
“রাত ১১টার দিকে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি কালী মণ্ডপের সবগুলো মূর্তির মাথা ভাঙ্গা।”
মার্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুপেন্দ্র চন্দ্র দাসের বাড়িতে অবস্থিত মন্দিরটিতে কালী ও লক্ষী মণ্ডপ ছিলো।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন সবুজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজ হায়দার ভূঁইয়া এবং জয়দেবপুর ও শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
![]() |
| গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় একটি মন্দিরের চারটি মূর্তি ভেঙ্গেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: প্রথম আলো |
উপজেলার মার্তা দক্ষিণপাড়া এলাকায় অবস্থিত মন্দিরে সোমবার গভীররাতে ভাংচুর চালানো হয় বলে জানান মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক রনেন্দ্র চন্দ্র দে।
“রাত ১১টার দিকে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি কালী মণ্ডপের সবগুলো মূর্তির মাথা ভাঙ্গা।”
মার্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুপেন্দ্র চন্দ্র দাসের বাড়িতে অবস্থিত মন্দিরটিতে কালী ও লক্ষী মণ্ডপ ছিলো।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন সবুজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজ হায়দার ভূঁইয়া এবং জয়দেবপুর ও শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০০১ সালে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর হাতে হিন্দু নির্যাতনের আংশিক চিত্র
![]() |
| ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর হাতে হিন্দু নির্যাতনের আংশিক চিত্র |
আজ বেগম খলেদা জিয়া বললেন ক্ষমতায় গেলে নাকি তিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান করবেন। তাই তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন সে সময়কার তার দলের কর্মকাণ্ডের খতিয়ান দিলাম যা বিভিন্ন সংবাদ পত্রে এসেছিল। এগুলো বাদেও অসংখ্য ঘটনা আছে যা কোন দিন পেপারে আসেনি।
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা গোল্ডফিসের মতো এসব ভুলে যেতে ভালোবাসেন
আসুন তখনকার কিছু পত্রিকার হেডলাইন দেখিয়ে তাদেরকে উর্বর মস্তিষ্কের গোঁড়ায় কিছু সার দেওয়া যায় কিনা দেখি
সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ভোলাবাসীর আতঙ্ক কাটছে না !
(প্রথম আলো ৩.১০.০১)
২০ জেলায় আওয়ামি লিগের সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, সংঘর্ষ : নিহত ৯
(প্রথম আলো ৫.১০.০১)
অব্যাহত হামলার মুখে উত্তরের অনেক জেলা থেকে সংখ্যালঘুরা দেশত্যাগ করছেন
(প্রথম আলো ১০.১০.০১)
গলাচিপায় অর্ধশতাধিক সংখ্যালঘু পরিবার সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি
(প্রথম আলো ১০.১০.০১)
গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার চিত্র ধানের শীষে ভোট দিয়েও সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে
(যুগান্তর ১০.১০.০১)
সংখ্যলঘুদের জন্য চনপাড়া এখন আতঙ্কের জনপদ, বিএনপির সন্ত্রাসীদের ভয়ে ঘরছাড়া তরুণরা, মেয়েদের "তুলে নিয়ে" যাওয়ার হুমকি
(আজকের কাগজ ১০.১০.০১)
আগৈলঝাড়ার সংখ্যালঘুরা বাড়ি ফিরতে চায়
(জনকণ্ঠ ১৫.১০.০১)
নড়াইলের কালিয়া ও নড়াগাতীতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত: গোপালগন্জ্ঞের আশ্রিতরা বাড়িঘরে ফিরতে পারছে না
(জনকণ্ঠ ১৫.১০.০১)
নগরকান্দায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা '৭১-এর ঘটনাকেও হার মানিয়েছে
(জনকণ্ঠ ১৫.১০.০১)
ভাঙ্গায় মায়ের সামনেই কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীকে ধর্ষণ ।
(জনকণ্ঠ ১৫.১০.০১)
শুধু উৎকুলই নয়, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বাগেরহাটের সকল গ্রামই কার্যত এখন অবরূদ্ধ, তীব্র আতঙ্ক
(জনকণ্ঠ ১৫.১০.০১)
নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাস : চোখের সামনে বাবা-মাকে মারধর করায় শিশুরাও আতঙ্কিত ।
সংখ্যালঘু নারীধর্ষণের উন্মাদনায় মেতেছে সন্ত্রাসীরা ।
বিএনপি ক্যাডারদের অত্যাচারে কালীগন্জ্ঞের ১১ হাজার মানুষ ঘরছাড়া : পৌর চেয়ারম্যান মান্নানের অভিযোগ
(জনকণ্ঠ ১৫.১০.০১)
আমি কিসের বিচার চাইবো -বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন শেফালীরানী
(সংবাদ ১৫.১০.০১)
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা লুটপাট অব্যাহত
( সংবাদ ১৫.১০.০১)
মিরসরাইয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতন অব্যাহত । পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
(সংবাদ ১৫.১০.০১)
নাজিরপুরে বিএনপি সন্ত্রাসীদের তান্ডব : হামলার ভয়ে বরগুনা ও যশোর শহরে সংখ্যালঘুদের আশ্রয় গ্রহণ
(প্রথম আলো ১৫.১০.০১)
সংখ্যালঘু নির্যাতন : পরিবারের তিন নারীর সম্ভ্রমহানি
(প্রথম আলো ১৫.১০.০১)
মতলব ও শাহরাস্তিতে প্রতিমা ভাংচুর !
(প্রথম আলো ১৫.১০.০১)
সরাষ্ট্রমন্ত্রির সামনেই কমলারানী তার বাড়িতে হামলার বিবরণ
(সংবাদ ১৬.১০.০১)
এই দুর্বৃত্তদের বিচার করবে কে? রামশীলের আশ্রয়কেন্দ্রে অসংখ্য নির্যাতিত মুখ
(সংবাদ ১৬.১০.০১)
গৌরনদীতে সংখ্যলঘু দুই ভাইকে বেঁধে রেখে তাদের গণধর্ষণ করেছে বিএনপির ক্যাডাররা
(সংবাদ ১৬.১০.০১)
চাটখিলে আওয়ামি লিগ নেতা অপহূত ঈশ্বরগন্জ্ঞে ৯ টি মূর্তি ভাঙচুর
(সংবাদ ১৬.১০.০১)
সংখ্যলঘু ও আওয়ামি লিগের ওপর চলছে সহিংস নির্যাতন, লুটপাট, ধর্ষণ ও দেশ ছাড়ার হুমকি
(সংবাদ ১৬.১০.০১)
গৌরনদী আগৈলঝাড়ার বাস্তুচ্যুত মানুষের কান্না : ' ৫ বছর চলেছে হাসানাতের সন্ত্রাস এখন চলছে স্বপনের সন্ত্রাস
(সংবাদ ১৭.১০.০১)
সংখ্যালঘু ও আদিবাসীরা আতঙ্কিত : টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি-মধুপুরে সহিংসতা অব্যাহত
ঝালকাঠির পূর্বফুলহার গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নির্যাতন : বাদীকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে সন্ত্রাসীরা
(সংবাদ ১৭.১০.০১)
জামালপুর, রংপুর ও নাটোরে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা
(সংবাদ ১৭.১০.০১)
নির্বাচন-উত্তর সন্ত্রাসে স্বরূপকাঠির সংখ্যালঘু ও আওয়ামি লিগ নেতা কর্মীরা এলাকাছাড়া
(সংবাদ ১৭.১০.০১)
সংখ্যালঘুর কিশোরীর সম্ভ্রমহানি : ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেন ভাঙ্গা বিএনপি সভাপতি
(প্রথম আলো ১৭.১০.০১)
কালীগণ্জ্ঞের তিল্লা গ্রামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা : রেহাই পায়নি অন্ধ বিবেককুমারও
(প্রথম আলো ১৭.১০.০১)
বগুড়ার কাহালুতে প্রতিমা ভাঙচুর, সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক।। অনাড়ম্বর পূজার সিদ্ধান্ত
(সংবাদ ১৯.১০.০১)
রায়পুরে পূজামন্ডপে মূর্তি ভাঙচুর
(সংবাদ ১৯.১০.০১)
কালিয়াকৈর উপজেলার সংখ্যালঘু পরিবারগুলো এখনো বাড়িঘরে ফিরতে পারে নি
(সংবাদ ১৯.১০.০১)
সংখ্যালঘুর নির্যাতন : পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কূটনীতিকদের উদ্বেগ প্রকাশ
(যুগান্তর ১৯.১০.০১)
সংখ্যালঘুর ওপর হামলা : ঘটনাগুলো অস্বীকার করার জন্য প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ
(প্রথম আলো ১৯.১০.০১)
দুর্বৃত্তদের কাণ্ড : পূজামণ্ডপে গরুর হাড়
(সংবাদ ২০.১০.০১)
নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসের সঙ্গে বিজয়ী দলের কর্মীরা জড়িত : ফেমার প্রতিবেদন প্রকাশ
(সংবাদ ২০.১০.০১)
মিঠামইনে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি : সংখ্যালঘুদের ওপর চলছে অকথিত অত্যাচার
(সংবাদ ২০.১০.০১)
পালিয়ে যাওয়ার পর বাড়ি ফিরতেও সংখ্যালঘুদের টাকা দিতে হচ্ছে (প্রথম আলো ২০.১০.০১)
নীলফামারীতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা : তদন্ত করে অবশেষে মামলা গ্রহণ
(প্রথম আলো ২০.১০.০১)
নাটোরে সংখ্যালঘু নারী ধর্ষণ । মির্জাপুরে পূজামণ্ডপে ভাঙচুর । (২০.১০.০১)
রাজশাহী জেলা জুড়ে আওয়ামি লিগ নেতাকর্মী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের ওপর চলছে নির্মম নির্যাতন
(সংবাদ ২১.১০.০১)
দেবীদ্বারে আওয়ামি লিগ ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন । প্রশাসন নীরব
(সংবাদ ২১.১০.০১)
ফরিদপুরে ও কিশোরগণ্জ্ঞে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর : ৬ জন গ্রেপ্তার
(প্রথম আলো ২১.১০.০১)
আমার মতো কেউ যেন অত্যাচারের শিকার না হয় : পূর্ণিমা
(সংবাদ ২১.১০.০১)
রামশীলের দুঃখী মানুষের কথা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না যাওয়ার নেপথ্যে
(সংবাদ ২১.১০.০১)
কচুয়ায় মানুষ আতঙ্কে কাঁপছে : সন্ত্রাসীদের নির্যাতন সেখানে সব বর্বরতাকে হার মানিয়েছে
(জনকণ্ঠ ২২.১০.০১)
রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা । অনেকেই পালিয়েছেন ।
(প্রথম আলো ২২.১০.০১)
নির্বাচন বিজয়ের বেদিমূলে সংখ্যালঘু বলি
(জনকণ্ঠ ২২.১০.০১)
সিলেটে সংখ্যালঘু লোকজন আতঙ্কে আছেন
(জনকণ্ঠ ২৩.১০.০১)
মোড়লগণ্জ্ঞে সংখ্যালঘু ও আওয়ামি লিগ সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট চাঁদাবাজি । অভিযোগে ফল হচ্ছে না ।
(জনকণ্ঠ ২৩.১০.০১)
হিজলায় সংখ্যালঘুর বাড়ি নিশ্চিহু : গৃহবধূ নির্যাতিত
(ইত্তেফাক ২৩.১০.০১)
ক্ষুদিরামের 'স্বাভাবিক মৃত্যু' ও প্রিয়বালার ক্ষেত্রে 'অপরাধজনিত নরহত্যা' (প্রথম আলো ২৩.১০.০১)
নৌকার ভোটার আর সংখ্যালঘুদের জন্য কালিয়াকৈর জিম্মি জনপদ (জনকণ্ঠ ২৩.১০.০১)
ভোলার নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের আজাহারি : প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন, আমরা ভোট দিইনি আগামীতেও দেবো না, শুধু এদেশে থাকতে চাই
(সংবাদ ২৩.১০.০১)
কাপাসিয়ায় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ
(সংবাদ ২৩.১০.০১)
ভেগুরবাড়িতে এক বিভীষিকার রাত, ধর্ষণের মামলা একটি
(প্রথম আলো ২৪.১০.০১)
ঘটনাস্থল মিরসরাই, বাউফল, না'গণ্জ্ঞ, কালিয়াকৈর ও সৈয়দপুরের সোনাখুলি : সবখানে সংখ্যালঘু ও আওয়ামি লিগের নেতা কর্মীদের ওপর চলছে চরম নির্যাতন । চাঁদাদাবি না হলে দেশ ছাড়ার হুমকি
(সংবাদ ০১.১১.০১)
মাকে সন্তুষ্ট করতে নয়, বিএনপিকে সন্তুষ্ট করতেই এই পূজা
(সংবাদ ০৩.১১.০১)
সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে, আওয়ামি লিগ নেতা কর্মীরা ঘরে ফিরতে পারছে না (সংবাদ ০৪.১১.০১)
মাধবপুরে আতঙ্কজনক পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন । প্রতিমা ভাঙচুর ও পূজামণ্ডপে পাটকেল ছোড়া হয়েছে
(সংবাদ ০৪.১১.০১)
বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘু ও আওয়ামি লিগ কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা অব্যাহত
(সংবাদ ০৪.১১.০১)
নরসিংদীতে সংখ্যালঘুদের ওপর সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের নির্যাতন
(জনকণ্ঠ ০৫.১১.০১)
নাটোরে সংখ্যালঘু নির্যাতন কমলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ হয়নি
(সংবাদ ০৬.১১.০১)
সামাজিক আন্দোলনের নেতারা কালিয়াকৈরে নির্যাতনে হাত-পা ভাঙা হিন্দুরা এসে বিবরণ দিলেন
(প্রথম আলো ০৬.১১.০১)
মানিকগণ্জ্ঞে পরেশ হালদারকে হুমকি চাঁদা ২০ হাজার, নইলে মাথা (জনকণ্ঠ ০৬.১১.০১)
ঘটনাস্থ নীলফমারীর ডোমরা : হিন্দু বিধবার কোটি টাকার সম্পদ লুটে নেয়ার পাঁয়তারা
(সংবাদ ০৬.১১.০১)
বাগেরহাটে রামকৃষ্ণ আশ্রমে সন্ত্রাসী হামলা । গ্রেফ্তার ২ জন
(ভোরের কাগজ ০৬.১১.০১)
গলাচিপার হরিপদ শীলকে দিগম্বর করে বাজার ঘোরানো হয় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামির ছোট ভাইয়ের নির্দেশে
(জনকণ্ঠ ০৭.১১.০১)
মিরসরাইয়ের দাসপাড়ায় মধ্যরাতে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলা সেবাইত খুন, আহত ৩০
(জনকণ্ঠ ০৭.১১.০১)
সন্ত্রাসীদের ভয়ে নরসিংদীর রাজনগরে সংখ্যালঘুরা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে
(যুগান্তর ০৮.১১.০১)
গলাচিপাড় হরিদেবপুর : মহিউদ্দিন বাহিনীর হাত থেকে মেয়েদের সম্ভ্রম বাঁচাতে দুই হিন্দু পরিবারের এলাকাছাড়া
(জনকণ্ঠ ০৮.১১.০১)
সরেজমিন রাউজানের সরকারপাড়া : সন্ত্রাসীরা ঘোষবাড়িটি পুড়িয়ে দিলেও সাহায্য নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি
(সংবাদ ০৮.১১.০১)
কলাপাড়ায় এক সংখ্যালঘুর বাড়িতে আগুন, ছেলেকে অপহরণ । দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি, পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন একজন বিএনপি নেতা
(সংবাদ ০৯.১১.০১)
নির্বাচনের পরে ভোলা - ১ : অন্নদাপ্রসাদ গ্রামে এক বিভীষিকার রাত (প্রথম আালো ০৯.১১.০১)
নির্বাচনের পরে ভোলা - ২ : ক্ষেতমজুর প্রাণকৃষ্ণও স্ত্রী কন্যা নিয়ে ভারতে চলে যাবেন
(প্রথম আলো ১০.১১.০১)
নির্বাচনের পরে ভোলা - ৩ : পঙ্গু শেফালীর 'নাকফুল কেড়ে নেয়ার' কাহিনী
(প্রথম আলো ১১.১১.০১)
নির্বাচনের পরে ভোলা : জয়ন্তীর সংগ্রামের কাহিনী
(প্রথম আলো ১২.১১.০১)
রাউজানে সা.কা. বাহিনীর নির্যাতন : ৭ ইউনিয়নের ৫ হাজার সংখ্যালঘু নাগরিক ঘরবাড়ি ছাড়া
(সংবাদ ১৩.১১.০১)
ধর্ষিত সংখ্যালঘুর সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে (জনকণ্ঠ ১৫.১১.০১)
কিশোরগণ্জ্ঞে সংখ্যালঘুর বাড়িতে হামলা, লুটপাট, আহত ৭ (যুগান্তর ১৫.১১.০১)
বাঙালি হিন্দু পোস্ট ১৬, ০৩, ২০১৩
এমপির বাড়ির পাশের মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর
শেরপুর প্রতিনিধি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
![]() |
| শেরপুর শহরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাড়ির পাশের একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে |
শুক্রবার রাতে মাধবপুর পূজা মন্দিরে সরস্বতী প্রতিমা ভাংচুর হয় বলে মন্দির কমিটি পুলিশকে জানিয়েছে।
মাধবপুর এলাকায় মন্দিরের কাছেই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. আতিউর রহমান আতিকের বাড়ি।
গত ৭৭ বছর ধরে এই মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় পূজা অর্চনা করে আসছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি দিলিপ কুমার পাল সাংবাদিকদের বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রতিমা ভাংচুরের এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়েকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী জামায়াতে ইসলামীর তাণ্ডবের মধ্যে কয়েকটি স্থানে হিন্দুদের ওপর হামলা ও মন্দির ভাংচুর হয়।
প্রতিমা ভাংচুরের খবর পেয়ে সকালে শেরপুর সদর থানার ওসি মো. মাজহারুল করিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সকালে মাধবপুর পূজা মন্দিরে যান।
ওই দলের সদস্য এসআই ফজলে রাব্বী সাংবাদিকদের বলেন, “যারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
খালেদার আগমনে মুন্সীগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার আগমনের দিন মুন্সীগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।
জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কালী মন্দির পরিদর্শন করতে শুক্রবার বিকালে লৌহজং যান খালেদা জিয়া।
‘সম্মিলিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়’-এর ব্যানারে শুক্রবার বিকালে মুখে কালো কাপড় এবং হাতে কালো পতাকাসহ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কালী মন্দির প্রদক্ষিণ করে এলাকাবাসী।
মিছিল থেকে খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।
এসব শ্লোগানের মধ্যে ছিল ‘আম পাতা জোড়া জোড়া, ওই রাজাকার সইড়া দাঁড়া’, ‘আয় আয় চাঁদ মামা রশি নিয়া যা, কাদের মোল্লার গলায় তুই ফাঁসি দিয়া যা’, ‘দূর হয়ে যা দূর হয়ে পাকিস্থানে যা, তোকে দেখে জ্বলছে আগুন জ্বলছে আমার গা’।
এর পর শত শত মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানবন্ধন করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব শুরু করে জামায়াত-শিবির। বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও মন্দিরেও হামলা ও ভাংচুর চালায় তারা।
গত ৩ মার্চ রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে গোয়ালীমান্দ্রার ওই কালিমন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করে আগুন দেয়া হয়। ওই ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি অনিল চন্দ্র দাসের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। স্থানীয় আদালত তাদের জামিন দিলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরে তাদের জামিন বাতিল করে রিমান্ডে পাঠানো হয়।
bdnews24.com
![]() |
| খালেদার আগমনে মুন্সীগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ |
বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার আগমনের দিন মুন্সীগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।
জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কালী মন্দির পরিদর্শন করতে শুক্রবার বিকালে লৌহজং যান খালেদা জিয়া।
‘সম্মিলিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়’-এর ব্যানারে শুক্রবার বিকালে মুখে কালো কাপড় এবং হাতে কালো পতাকাসহ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কালী মন্দির প্রদক্ষিণ করে এলাকাবাসী।
মিছিল থেকে খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।
এসব শ্লোগানের মধ্যে ছিল ‘আম পাতা জোড়া জোড়া, ওই রাজাকার সইড়া দাঁড়া’, ‘আয় আয় চাঁদ মামা রশি নিয়া যা, কাদের মোল্লার গলায় তুই ফাঁসি দিয়া যা’, ‘দূর হয়ে যা দূর হয়ে পাকিস্থানে যা, তোকে দেখে জ্বলছে আগুন জ্বলছে আমার গা’।
এর পর শত শত মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানবন্ধন করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব শুরু করে জামায়াত-শিবির। বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও মন্দিরেও হামলা ও ভাংচুর চালায় তারা।
গত ৩ মার্চ রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে গোয়ালীমান্দ্রার ওই কালিমন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করে আগুন দেয়া হয়। ওই ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি অনিল চন্দ্র দাসের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। স্থানীয় আদালত তাদের জামিন দিলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরে তাদের জামিন বাতিল করে রিমান্ডে পাঠানো হয়।
bdnews24.com
‘হিন্দু নির্যাতন চিরাচরিত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে’
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও তাদের সম্পদ লুটপাটের পর ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মিললেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ‘সচেতন হিন্দু সমাজ’।
শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ অভিযোগ করেন।
এতে সংগঠনের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, চট্টগ্রামের সদস্য সচিব রিপম দাশ বলেন, এদেশে খেলায় সেঞ্চুরি করার সঙ্গে সঙ্গে পুরস্কার মিলে। কিন্তু হিন্দুদের সম্পদ লুট হলেও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস ছাড়া কিছুই মিলে না।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “এ সব নির্যাতনের একটিরও সুষ্ঠু বিচার হয়নি। এ কারণে হিন্দু নির্যাতন একটি চিরাচরিত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে আর কোনো ‘রাজনীতি’ না করতে তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধও জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব শুরু করে জামায়াত-শিবির। দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও মন্দিরেও হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালায় তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া, নোয়াখালী, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পাশাবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের আহ্বায়ক যিশু কৃঞ্চ রক্ষিত, সাবায়েত কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক জহর চক্রবর্তী, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের আহ্বায়ক দেবব্রত নাথ জুয়েল প্রমুখ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও তাদের সম্পদ লুটপাটের পর ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মিললেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ‘সচেতন হিন্দু সমাজ’।
শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ অভিযোগ করেন।
এতে সংগঠনের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, চট্টগ্রামের সদস্য সচিব রিপম দাশ বলেন, এদেশে খেলায় সেঞ্চুরি করার সঙ্গে সঙ্গে পুরস্কার মিলে। কিন্তু হিন্দুদের সম্পদ লুট হলেও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস ছাড়া কিছুই মিলে না।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “এ সব নির্যাতনের একটিরও সুষ্ঠু বিচার হয়নি। এ কারণে হিন্দু নির্যাতন একটি চিরাচরিত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে আর কোনো ‘রাজনীতি’ না করতে তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধও জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব শুরু করে জামায়াত-শিবির। দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও মন্দিরেও হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালায় তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া, নোয়াখালী, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পাশাবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের আহ্বায়ক যিশু কৃঞ্চ রক্ষিত, সাবায়েত কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক জহর চক্রবর্তী, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের আহ্বায়ক দেবব্রত নাথ জুয়েল প্রমুখ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
হিন্দুপল্লীতে হামলা, বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বাঁশখালীতে হিন্দুপল্লীতে হামলায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর কবির চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর সবুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে বন্দরনগরীর কাতালগঞ্জ এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বাঁশখালী থানা পুলিশ।
আলমগীর কবির চৌধুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী জাফরুল ইসলামের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত বাঁশখালী উপজেলার রামদাশ হাট, জলদী, চাম্বল, নাপোড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর বাড়ি, মন্দির, ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় জামায়াত-শিবির ও সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী। কুপিয়ে হত্যা করা হয় শিলকূপা গ্রামের দয়াল হরি শীলকে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
![]() |
| বাঁশখালীতে জামায়াতে ইসলামীর হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত পুড়ে ছাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর |
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর সবুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে বন্দরনগরীর কাতালগঞ্জ এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বাঁশখালী থানা পুলিশ।
আলমগীর কবির চৌধুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী জাফরুল ইসলামের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত বাঁশখালী উপজেলার রামদাশ হাট, জলদী, চাম্বল, নাপোড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর বাড়ি, মন্দির, ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় জামায়াত-শিবির ও সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী। কুপিয়ে হত্যা করা হয় শিলকূপা গ্রামের দয়াল হরি শীলকে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সিংড়ায় মন্দিরের ৭টি প্রতিমা ভাঙচুর
জেলা প্রতিনিধি, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
নাটোর: নাটোরের সিংড়া উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে মঙ্গলবার রাতে হরি মন্দিরের ৭টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
মন্দির কমিটির সভাপতি মনিন্দনাথ পাল বাংলানিউজকে জানান, বুধবার সকাল ৬টার দিকে মন্দিরে প্রণাম করতে গিয়ে তিনি দেখেন মন্দিরের মধ্যে খড় দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
তিনি জানান, দুর্বৃত্তরা মন্দিরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর, একটি প্রতিমা মন্দিরের বারান্দায় ফেলে রেখেছে।
এ ব্যাপারে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, তিনি মোবাইল ফোনে মন্দির ভাঙার খবর পেয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
নাটোর: নাটোরের সিংড়া উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে মঙ্গলবার রাতে হরি মন্দিরের ৭টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
মন্দির কমিটির সভাপতি মনিন্দনাথ পাল বাংলানিউজকে জানান, বুধবার সকাল ৬টার দিকে মন্দিরে প্রণাম করতে গিয়ে তিনি দেখেন মন্দিরের মধ্যে খড় দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
তিনি জানান, দুর্বৃত্তরা মন্দিরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর, একটি প্রতিমা মন্দিরের বারান্দায় ফেলে রেখেছে।
এ ব্যাপারে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, তিনি মোবাইল ফোনে মন্দির ভাঙার খবর পেয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদনা: প্রভাষ চৌধুরী, নিউজরুম এডিটর
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
নোয়াখালীর সন্ত্রাস কবলিত গ্রাম থেকে ফিরে - শেষ
বুধবার, ১৩ মার্চ ২০১৩, ২৯ ফাল্গুন ১৪১৯
নোয়াখালীর সন্ত্রাস কবলিত গ্রাম থেকে ফিরে শেষ ॥ হামলার সঙ্গে বরকত উল্লাহ বুলুর হাত থাকার অভিযোগ
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কথা বলছেন নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী
মহিউদ্দিন আহমেদ ॥ সাপ হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়ে। একই ঘটনায় একজন ব্যক্তির দ্বৈত চরিত্র বোঝাতে এ প্রবাদটি বহুল ব্যবহৃত হয়। নোয়াখালী রাজাগঞ্জের আলাদী গ্রামের সংখ্যালঘুদের ওপর জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ধ্বংসলীলা ও তাণ্ডব-পরবর্তী ঘটনায় এ চরিত্র ধরা পড়েছে। ২৮ তারিখ যারা নির্যাতন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করেছে সেই ব্যক্তিরাই পরের দিন সাধু সেজে নির্যাতিত পরিবারের খবর নিতে যান। স্থানীয় সাংসদ বরকত উল্লাহ বুলু এ চরিত্রের বাইরে ছিলেন না। তাঁর দলীয় নেতাকর্মীরা জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নেয়। আবার তিনি নির্যাতিত পরিবারকে ৫০ কেজি চাল দিয়ে করুণা দেখিয়েছেন। তবে ঘটনার পরেও ওই এলাকায় যাননি এ জনপ্রতিনিধি।
ঘটনার নির্মমতা এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে সম্বলহারা নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের। তাদের সন্তানরা স্কুলে যায় না, ঘরে ফিরেনি বহু প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা। দোকানপাট খোলা বা বাজারে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না পুরুষরা। কারণ যেসব মানুষের সঙ্গে যুগের পর যুগ এক সঙ্গে বসবাস করছে সংখ্যালঘুরা সেই মানুষগুলো নির্মম নিষ্ঠুরভাবে তাদের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য নিজ চোখে অবলোকন করছেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষতিপূরণ নিয়েও রাজনীতি করছে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা। ৯ মার্চ রাজাগঞ্জ বাজারের সন্ত্রাসকবলিত এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এসব খবর জানা যায়।
যুদ্ধাপরাধের কারণে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে ২৮ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর রাজাগঞ্জের আলাদী নগর গ্রামে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মন্দির ভাংচুর এবং লুটপাট চালায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। সংখ্যালঘুদের ওপর তাণ্ডবলীলা যারা চালিয়েছে তাদের ৭০ ভাগই স্থানীয়। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হারুন, লিটন, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, বিপ্লব, সঞ্জয়ের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তাঁরা বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যারা তাণ্ডব চালিয়েছে তাদের বেশিরভাগ ব্যক্তিকে তাঁরা চেনেন। তবে ভয়ে কারও নাম প্রকাশ করেননি তাঁরা। নাম প্রকাশ না করলেও হামলা, অগ্নিসংযোগকারী ও লুটতরাজকারীদের অনেকে পরেরদিন থেকে সাধু সেজে তাদের সমবেদনা জানাতে বাড়িতে আসেন। যারা ঘরে আগুন দিয়েছে তাদের মধ্যে এমনও লোক ছিল যাদের সঙ্গে ঘটনার আগের দিন এক সঙ্গে বসে চা পান করা ও রাতে আড্ডা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাণ্ডবের দিন তারা অতীত ভুলে নির্বিচারে আগুন জ্বালিয়ে বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এমনকি সঞ্জয়কে হত্যা করতে ধাওয়া করেছে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনার পর স্থানীয় সাংসদ বরকত উল্লাহ বুলু ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে না যাওয়ায় তারা এখনও নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না। তাছাড়া ঘটনার অন্তরালে বুলুর হাত রয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। কারণ হিসেবে তাঁরা মনে করেন, ওইদিনের ঘটনায় যে দুইজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন তাঁরা দুজনই বিএনপির কর্মী। তাছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান বিএনপির রাজনীতি করেন। যাকে ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিরোধী দলের সাংসদ হিসেবে তিনি নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ালে হয়ত আক্রমণকারীরা কিছুটা হলেও ভয় পেত বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে না গিয়ে কিছু টাকা আর ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা চাল দেয়াকে নির্যাতিতরা সাপ হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়া বাক্যটির বাস্তবতা বলে মনে করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭২ জনের নাম উল্লেখ এবং আড়াই থেকে তিন হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিরা নিজেদের রক্ষা করতে সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা। এর কারণে ভয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে রাজাগঞ্জের সংখ্যালঘুদের। নয় মার্চ ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় মালি বাড়ির নকুল চন্দ্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, তিনি ব্যবসা করেন কিন্তু ঘটনার পর তিনি বাজারে যেতে সাহস পান না। গত কয়েকদিন তাঁর দোকান বন্ধ রেখেছেন। তার মতো নির্যাতিত এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্য পুরুষদেরও একই অবস্থা। তারা কাউকে এখন আর বিশ্বাস করতে পারেন না। কখন কোন গুজব তুলে তাদের ওপর জামায়াত-শিবির তাদের দোসরদের নিয়ে হামলে পড়ে সে বিষয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। রাতে ঘুম হয় না রাজাগঞ্জের হিন্দুদের। নিরাপদহীন ঘরে স্ত্রী, সন্তানদের রেখে চাকরিতে যাওয়ার সাহস পায় না তারা। কার্তিক চন্দ্র দাস মাইজদীতে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চাকরি করেন। ঘটনার পর তিনি বাড়িতে এসে স্বজনদের সঙ্গে দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না। বাড়ির সব পুরুষ রাত জেগে স্ত্রী সন্তানও স্বজনদের পাহারা দিয়ে সময় পার করেন।
শ্রাবন্তী, প্রীতি রানী। দুই শিশু পড়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সজীব পড়ে অষ্টম শ্রেণীতে। ঘটনার দিন তাদের স্কুলের বই পুড়ে যায়। তাছাড়া শিশু বয়সে যে তাণ্ডব তারা দেখেছে সে ভয় তাদের তাড়া করে বেড়ায়। যাতে তারা স্কুলে যাওয়ার সাহস পায় না। তবে অভিভাবক ও স্কুল শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান, বাকিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু নাসের বলেন, যাদের বই পোড়া গেছে তাদের নতুন করে বই দেয়ার কাজ তাঁরা শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বই দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ভয় কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরানের চেষ্টা করছেন তাঁরা।
সম্ভ্রম হারানোর ভয়ে বাড়ি ফিরছে না প্রাপ্তবয়স্কা কন্যারা। এক বান্ডিল করে টিন দিয়ে বসতভিটা ঘেরাও করে হিন্দু পরিবারগুলোকে বাড়িতে আনা হয়েছে। কিন্তু এমন পরিবেশে নারী ও কন্যাদের থাকা নিরাপদ মনে করছেন না ঘরহারা সংখ্যালঘুরা। মাঝে মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ছাড়া নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন তাঁরা। তাই এখনও অনেক পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কা কন্যাদের তারা স্বজনদের বাড়িতে রেখেছেন। গত দুই সপ্তাহ উপাসনালয়ে যেতে পারছেন না হিন্দুরা। তাঁরা বলেন, তাদের গ্রামে ৬টি মন্দির ছিল। সব মন্দিরই ভাংচুর করা হয়েছে। মূর্তি ভাংচুর করতেও দ্বিধা করেনি জামায়াত-শিবির ও বিএনপি।
তবে ঘটনার পর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা ঘটনাটিকে নিয়ে রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সঠিকভাবে করছে না স্থানীয় নেতারা। তারা নিজেদের মতো করে ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছেন। তাছাড়া তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে তাদের নিরাপদহীন ঘরে রাখতে বাধ্য করছে। তাঁরা বলেন, এখানে নির্যাতিতদের প্রকৃত কথাটি বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। নাগরিক সমাজ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং গণমাধ্যম কর্মীসহ বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী কথা বলেন। এ সময় তারা ব্যক্তিগত সুবিধার দিক বিবেচনা করে কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিতরা।
শ্যামলী রানী, শিশুবালা, মণিকা রানী দাস, কার্তিক চন্দ্ররা দাবি করেন, তাদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে সঠিক তালিকার মাধ্যমে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার। এক বান্ডিল টিন, বা ৫০ কেজি চাল এ ধরনের করুণা তাঁরা চান না। দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা।
দৈনিক জনকণ্ঠ। লিংক
নোয়াখালীর সন্ত্রাস কবলিত গ্রাম থেকে ফিরে শেষ ॥ হামলার সঙ্গে বরকত উল্লাহ বুলুর হাত থাকার অভিযোগ
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কথা বলছেন নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী
মহিউদ্দিন আহমেদ ॥ সাপ হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়ে। একই ঘটনায় একজন ব্যক্তির দ্বৈত চরিত্র বোঝাতে এ প্রবাদটি বহুল ব্যবহৃত হয়। নোয়াখালী রাজাগঞ্জের আলাদী গ্রামের সংখ্যালঘুদের ওপর জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ধ্বংসলীলা ও তাণ্ডব-পরবর্তী ঘটনায় এ চরিত্র ধরা পড়েছে। ২৮ তারিখ যারা নির্যাতন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করেছে সেই ব্যক্তিরাই পরের দিন সাধু সেজে নির্যাতিত পরিবারের খবর নিতে যান। স্থানীয় সাংসদ বরকত উল্লাহ বুলু এ চরিত্রের বাইরে ছিলেন না। তাঁর দলীয় নেতাকর্মীরা জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নেয়। আবার তিনি নির্যাতিত পরিবারকে ৫০ কেজি চাল দিয়ে করুণা দেখিয়েছেন। তবে ঘটনার পরেও ওই এলাকায় যাননি এ জনপ্রতিনিধি।
ঘটনার নির্মমতা এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে সম্বলহারা নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের। তাদের সন্তানরা স্কুলে যায় না, ঘরে ফিরেনি বহু প্রাপ্তবয়স্ক কন্যা। দোকানপাট খোলা বা বাজারে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না পুরুষরা। কারণ যেসব মানুষের সঙ্গে যুগের পর যুগ এক সঙ্গে বসবাস করছে সংখ্যালঘুরা সেই মানুষগুলো নির্মম নিষ্ঠুরভাবে তাদের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য নিজ চোখে অবলোকন করছেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষতিপূরণ নিয়েও রাজনীতি করছে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা। ৯ মার্চ রাজাগঞ্জ বাজারের সন্ত্রাসকবলিত এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এসব খবর জানা যায়।
যুদ্ধাপরাধের কারণে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে ২৮ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর রাজাগঞ্জের আলাদী নগর গ্রামে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মন্দির ভাংচুর এবং লুটপাট চালায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। সংখ্যালঘুদের ওপর তাণ্ডবলীলা যারা চালিয়েছে তাদের ৭০ ভাগই স্থানীয়। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হারুন, লিটন, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, বিপ্লব, সঞ্জয়ের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তাঁরা বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যারা তাণ্ডব চালিয়েছে তাদের বেশিরভাগ ব্যক্তিকে তাঁরা চেনেন। তবে ভয়ে কারও নাম প্রকাশ করেননি তাঁরা। নাম প্রকাশ না করলেও হামলা, অগ্নিসংযোগকারী ও লুটতরাজকারীদের অনেকে পরেরদিন থেকে সাধু সেজে তাদের সমবেদনা জানাতে বাড়িতে আসেন। যারা ঘরে আগুন দিয়েছে তাদের মধ্যে এমনও লোক ছিল যাদের সঙ্গে ঘটনার আগের দিন এক সঙ্গে বসে চা পান করা ও রাতে আড্ডা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাণ্ডবের দিন তারা অতীত ভুলে নির্বিচারে আগুন জ্বালিয়ে বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এমনকি সঞ্জয়কে হত্যা করতে ধাওয়া করেছে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনার পর স্থানীয় সাংসদ বরকত উল্লাহ বুলু ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে না যাওয়ায় তারা এখনও নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না। তাছাড়া ঘটনার অন্তরালে বুলুর হাত রয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। কারণ হিসেবে তাঁরা মনে করেন, ওইদিনের ঘটনায় যে দুইজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন তাঁরা দুজনই বিএনপির কর্মী। তাছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান বিএনপির রাজনীতি করেন। যাকে ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিরোধী দলের সাংসদ হিসেবে তিনি নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ালে হয়ত আক্রমণকারীরা কিছুটা হলেও ভয় পেত বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে না গিয়ে কিছু টাকা আর ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা চাল দেয়াকে নির্যাতিতরা সাপ হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়া বাক্যটির বাস্তবতা বলে মনে করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭২ জনের নাম উল্লেখ এবং আড়াই থেকে তিন হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিরা নিজেদের রক্ষা করতে সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা। এর কারণে ভয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে রাজাগঞ্জের সংখ্যালঘুদের। নয় মার্চ ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় মালি বাড়ির নকুল চন্দ্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, তিনি ব্যবসা করেন কিন্তু ঘটনার পর তিনি বাজারে যেতে সাহস পান না। গত কয়েকদিন তাঁর দোকান বন্ধ রেখেছেন। তার মতো নির্যাতিত এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্য পুরুষদেরও একই অবস্থা। তারা কাউকে এখন আর বিশ্বাস করতে পারেন না। কখন কোন গুজব তুলে তাদের ওপর জামায়াত-শিবির তাদের দোসরদের নিয়ে হামলে পড়ে সে বিষয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। রাতে ঘুম হয় না রাজাগঞ্জের হিন্দুদের। নিরাপদহীন ঘরে স্ত্রী, সন্তানদের রেখে চাকরিতে যাওয়ার সাহস পায় না তারা। কার্তিক চন্দ্র দাস মাইজদীতে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চাকরি করেন। ঘটনার পর তিনি বাড়িতে এসে স্বজনদের সঙ্গে দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না। বাড়ির সব পুরুষ রাত জেগে স্ত্রী সন্তানও স্বজনদের পাহারা দিয়ে সময় পার করেন।
শ্রাবন্তী, প্রীতি রানী। দুই শিশু পড়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সজীব পড়ে অষ্টম শ্রেণীতে। ঘটনার দিন তাদের স্কুলের বই পুড়ে যায়। তাছাড়া শিশু বয়সে যে তাণ্ডব তারা দেখেছে সে ভয় তাদের তাড়া করে বেড়ায়। যাতে তারা স্কুলে যাওয়ার সাহস পায় না। তবে অভিভাবক ও স্কুল শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান, বাকিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু নাসের বলেন, যাদের বই পোড়া গেছে তাদের নতুন করে বই দেয়ার কাজ তাঁরা শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বই দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ভয় কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরানের চেষ্টা করছেন তাঁরা।
সম্ভ্রম হারানোর ভয়ে বাড়ি ফিরছে না প্রাপ্তবয়স্কা কন্যারা। এক বান্ডিল করে টিন দিয়ে বসতভিটা ঘেরাও করে হিন্দু পরিবারগুলোকে বাড়িতে আনা হয়েছে। কিন্তু এমন পরিবেশে নারী ও কন্যাদের থাকা নিরাপদ মনে করছেন না ঘরহারা সংখ্যালঘুরা। মাঝে মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ছাড়া নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন তাঁরা। তাই এখনও অনেক পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কা কন্যাদের তারা স্বজনদের বাড়িতে রেখেছেন। গত দুই সপ্তাহ উপাসনালয়ে যেতে পারছেন না হিন্দুরা। তাঁরা বলেন, তাদের গ্রামে ৬টি মন্দির ছিল। সব মন্দিরই ভাংচুর করা হয়েছে। মূর্তি ভাংচুর করতেও দ্বিধা করেনি জামায়াত-শিবির ও বিএনপি।
তবে ঘটনার পর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা ঘটনাটিকে নিয়ে রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সঠিকভাবে করছে না স্থানীয় নেতারা। তারা নিজেদের মতো করে ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছেন। তাছাড়া তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে তাদের নিরাপদহীন ঘরে রাখতে বাধ্য করছে। তাঁরা বলেন, এখানে নির্যাতিতদের প্রকৃত কথাটি বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। নাগরিক সমাজ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং গণমাধ্যম কর্মীসহ বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী কথা বলেন। এ সময় তারা ব্যক্তিগত সুবিধার দিক বিবেচনা করে কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিতরা।
শ্যামলী রানী, শিশুবালা, মণিকা রানী দাস, কার্তিক চন্দ্ররা দাবি করেন, তাদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে সঠিক তালিকার মাধ্যমে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার। এক বান্ডিল টিন, বা ৫০ কেজি চাল এ ধরনের করুণা তাঁরা চান না। দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা।
দৈনিক জনকণ্ঠ। লিংক
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিবমন্দিরের ২১ প্রতিমা ভাঙচুর
জেলা প্রতিনিধি, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের জামাল ইউনিয়নের খালকুলা মহাশ্মশানে অবস্থিত আড়াইশ বছরের প্রাচীন শিবমন্দিরের দরজা ভেঙে দুর্বৃত্তরা ২১টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে।
সোমবার গভীর রাতের যে কোনো সময় প্রতিমাগুলো ভাঙা হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। মন্দিরটিতে বিভিন্ন আকৃতির ২৩৫টি প্রতিমা ছিল।
এবিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত হোসেন বাংলানিউজকে জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে খালকুলা মহাশ্মশানের শিবমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান।
তিনি জানান, বেগবতী নদীর তীরে অবস্থিত মন্দিরের দরজা ভেঙে দুর্বৃত্তরা ৮ ইঞ্চি লম্বা ২১টি প্রতিমা ভাঙচুর করে। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় জামাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শজিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয়-ভীতি সৃষ্টির জন্য প্রাচীন এই মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
এদিকে, প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক খাজা আব্দুল হান্নান, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজিম আনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরাদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শন শেষে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল হক বলেন, ‘‘বিষয়টি স্পর্শকাতর বিধায় আমরা সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’’
কালীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুনীল ঘোষ জানান, মন্দিরের বড় বড় পাথরের প্রতিমাগুলো অক্ষত থাকলেও ছোট আকৃতির প্রতিমাগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত কালীগঞ্জ থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে সেখানকার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) ডলি বেগম।
তিনি জানান, সবাই হরতাল ডিউটিতে ব্যস্ত। মামলা হয়ত পরে করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫১৫ ঘণ্টা, মার্চ ১২, ২০১৩
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম লিংক
![]() |
| ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জে শিবমন্দিরের ২১ প্রতিমা ভাঙচুর |
ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের জামাল ইউনিয়নের খালকুলা মহাশ্মশানে অবস্থিত আড়াইশ বছরের প্রাচীন শিবমন্দিরের দরজা ভেঙে দুর্বৃত্তরা ২১টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে।
সোমবার গভীর রাতের যে কোনো সময় প্রতিমাগুলো ভাঙা হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। মন্দিরটিতে বিভিন্ন আকৃতির ২৩৫টি প্রতিমা ছিল।
এবিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত হোসেন বাংলানিউজকে জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে খালকুলা মহাশ্মশানের শিবমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান।
তিনি জানান, বেগবতী নদীর তীরে অবস্থিত মন্দিরের দরজা ভেঙে দুর্বৃত্তরা ৮ ইঞ্চি লম্বা ২১টি প্রতিমা ভাঙচুর করে। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
![]() |
| ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর হাতে আক্রান্ত শিবমন্দির |
স্থানীয় জামাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শজিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয়-ভীতি সৃষ্টির জন্য প্রাচীন এই মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।
এদিকে, প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক খাজা আব্দুল হান্নান, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজিম আনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরাদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শন শেষে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদুল হক বলেন, ‘‘বিষয়টি স্পর্শকাতর বিধায় আমরা সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’’
কালীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুনীল ঘোষ জানান, মন্দিরের বড় বড় পাথরের প্রতিমাগুলো অক্ষত থাকলেও ছোট আকৃতির প্রতিমাগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত কালীগঞ্জ থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে সেখানকার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) ডলি বেগম।
তিনি জানান, সবাই হরতাল ডিউটিতে ব্যস্ত। মামলা হয়ত পরে করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫১৫ ঘণ্টা, মার্চ ১২, ২০১৩
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম লিংক
২ মাসের শিশু থেকে শত বছরের বৃদ্ধও রেহাই পায়নি ওদের হাত থেকে
মঙ্গলবার, ১২ মার্চ ২০১৩, ২৮ ফাল্গুন ১৪১৯
নোয়াখালীর সন্ত্রাস কবলিত গ্রাম থেকে ফিরে ২
মহিউদ্দিন আহমেদ, নোয়াখালী রাজগঞ্জ থেকে ফিরে ॥ মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে হযরত মুহম্মদ (স) ঘোষণা করেছিলেন, যারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করবে, তারা নিরাপদ থাকবেন। যারা আবু সুফিয়ান (ইসলামের চরম দুশমন) কিংবা তার সঙ্গীদের ঘরে অবস্থান নেবে তারাও নিরাপদ থাকবেন। যারা পবিত্র কাবা শরীফে অবস্থান নেবেন, তারাও নিরাপদ থাকবেন। জামায়াতে ইসলামী নিজেদের ইসলামী দল পরিচয় দিয়ে থাকলেও নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ঘর থেকে মানুষ বের করে অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তাদের ভয়ে ঘুমে থাকা ২ মাসের শিশু ও শত বছরের বৃদ্ধাকে কোলে নিয়ে পালাতে হয়েছে অভিভাবকদের। মন্দির থেকে শ্মশান সব জায়গায় ভাংচুর করেছে জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসররা। শনিবার সরেজমিন নোয়াখালী রাজগঞ্জের আলাদি গ্রাম ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর রাজগঞ্জের আলাদীনগর গ্রামে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মন্দির ভাংচুর এবং লুটপাট চালায় যুদ্ধাপরাধের কারণে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে। সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর তাণ্ডবলীলা চালায় কথিত ইসলামী সংগঠন জামায়াত-শিবির। তাদের নির্মম নির্যাতন শিকার ২ মাসের নিষ্পাপ শিশু থেকে ১০৫ বছরের বৃদ্ধ। স্বর্ণালঙ্কার থেকে রান্নার পাতিল পর্যন্ত লুট করে নিয়েছে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। ঘর, ওষুধ কারখানা, বাড়ির গাছ-গাছালি পুড়ে ছাই করেছে স্বাধীনতাবিরোধী এ চক্র। কবুতর থেকে গবাদিপশু পর্যন্ত রক্ষা পায়নি তাদের নির্যাতনের হাত থেকে। ভাংচুর করা হয়েছে ধর্মীয় উপাসনালয় মন্দির থেকে শুরু করে সমাধিস্থল শ্মশান পর্যন্ত।
ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মালিবাড়ির প্রীতি রানী। তিনি বলেন, ঘটনার দিন দুপুরের খাওয়া শেষে দুইটার দিকে হঠাৎ বিশাল একটি মিছিল রামদা, কুড়াল, দা বঁটি, বড় বড় লাঠি, আগুনের মশাল নিয়ে তাদের বাড়ির দিকে আসতে থাকে। এমন কিছু অস্ত্র হামলাকারীদের হাতে দেখা গেছে তিনি ওইসব অস্ত্র কখনও দেখেননি। ঘটনাটি বুঝে ওঠার আগে রাস্তা থেকে বাড়িতে ঢুকে পড়ে মিছিলকারীরা। ঢুকেই ঘরের টিনে কোপাতে এবং এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে আঘাত শুরু করে। প্রাণভয়ে তিনি পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে দৌড়তে শুরু করেন। এর মধ্যে দেখেন তার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে তার ঘর। তার ঘরের মতো এই বাড়ির সব ঘরেই একইভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তবে ঘরে আগুন দেয়ার আগে ঘরের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ পণ্য একটি গ্রুপ বের করে নেয়। একই বাড়ির আরেক বাসিন্দা নকুল চন্দ্র দাস। তিনিও একইভাবে ঘটনার দিনের নির্মম দৃশ্য বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, পাশের মুসলিম পরিবার, ফরহাদ ও ফারুকদের ঘরে এ বাড়ির সবাই আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা ওই বাড়িতে বাড়ির মালিকদের হুমকি দিতে থাকে হিন্দুদের ঘর থেকে বের করে না দিলে তাদের ঘরেও আগুন দেয়া হবে। তবে ওই মুসলিম পরিবারটি ঝুঁকি নিয়ে মালিবাড়ির হিন্দুদের আশ্রয় দেন। এ বাড়িতে ২ মাসের একটি শিশু আছে অথৈ নামের। শিশুটি জন্মের দুই মাসের মাথায় জামায়াত-শিবিরের নির্মম আক্রমণের শিকার হলো। যদিও এখনও সে এ বিষয়টি বোঝার বয়স হয়নি অথৈর। হামলার সঙ্গে সঙ্গে ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘর থেকে বের হতে একটু বিলম্ব হলে তাকে সন্তানসহ হামলাকারীরা জোর করে ঘর থেকে বের করে আগুন ধরিয়ে দেয় ঘরে। অথৈর মায়ের কাছে বাচ্চার নাম জানতে চাইলে বলে ওঠেন, ‘নাম দি কি করব হেদিন হোয়া যাইত।’ তিন বছরের নিচে ৪টি বাচ্চা ছিল এ বাড়িতে। হামলার সঙ্গে সব শিশু ভয়ে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। কিন্তু এ ছোট শিশুদের জামায়াত-শিবির কর্মীদের হৃদয় স্পর্শ করেনি। তারা দস্যুদের মতো লুটপাট-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করেছে নির্বিচারে।
পাশের পশ্চিম দক্ষিণ দিকে আরেকটি ঘরে থাকেন ৮৫ বছরের বৃদ্ধা শিশুবালা। তিনিও রেহাই পাননি জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন থেকে। কোন রকম আটকাতে পারলেও দৌড়ে প্রাণ রক্ষা করার মতো শক্তি নেই শিশুবালার। তাই নাতি রাজিব তাঁকে কোলে করে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে দুই চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে শিশুবালার। আর আস্তে শুধু বলেন, ‘সব হোড়াই দিছে’ রাজিব আঁরে না নিলে, আই মরি যাইতাম।’
একই গ্রামের বিমল কান্তি ঠাকুর বাড়িতে তাণ্ডবের বর্ণনা দেন বিপ্লব কুমার। তিনি বলেন, আগুন দেয়ার ধরনটা সব বাড়িতে একই রকম ছিল। যখন বাড়িতে তারা প্রবেশ করে এর আগে জানতে পারে পাড়ার হিন্দু বাড়িগুলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে জামায়াত-শিবির। তাদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীরাও আছেন। তাই তাঁরা সম্পদের আশা ত্যাগ করে প্রাণ নিয়ে আগে পালাতে থাকেন ঠাকুরবাড়ির বাসিন্দারা। আর এ সুযোগে এ বাড়ির ঘরগুলোতে আগুন দেয়ার আগে সব ঘর থেকে নগদ টাকা, কয়েকভরি স্বর্ণ ও দামী আসবাবপত্র লুট করে নেয় হামলাকারীরা। গঙ্গা প্রসাদ বাড়িতেও লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে কথা হয় শ্যামলী চৌধুরীর সঙ্গে। এ বাড়িটিতে ১৫/১৬ জন মানুষের মধ্যে মাত্র দুজন পুরুষ আছে। আর সব নারী। এ বাড়িটিতে সব ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসররা। যে ঘর থেকে নারীরা বের হতে বিলম্ব হয়েছে নারীদের মারধর করে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করে। ঘর পোড়ানোর আগে অন্য ঘরের মতো লুটপাট করতে ভুল করেনি তারা। শ্যামলী চৌধুরীর ঘরে ৫০ হাজার টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ ও কয়েকভরি রূপা ছিল। সবকিছু নিয়ে যায় হামলাকারী দস্যুরা। এ বাড়িতে গঙ্গা প্রসাদ নামের একটি ২০০ বছরের পুরাতন কবিরাজি ওষুধ তৈরির কারখানা ছিল, সেই কারখানাটিও পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার সময় কথা হয় পল্লী চিকিৎসক সঞ্জয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি হামলাকারীদের মিছিলের সামনে পড়ে যান। তাঁকে মেরে ফেলার জন্য ধাওয়া দিতে থাকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তিনি দৌড়ে আশ্রয় নেন জাহাঙ্গীর নামে এক মুসলিমের ঘরে। তাঁকে ধাওয়া দিয়ে ওই মুসলিম পরিবারের ঘরে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ খোজাখুঁজি করা হয়। চৌকির নিচে পালিয়ে ওইদিন জীবন রক্ষা করেন সঞ্জয়। ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন, ‘ভাই আঁই মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচি আইছি’ তিনি বলেন যারা আঁরে মাইরতো চাইছে তারা আঁর পরিচিত ছিল।’ এলাকা ঘুরে দেখা যায় যেসব বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে সব বাড়িতে পোড়া টিনের স্তূপ। তা ছাড়া বাড়ির গাছগাছালি পুড়ে গেছে। মালিবাড়ির এ গৃহবধূ জানান, জামায়াত-শিবিরে হামলা শুধু যে লুটপাট, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধতা ছিল না, তারা বাড়ির গবাদিপশুর ওপরও হামলা করেছে। টঙ্গিপাড়ার গঙ্গা প্রাসাদ ভুইয়া বাড়ির প্রাণগোপাল শ্মশান নামফলকও ভাংচুর করা হয়। একই স্থানের দূর্গাপ্রসন্ন ভুইয়ার শ্মশানের নামপলকও ভাংচুর করা হয়। হামলাকারীদের তাণ্ডব থেকে শ্মশানও রক্ষা পায়নি রাজগঞ্জ এলাকায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি তাণ্ডবের আওতায় ওই এলাকার ৬২ পরিবারের ৭৫টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ধ্বংসলীলা চালানো হয়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় ৬টি মন্দিরে। জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে ধাতব নির্মিত টিনও অঙ্গারে পরিণত হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে নগদ অর্থ, স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা, কাসা-পিতলের তৈজসপত্র, রেডিও, টেলিভিশনসহ মূল্যাবন আসবাবপত্র। ওই এলাকায় বেশিরভাগ বাড়িতে ২ থেকে ৭ ভরি সোনা ও রূপার অলঙ্কার ছিল। যা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এলাকার তাণ্ডবের ঘটনা বর্ণনা করে স্থানীয়রা জানান ওইদিন ওই এলাকায় পুলিশ যদি গুলিবর্ষণ না করতো তা হলে হিন্দুদের বাঁচার উপায় ছিল না।
দৈনিক জনকণ্ঠ। লিংক
নোয়াখালীর সন্ত্রাস কবলিত গ্রাম থেকে ফিরে ২
মহিউদ্দিন আহমেদ, নোয়াখালী রাজগঞ্জ থেকে ফিরে ॥ মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে হযরত মুহম্মদ (স) ঘোষণা করেছিলেন, যারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করবে, তারা নিরাপদ থাকবেন। যারা আবু সুফিয়ান (ইসলামের চরম দুশমন) কিংবা তার সঙ্গীদের ঘরে অবস্থান নেবে তারাও নিরাপদ থাকবেন। যারা পবিত্র কাবা শরীফে অবস্থান নেবেন, তারাও নিরাপদ থাকবেন। জামায়াতে ইসলামী নিজেদের ইসলামী দল পরিচয় দিয়ে থাকলেও নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ঘর থেকে মানুষ বের করে অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তাদের ভয়ে ঘুমে থাকা ২ মাসের শিশু ও শত বছরের বৃদ্ধাকে কোলে নিয়ে পালাতে হয়েছে অভিভাবকদের। মন্দির থেকে শ্মশান সব জায়গায় ভাংচুর করেছে জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসররা। শনিবার সরেজমিন নোয়াখালী রাজগঞ্জের আলাদি গ্রাম ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর রাজগঞ্জের আলাদীনগর গ্রামে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মন্দির ভাংচুর এবং লুটপাট চালায় যুদ্ধাপরাধের কারণে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে। সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর তাণ্ডবলীলা চালায় কথিত ইসলামী সংগঠন জামায়াত-শিবির। তাদের নির্মম নির্যাতন শিকার ২ মাসের নিষ্পাপ শিশু থেকে ১০৫ বছরের বৃদ্ধ। স্বর্ণালঙ্কার থেকে রান্নার পাতিল পর্যন্ত লুট করে নিয়েছে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। ঘর, ওষুধ কারখানা, বাড়ির গাছ-গাছালি পুড়ে ছাই করেছে স্বাধীনতাবিরোধী এ চক্র। কবুতর থেকে গবাদিপশু পর্যন্ত রক্ষা পায়নি তাদের নির্যাতনের হাত থেকে। ভাংচুর করা হয়েছে ধর্মীয় উপাসনালয় মন্দির থেকে শুরু করে সমাধিস্থল শ্মশান পর্যন্ত।
ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মালিবাড়ির প্রীতি রানী। তিনি বলেন, ঘটনার দিন দুপুরের খাওয়া শেষে দুইটার দিকে হঠাৎ বিশাল একটি মিছিল রামদা, কুড়াল, দা বঁটি, বড় বড় লাঠি, আগুনের মশাল নিয়ে তাদের বাড়ির দিকে আসতে থাকে। এমন কিছু অস্ত্র হামলাকারীদের হাতে দেখা গেছে তিনি ওইসব অস্ত্র কখনও দেখেননি। ঘটনাটি বুঝে ওঠার আগে রাস্তা থেকে বাড়িতে ঢুকে পড়ে মিছিলকারীরা। ঢুকেই ঘরের টিনে কোপাতে এবং এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে আঘাত শুরু করে। প্রাণভয়ে তিনি পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে দৌড়তে শুরু করেন। এর মধ্যে দেখেন তার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে তার ঘর। তার ঘরের মতো এই বাড়ির সব ঘরেই একইভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তবে ঘরে আগুন দেয়ার আগে ঘরের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ পণ্য একটি গ্রুপ বের করে নেয়। একই বাড়ির আরেক বাসিন্দা নকুল চন্দ্র দাস। তিনিও একইভাবে ঘটনার দিনের নির্মম দৃশ্য বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, পাশের মুসলিম পরিবার, ফরহাদ ও ফারুকদের ঘরে এ বাড়ির সবাই আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা ওই বাড়িতে বাড়ির মালিকদের হুমকি দিতে থাকে হিন্দুদের ঘর থেকে বের করে না দিলে তাদের ঘরেও আগুন দেয়া হবে। তবে ওই মুসলিম পরিবারটি ঝুঁকি নিয়ে মালিবাড়ির হিন্দুদের আশ্রয় দেন। এ বাড়িতে ২ মাসের একটি শিশু আছে অথৈ নামের। শিশুটি জন্মের দুই মাসের মাথায় জামায়াত-শিবিরের নির্মম আক্রমণের শিকার হলো। যদিও এখনও সে এ বিষয়টি বোঝার বয়স হয়নি অথৈর। হামলার সঙ্গে সঙ্গে ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘর থেকে বের হতে একটু বিলম্ব হলে তাকে সন্তানসহ হামলাকারীরা জোর করে ঘর থেকে বের করে আগুন ধরিয়ে দেয় ঘরে। অথৈর মায়ের কাছে বাচ্চার নাম জানতে চাইলে বলে ওঠেন, ‘নাম দি কি করব হেদিন হোয়া যাইত।’ তিন বছরের নিচে ৪টি বাচ্চা ছিল এ বাড়িতে। হামলার সঙ্গে সব শিশু ভয়ে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। কিন্তু এ ছোট শিশুদের জামায়াত-শিবির কর্মীদের হৃদয় স্পর্শ করেনি। তারা দস্যুদের মতো লুটপাট-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করেছে নির্বিচারে।
পাশের পশ্চিম দক্ষিণ দিকে আরেকটি ঘরে থাকেন ৮৫ বছরের বৃদ্ধা শিশুবালা। তিনিও রেহাই পাননি জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন থেকে। কোন রকম আটকাতে পারলেও দৌড়ে প্রাণ রক্ষা করার মতো শক্তি নেই শিশুবালার। তাই নাতি রাজিব তাঁকে কোলে করে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে দুই চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে শিশুবালার। আর আস্তে শুধু বলেন, ‘সব হোড়াই দিছে’ রাজিব আঁরে না নিলে, আই মরি যাইতাম।’
একই গ্রামের বিমল কান্তি ঠাকুর বাড়িতে তাণ্ডবের বর্ণনা দেন বিপ্লব কুমার। তিনি বলেন, আগুন দেয়ার ধরনটা সব বাড়িতে একই রকম ছিল। যখন বাড়িতে তারা প্রবেশ করে এর আগে জানতে পারে পাড়ার হিন্দু বাড়িগুলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে জামায়াত-শিবির। তাদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীরাও আছেন। তাই তাঁরা সম্পদের আশা ত্যাগ করে প্রাণ নিয়ে আগে পালাতে থাকেন ঠাকুরবাড়ির বাসিন্দারা। আর এ সুযোগে এ বাড়ির ঘরগুলোতে আগুন দেয়ার আগে সব ঘর থেকে নগদ টাকা, কয়েকভরি স্বর্ণ ও দামী আসবাবপত্র লুট করে নেয় হামলাকারীরা। গঙ্গা প্রসাদ বাড়িতেও লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে কথা হয় শ্যামলী চৌধুরীর সঙ্গে। এ বাড়িটিতে ১৫/১৬ জন মানুষের মধ্যে মাত্র দুজন পুরুষ আছে। আর সব নারী। এ বাড়িটিতে সব ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসররা। যে ঘর থেকে নারীরা বের হতে বিলম্ব হয়েছে নারীদের মারধর করে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করে। ঘর পোড়ানোর আগে অন্য ঘরের মতো লুটপাট করতে ভুল করেনি তারা। শ্যামলী চৌধুরীর ঘরে ৫০ হাজার টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ ও কয়েকভরি রূপা ছিল। সবকিছু নিয়ে যায় হামলাকারী দস্যুরা। এ বাড়িতে গঙ্গা প্রসাদ নামের একটি ২০০ বছরের পুরাতন কবিরাজি ওষুধ তৈরির কারখানা ছিল, সেই কারখানাটিও পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার সময় কথা হয় পল্লী চিকিৎসক সঞ্জয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি হামলাকারীদের মিছিলের সামনে পড়ে যান। তাঁকে মেরে ফেলার জন্য ধাওয়া দিতে থাকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তিনি দৌড়ে আশ্রয় নেন জাহাঙ্গীর নামে এক মুসলিমের ঘরে। তাঁকে ধাওয়া দিয়ে ওই মুসলিম পরিবারের ঘরে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ খোজাখুঁজি করা হয়। চৌকির নিচে পালিয়ে ওইদিন জীবন রক্ষা করেন সঞ্জয়। ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন, ‘ভাই আঁই মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচি আইছি’ তিনি বলেন যারা আঁরে মাইরতো চাইছে তারা আঁর পরিচিত ছিল।’ এলাকা ঘুরে দেখা যায় যেসব বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে সব বাড়িতে পোড়া টিনের স্তূপ। তা ছাড়া বাড়ির গাছগাছালি পুড়ে গেছে। মালিবাড়ির এ গৃহবধূ জানান, জামায়াত-শিবিরে হামলা শুধু যে লুটপাট, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধতা ছিল না, তারা বাড়ির গবাদিপশুর ওপরও হামলা করেছে। টঙ্গিপাড়ার গঙ্গা প্রাসাদ ভুইয়া বাড়ির প্রাণগোপাল শ্মশান নামফলকও ভাংচুর করা হয়। একই স্থানের দূর্গাপ্রসন্ন ভুইয়ার শ্মশানের নামপলকও ভাংচুর করা হয়। হামলাকারীদের তাণ্ডব থেকে শ্মশানও রক্ষা পায়নি রাজগঞ্জ এলাকায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি তাণ্ডবের আওতায় ওই এলাকার ৬২ পরিবারের ৭৫টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ধ্বংসলীলা চালানো হয়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় ৬টি মন্দিরে। জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে ধাতব নির্মিত টিনও অঙ্গারে পরিণত হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে নগদ অর্থ, স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা, কাসা-পিতলের তৈজসপত্র, রেডিও, টেলিভিশনসহ মূল্যাবন আসবাবপত্র। ওই এলাকায় বেশিরভাগ বাড়িতে ২ থেকে ৭ ভরি সোনা ও রূপার অলঙ্কার ছিল। যা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এলাকার তাণ্ডবের ঘটনা বর্ণনা করে স্থানীয়রা জানান ওইদিন ওই এলাকায় পুলিশ যদি গুলিবর্ষণ না করতো তা হলে হিন্দুদের বাঁচার উপায় ছিল না।
দৈনিক জনকণ্ঠ। লিংক
সুন্দরগঞ্জ বা বাঁশখালীর গল্প- নির্মলেন্দু গুণ
![]() |
| সুন্দরগঞ্জ বা বাঁশখালীর গল্প- নির্মলেন্দু গুণ |
ওরা আবার কহন আয়ে, কহন আয়ে।’
আর কাঁন্দিস না মা, আমার কথা শোন,
তুই তোর হাতের শাঁখা খুলে ফেল,
মুছে ফেল তোর সিঁথির সিঁদুর।
মা-কালীর শেষকৃত্য দেখে-দেখে, শেষে
আমাদের শেষকৃত্য ডেকে আনবি নাকি?
চল মা, তোর ভগবান পুড়ছে, পুড়ুক।
এই চন্দ্রমুগ্ধ মূর্খের উল্লাস থেমে গেলে
একাত্তরের মতো আবারও আমরা
ফিরে আসবো আমাদের অগ্নিশুদ্ধ ঘরে।
তখন তিনিই তোরে ফিরিয়ে দেবেন তোর
শাঁখা-সিঁদুর, তোর প্রতিমার ছিন্নভিন্ন দেহ।
তোর ভগবান কি অথর্ব, অন্ধ নাকি?
তবে তাই কর বাবা, এই যে আমি
বন্ধ করলাম আমার চোখ, তুই ভেঙে দে
আমার শাঁখা, মুছে দে আমার সিঁদুর,
জ্বলে পুড়ে শুদ্ধ হোক আমার ঠাকুর।
ময়মনসিংহে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর
ময়মনমসিংহ প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় একটি মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার গভীর রাতে উপজেলার আছিম বাজারের কালি মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা আছিম বাজারের কালি মন্দিরে ঢুকে মন্দিরের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ভাংচুর করে চলে যায়।
তিনি বলেন, “জামায়ত-শিবির কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর তা প্রত্যাখান করে সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় তার দল জামায়াতে ইসলামী। পুলিশ ও সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর চালায় তারা।
এই প্রেক্ষাপটে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাই কোর্ট একটি রুলও জারি করেছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় একটি মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার গভীর রাতে উপজেলার আছিম বাজারের কালি মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা আছিম বাজারের কালি মন্দিরে ঢুকে মন্দিরের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ভাংচুর করে চলে যায়।
তিনি বলেন, “জামায়ত-শিবির কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর তা প্রত্যাখান করে সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় তার দল জামায়াতে ইসলামী। পুলিশ ও সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর চালায় তারা।
এই প্রেক্ষাপটে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাই কোর্ট একটি রুলও জারি করেছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সাঈদীর ফাঁসির কারণ হিন্দুদের সাক্ষ্য- এটা রটিয়ে হামলা
সোমবার, ১১ মার্চ ২০১৩, ২৭ ফাল্গুন ১৪১৯
নোয়াখালীর সন্ত্রাস কবলিত গ্রাম থেকে ফিরে
মহিউদ্দিন আহমেদ, নোয়াখালী রাজাগঞ্জ থেকে ফিরে ॥ নোয়াখালী রাজাগঞ্জ এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়ি ঘরে তাণ্ডবলীলা ছিল পরিকল্পিত। ঘটনার আগে দু’দিনব্যাপী ওই এলাকায় জামায়াত সাঈদীর সাফাই ওয়াজের আয়োজন করে। ওয়াজে বক্তারা সাঈদীর জন্য রক্ত ও জীবন দিতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান স্থানীয়দের। জামায়াতের তথাকথিত আলেমদের উস্কানিতে হিন্দুদের সাক্ষ্যে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসি হয়েছে গুজব ছড়িয়ে আলাদি নগর গ্রামে হামলা করে স্থানীয় জামায়াত-শিবির। হামলাকারীরা গানপাউডারসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে সন্ত্রাস তাণ্ডব চালায়। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে একটি গ্রুপ ঘরে ঘরে অগ্নিসংযোগ করে, আরেকটি গ্রুপ লুটপাট, তৃতীয় গ্রুপের দায়িত্ব ছিল নির্যাতন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্মম ঘটনার নেপথ্যের এসব ঘটনা জানা গেছে।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধীতাকারী, মানবতাবিরোধী অপরাধের অপরাধী, জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীরসহ চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ বানচাল করতে নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত-শিবির। নোয়াখালীর রাজাগঞ্জের আলাদী নগর গ্রামের হিন্দু সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, মন্দির ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনাটি তারই ধারাবাহিক একটি ঘটনা বলে জানান স্থানীয়রা। তারা জানান, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানাধীন রাজাগঞ্জ আলাদী নগর গ্রামটি শহর থেকে দূরে। ওই এলাকায় হিন্দু পাড়াটিতে শহর থেকে পৌছতে প্রায় একঘণ্টা সময় লাগে। তাই উগ্র, ধর্মান্ধ তথাকথিত ইসলামী দল জামায়াত এই এলাকাটির সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাড়তি শক্তি হিসেবে সঙ্গে পায় স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতাকর্মী। লক্ষ্য বাস্তবায়নে জামায়াত-বিএএনপির নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করতে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি, দু’দিনব্যাপী ওয়াজের আয়োজন করে ইসলামী পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ পরিষদ। এই দুটি সংগঠন জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এবং জামায়াত নেতারা পরিচালনা করেন। রাজাগঞ্জ হাইস্কুল ময়দানে অনুষ্ঠিত ওয়াজে দলীয় স্বার্থসিদ্ধি ও সাঈদীর সাফাই সংক্রান্ত তাফসির করেন নির্ধারিত তথাকথিত আলেমরা। তাদের মধ্যে ছিলেন, মাওলানা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি ঢাকা থাকেন। কুমিল্লার চান্দিনা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আনম মাইন উদ্দিন সিরাজী, বাংলাদেশ ইসলামীক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক ড. মতিউল ইসলাম। তাদের কেউ কেউ তিনটি বেসরকারী টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচনা করেন। ওয়াজের প্রথমদিন ধর্মীয় বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা করলেও শেষদিন তারা মতলববাজি রাস্তা ধরেন বলে জানান, স্থানীয়রা। তারা জানান, শেষদিন ওয়াজের শেষদিকে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে অনেক উস্কানিমূলক আলোচনা করা হয়। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রকৃত আলেম, আন্তর্জাতিকমানের আলেম- ইসলামী চিন্তাবিদসহ বিভিন্ন বিশ্লেষণে বিশেষায়িত করেন কেউ কেউ। একই সঙ্গে সাঈদীর ফাঁসির রায় দিলে তার জন্য রক্ত ও জীবন দিতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এসব তথাকথিত আলেমরা। ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় দেয়ার পর স্থানীয় জামায়াত-শিবিরি গুজব ছড়িয়ে দেয় হিন্দুদের সাক্ষীর কারণে সাঈদীর ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। এ গুজব ছড়িয়ে হিন্দুদের রক্ষা নাই স্লোগান দিতে থাকে। এ গুজবটি ছড়িয়ে তারা নিজেরা সংগঠিত হয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় বিএনপি কিছু-নেতাকর্মী। এমন গুজব আর গত দুইদিন ওয়াজের কারণে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ নীরব হয়ে যায়। এই সুযোগ নিয়ে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আলাদি গ্রামের হিন্দু বাড়িতে হামলা চালায় তারা। হামলার সময় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা, তিনভাগে কাজ করে। একটি গ্রুপ ছিল অগ্নিসংযোগের দায়িত্বে। অগ্নিসংযোগের আগে তারা গানপাওডার ছিটিয়ে দেয়। এর আগে একটি গ্রুপ ঘরের টিনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি দেখে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণ ভয়ে যখন পালাতে থাকে তখন একটি গ্রুপ লুটপাটের কাজটি শুরু করে। বিমল কান্তি ঠাকুর বাড়ির একটি ঘর থেকে তিন ভরি স্বর্ণ এবং নগদ চার লাখ টাকা নিয়ে যায়। আরও তিন লাখ ৩৩ হাজার টাকা পোড়া যায় ঘরের মালিকের। এ ছাড়া গঙ্গাপ্রসাদ ভুইয়া বাড়ির শ্যামলী চৌধুরীর ঘর থেকে নগদ ৫০ হাজার এবং সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ এবং রূপা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ দুই ঘরের মতো আলাদী গ্রামের যতটি বাড়িতে ২৮ ফেব্রুয়ারি আগুন দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা সবগুলো ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়। শনিবার নির্যাতিতদের সঙ্গে কথা বলে এসব খবর জানা যায়। তারা বলেন, হামলায় স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাদের পাশাপাশি অনেকগুলো অপরিচিত মুখ তারা দেখছেন। তবে সবাই পাঞ্জাবী, পায়জামা পরা। অপরিচিতদের বেশিরভাগের বয়স ২২ বছরের নীচে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাণ্ডব পূর্বকল্পিত হওয়ার কারণে স্থানীয়রা এলাকার বাইরের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আগ থেকে নিয়ে এসেছে। তাছাড়া গানপাউডার, অস্ত্র, বড় বড় লাঠিসোটা ব্যবহার করা হয়। হামলার আগে আলাদী গ্রামে প্রবেশ পথের সড়কগুলোতে গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। যেন আইন-শৃখলা বাহিনী প্রবেশ করতে না পারে। যার কারণে যতগুলো বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে সবগুলো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাছাড়া ওই এলাকার ৭টি মন্দির ভাংচুর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় হিন্দুদের সাক্ষীতে সাঈদীর ফাঁসির রায় হয়েছে গুজব এবং গত দু’দিনের ওয়াজে সাঈদীর সাফাইর কারণে সাধারণ মানুষ হিন্দুদের পক্ষে অবস্থান নেয়া থেকে বিরত ছিল। তাছাড়া প্রতিবেশী যেসব মুসলিম হিন্দুদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আগ্রহ দেখিয়েছে তাদের ওপর চড়াও হয় হামলাকারী জামায়াত-শিবির। ওই সময় তারা স্লোগান দেয়, ‘সাঈদীর বাংলায়, হিন্দুদের ঠাই নাই’ হিন্দুদের রক্ষা নেই। ‘সাঈদীর ফাঁসি হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। এই রকম আরও অনেক স্লোগান দেয়া হয়। এছাড়া ঘরে ও মন্দিরে আগুন দেয়ার আগে আল্লাহু আকবার বলে একসঙ্গে স্লোগান দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা।
দৈনিক জনকণ্ঠ। লিংক
নোয়াখালীর সন্ত্রাস কবলিত গ্রাম থেকে ফিরে
মহিউদ্দিন আহমেদ, নোয়াখালী রাজাগঞ্জ থেকে ফিরে ॥ নোয়াখালী রাজাগঞ্জ এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়ি ঘরে তাণ্ডবলীলা ছিল পরিকল্পিত। ঘটনার আগে দু’দিনব্যাপী ওই এলাকায় জামায়াত সাঈদীর সাফাই ওয়াজের আয়োজন করে। ওয়াজে বক্তারা সাঈদীর জন্য রক্ত ও জীবন দিতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান স্থানীয়দের। জামায়াতের তথাকথিত আলেমদের উস্কানিতে হিন্দুদের সাক্ষ্যে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসি হয়েছে গুজব ছড়িয়ে আলাদি নগর গ্রামে হামলা করে স্থানীয় জামায়াত-শিবির। হামলাকারীরা গানপাউডারসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে সন্ত্রাস তাণ্ডব চালায়। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে একটি গ্রুপ ঘরে ঘরে অগ্নিসংযোগ করে, আরেকটি গ্রুপ লুটপাট, তৃতীয় গ্রুপের দায়িত্ব ছিল নির্যাতন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্মম ঘটনার নেপথ্যের এসব ঘটনা জানা গেছে।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধীতাকারী, মানবতাবিরোধী অপরাধের অপরাধী, জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীরসহ চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ বানচাল করতে নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত-শিবির। নোয়াখালীর রাজাগঞ্জের আলাদী নগর গ্রামের হিন্দু সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, মন্দির ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনাটি তারই ধারাবাহিক একটি ঘটনা বলে জানান স্থানীয়রা। তারা জানান, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানাধীন রাজাগঞ্জ আলাদী নগর গ্রামটি শহর থেকে দূরে। ওই এলাকায় হিন্দু পাড়াটিতে শহর থেকে পৌছতে প্রায় একঘণ্টা সময় লাগে। তাই উগ্র, ধর্মান্ধ তথাকথিত ইসলামী দল জামায়াত এই এলাকাটির সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাড়তি শক্তি হিসেবে সঙ্গে পায় স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতাকর্মী। লক্ষ্য বাস্তবায়নে জামায়াত-বিএএনপির নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করতে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি, দু’দিনব্যাপী ওয়াজের আয়োজন করে ইসলামী পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ পরিষদ। এই দুটি সংগঠন জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এবং জামায়াত নেতারা পরিচালনা করেন। রাজাগঞ্জ হাইস্কুল ময়দানে অনুষ্ঠিত ওয়াজে দলীয় স্বার্থসিদ্ধি ও সাঈদীর সাফাই সংক্রান্ত তাফসির করেন নির্ধারিত তথাকথিত আলেমরা। তাদের মধ্যে ছিলেন, মাওলানা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি ঢাকা থাকেন। কুমিল্লার চান্দিনা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আনম মাইন উদ্দিন সিরাজী, বাংলাদেশ ইসলামীক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক ড. মতিউল ইসলাম। তাদের কেউ কেউ তিনটি বেসরকারী টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচনা করেন। ওয়াজের প্রথমদিন ধর্মীয় বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা করলেও শেষদিন তারা মতলববাজি রাস্তা ধরেন বলে জানান, স্থানীয়রা। তারা জানান, শেষদিন ওয়াজের শেষদিকে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে অনেক উস্কানিমূলক আলোচনা করা হয়। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রকৃত আলেম, আন্তর্জাতিকমানের আলেম- ইসলামী চিন্তাবিদসহ বিভিন্ন বিশ্লেষণে বিশেষায়িত করেন কেউ কেউ। একই সঙ্গে সাঈদীর ফাঁসির রায় দিলে তার জন্য রক্ত ও জীবন দিতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এসব তথাকথিত আলেমরা। ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় দেয়ার পর স্থানীয় জামায়াত-শিবিরি গুজব ছড়িয়ে দেয় হিন্দুদের সাক্ষীর কারণে সাঈদীর ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। এ গুজব ছড়িয়ে হিন্দুদের রক্ষা নাই স্লোগান দিতে থাকে। এ গুজবটি ছড়িয়ে তারা নিজেরা সংগঠিত হয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় বিএনপি কিছু-নেতাকর্মী। এমন গুজব আর গত দুইদিন ওয়াজের কারণে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ নীরব হয়ে যায়। এই সুযোগ নিয়ে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আলাদি গ্রামের হিন্দু বাড়িতে হামলা চালায় তারা। হামলার সময় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা, তিনভাগে কাজ করে। একটি গ্রুপ ছিল অগ্নিসংযোগের দায়িত্বে। অগ্নিসংযোগের আগে তারা গানপাওডার ছিটিয়ে দেয়। এর আগে একটি গ্রুপ ঘরের টিনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি দেখে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণ ভয়ে যখন পালাতে থাকে তখন একটি গ্রুপ লুটপাটের কাজটি শুরু করে। বিমল কান্তি ঠাকুর বাড়ির একটি ঘর থেকে তিন ভরি স্বর্ণ এবং নগদ চার লাখ টাকা নিয়ে যায়। আরও তিন লাখ ৩৩ হাজার টাকা পোড়া যায় ঘরের মালিকের। এ ছাড়া গঙ্গাপ্রসাদ ভুইয়া বাড়ির শ্যামলী চৌধুরীর ঘর থেকে নগদ ৫০ হাজার এবং সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ এবং রূপা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ দুই ঘরের মতো আলাদী গ্রামের যতটি বাড়িতে ২৮ ফেব্রুয়ারি আগুন দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা সবগুলো ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়। শনিবার নির্যাতিতদের সঙ্গে কথা বলে এসব খবর জানা যায়। তারা বলেন, হামলায় স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাদের পাশাপাশি অনেকগুলো অপরিচিত মুখ তারা দেখছেন। তবে সবাই পাঞ্জাবী, পায়জামা পরা। অপরিচিতদের বেশিরভাগের বয়স ২২ বছরের নীচে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাণ্ডব পূর্বকল্পিত হওয়ার কারণে স্থানীয়রা এলাকার বাইরের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আগ থেকে নিয়ে এসেছে। তাছাড়া গানপাউডার, অস্ত্র, বড় বড় লাঠিসোটা ব্যবহার করা হয়। হামলার আগে আলাদী গ্রামে প্রবেশ পথের সড়কগুলোতে গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। যেন আইন-শৃখলা বাহিনী প্রবেশ করতে না পারে। যার কারণে যতগুলো বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে সবগুলো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাছাড়া ওই এলাকার ৭টি মন্দির ভাংচুর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় হিন্দুদের সাক্ষীতে সাঈদীর ফাঁসির রায় হয়েছে গুজব এবং গত দু’দিনের ওয়াজে সাঈদীর সাফাইর কারণে সাধারণ মানুষ হিন্দুদের পক্ষে অবস্থান নেয়া থেকে বিরত ছিল। তাছাড়া প্রতিবেশী যেসব মুসলিম হিন্দুদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আগ্রহ দেখিয়েছে তাদের ওপর চড়াও হয় হামলাকারী জামায়াত-শিবির। ওই সময় তারা স্লোগান দেয়, ‘সাঈদীর বাংলায়, হিন্দুদের ঠাই নাই’ হিন্দুদের রক্ষা নেই। ‘সাঈদীর ফাঁসি হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। এই রকম আরও অনেক স্লোগান দেয়া হয়। এছাড়া ঘরে ও মন্দিরে আগুন দেয়ার আগে আল্লাহু আকবার বলে একসঙ্গে স্লোগান দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা।
দৈনিক জনকণ্ঠ। লিংক
২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তি বিএনপি কর্তৃক সাম্প্রদায়িক হামলার কয়েকটি ঘটনা
মুক্তমনা ওয়েবসাইটের "ফিরে দেখা ২০০১ সাল এবং যুদ্ধাপরাধী প্রেমিক বিএনপি" নামক লেখাতে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি এর দ্বারা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর নির্যাতনের কয়েকটি খবর পাওয়া গেল। প্রাসঙ্গিক হওয়ায় লেখাটির নির্বাচিত অংশ এখানে প্রকাশ করা হল।
৪ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
বরিশালে বিএনপির দখল অভিযান।
বরিশাল অফিস: সরকার গঠনের আগেই বরিশালে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দখল অভিযানে নেমেছে বিএনপি। গতকাল রাত থেকে শহরের কয়েকটি আওয়ামী লীগ অফিস ক্লাব দখল করে নিয়েছে বিএনপির ক্যাডাররা। এছাড়াও শহরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকা থেকেও বিএনপি কর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে শহরের ভাটিখানা ও কাউনিয়া এলাকায় বেশ কিছু হিন্দু পরিবারকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকরা বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৮ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
সরিষাবাড়ীতে বিএনপির নির্বাচনোত্তর তাণ্ডব।
আ.লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সংখ্যালঘুরা ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে।
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর প্রতিনিধি জানা, জেলার সরিষাবাড়ীতে নির্বাচনোত্তর বিএনপির সন্ত্রাসী তাণ্ডবলীলা, লুট ও হুমকি ধামকি অব্যাহত রয়েছে। ওই সন্ত্রাসের শিকায় হয়ে অনেক আওয়ামি লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এলাকা ছেড়ে জামালপুর শহরসহ সরিষাবাড়ির আশেপাশে আশ্রয় নিচ্ছে। তাদের অভিযোগ থানা পুলিশ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সরিষাবাড়ীর পিংনা ইউনিয়নের বাড়ইপটল গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য সুলীল চন্দ্র ঘোষ গত শনিবার রাতে এ প্রতিনিধিকে জানান বিএনপির স্থানীয় ২০/২৫ জন সশস্ত্র যুবক গত ২ অক্টোবর সকালে মিছিল নিয়ে গিয়ে তার বাড়িতে চড়াও হয়। পরদিন সন্ত্রাসীরা বাড়ইপটল বাজারের রিন্টু ঠাকুর ও লিচু মিয়ার দুটি কাপড়ের দোকান ও মোতালেবের মনোহারী দোকানে ভাঙচুর লুটপাট করে। বাড়ইপটল এলাকায় ২২৫ জন সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন। সন্ত্রাসীরা তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে আতঙ্গে অনেকে গ্রাম ছেড়ে শহরে আশ্রয় নিচ্ছে।
৯ অক্টোবর ২০০১ মঙ্গবার প্রথম আলো
আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুরা অসহায়
বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় নির্যাতিন অব্যাহত, প্রশাসন নীরব
তৌফিক মারুফ, বরিশাল: বরিশাল জেলাসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভোটের পরদিন থেকে আওয়ামী লীগ কর্মী, সমর্থকদের উপর একের পর এক হামলা, বাড়িঘর দোকারপাট ভাঙচুর লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। এসব সহিংসতা বন্ধে প্রশাসন থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরিশালের উজিরপুরে শুধু আওয়ামী লীগই নয় ওয়ার্কাস পার্টি, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপরও চলছে নির্যাতন। কেবল হামলা, ভাঙচুর, লুট বা হুমকিই নয়, নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে গেছে ভোটের দিন থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা।
১০ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
লুটপাটের পর বাড়ির সামনে ‘বিক্রি হবে’ সাইনবোর্ড!
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনে স্থানীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও লুটপাটের কারণে তারা প্রাণ বাঁচাতে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সদর উপজেলার চরাঞ্চল নলবিনিয়াকান্দিতে বিএনপি সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে সংখ্যালঘুদের গরু-ছাগল ও নৌকাসহ সব কিছু লুট করে নিয়ে যায়।
১২ অক্টোবর ২০০১ আজকের কাগজ
গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় নির্বাচনী বিজয়ের পাশবিক উল্লাস, প্রশাসন নীরব
কাগজ প্রতিনিধি: অষ্টম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আগেই গৌরনদী আগৈলঝাড়ায় যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্ম ও সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন ও সন্ত্রাস শুরু হয়েছে, নির্বাচনের পর তা আরো বেড়ে গেছে। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ নেত-কর্মীরা কেউ কেউ নির্যাতনের শিকার হয়ে আবার কেউ কেউ নির্যাতনের আশঙ্কায় ভীত সন্ত্রাস্তভাবে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে গৃহবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। গৌরনদী-আগৈলঝাড়া থানার বিভিন্ন গ্রামে লুট-পাট, অগ্নিসংযোগ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায় গৌরনদী থানায় বিএনপির কতিপয় নেতা-কর্মী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা পার্টির জিয়া গ্রুপের আঞ্চলিক নেতা রেজাউল করিম, সেকান্দার মৃধা, জাহাঙ্গির মৃধা ও জাহাঙ্গির গোমস্তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার নিপীড়ন চালাচ্ছে, এরা চাঁদাবাজি লুটপাট, ধর্ষণসহ গরুছাগল পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।
১২ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
বরিশালের হিজলায় বিএনপি ক্যাডারদের দাপট
গ্রামছাড়া নিতাই মায়ের মৃত্যুর খরব পেয়েও ঘরে ফিরতে পারেননি।
বরিশাল অফিস: বরিশালের হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজারের ক্ষুদ্র সেলুন ব্যবসায়ী নিতাই শীল বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে শেষ দেখাও করতে পারেননি। ধর্মীয় বিধান অনুসারে মায়ের মৃত্যুর পর শেষ কৃত্যানুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেন নি তিনি। বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে গ্রাম ছাড়া করেই ক্ষান্ত হয় নি, উপরন্ত মায়ের মৃত্যুর পর নিতাইকে নিজ গ্রামে ঢুকতে দেয়নি।
২০ অক্টোবর ২০০১ জনকণ্ঠ
নির্বাচনের পর নির্যাতন। পার্বতীপুর নৌকার সমর্থকরা হাটে যেতে না পেরে বসিয়েচে আলাদা বাজার
পার্বতীপুর, ১৯ অক্টোবর, সংবাদদাতা: নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় পার্বতীপুরের পরিস্থিতি এখনও অশান্ত ও উত্তপ্ত। আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে। সুযোগ পেলেই নৌকার সমর্থক বলে তাদের মারধর করা হচ্ছে। এই অত্যাচারে শেষ পর্যন্ত বাজার-হাট করার জন্য আলাদাভাবে বাজার বসানো হয়েছে।
৭ নভেম্বর ২০০১ আজকের কাগজ
মীরসরাই দাশপাড়ায় মধ্যরাতে বিএনপি সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব। নিহত ১ আহত ৩০
চট্টগ্রাম অফিস: মীরসরাই উপজেলার মিঠানালার দাশপাড়ায় সোমবার মধ্যরাতে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় আওয়ামী লীগ কর্মী সুনিল দাস সাধু (২৮) নিহত এবং প্রায় ৩০ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছে। জানা গেছে হামলা ও লুটপাটে ৫১টি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
১৭ নভেম্বর ২০০১ যুগান্তর
চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে অধ্যক্ষ গোপাল মুহুরীকে গুলি করে হত্যা
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জামাত-শিবির ক্যাডাররা জড়িত, পুলিশ
চট্টগ্রাম ব্যুরো: গতকাল শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টায় নগরীর কেন্দ্রস্থল জামাতখান রোডে নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হয়েছে হাটহাজারী উপজেলা নাজিরহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ গোপালকৃষ্ণ মুহুরী (৫৮)। সস্ত্রাসীরা সকালে তার বাসায় ঢুকে মাথায় রাইফেল ঠেকিয়ে গুলি করে তাকে তাকে হত্যা করার পর বেবিট্যাক্সি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
১২ ডিসেম্বর ২০০১ জনকণ্ঠ
সাকা ক্যাডাররা পাঁচ লাখ টাকা না পেয়ে অপহরণ করেছে নলিনী মাস্টারকে
স্টাফ রির্পোটার, চট্টগ্রাম অফিস: রাউজানে নলিনী মাস্টার বলে পরিচিত এক ব্যক্তিতে সা’কার ক্যাডাররা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় রাউজানের ডাবুয়া এলাকার জগন্নাথহাট হতে ক্যাডাররা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
সূত্র: ফিরে দেখা ২০০১ সাল এবং যুদ্ধাপরাধী প্রেমিক বিএনপি। লিংক
৪ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
বরিশালে বিএনপির দখল অভিযান।
বরিশাল অফিস: সরকার গঠনের আগেই বরিশালে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দখল অভিযানে নেমেছে বিএনপি। গতকাল রাত থেকে শহরের কয়েকটি আওয়ামী লীগ অফিস ক্লাব দখল করে নিয়েছে বিএনপির ক্যাডাররা। এছাড়াও শহরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকা থেকেও বিএনপি কর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে শহরের ভাটিখানা ও কাউনিয়া এলাকায় বেশ কিছু হিন্দু পরিবারকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকরা বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৮ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
সরিষাবাড়ীতে বিএনপির নির্বাচনোত্তর তাণ্ডব।
আ.লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সংখ্যালঘুরা ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে।
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর প্রতিনিধি জানা, জেলার সরিষাবাড়ীতে নির্বাচনোত্তর বিএনপির সন্ত্রাসী তাণ্ডবলীলা, লুট ও হুমকি ধামকি অব্যাহত রয়েছে। ওই সন্ত্রাসের শিকায় হয়ে অনেক আওয়ামি লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এলাকা ছেড়ে জামালপুর শহরসহ সরিষাবাড়ির আশেপাশে আশ্রয় নিচ্ছে। তাদের অভিযোগ থানা পুলিশ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সরিষাবাড়ীর পিংনা ইউনিয়নের বাড়ইপটল গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য সুলীল চন্দ্র ঘোষ গত শনিবার রাতে এ প্রতিনিধিকে জানান বিএনপির স্থানীয় ২০/২৫ জন সশস্ত্র যুবক গত ২ অক্টোবর সকালে মিছিল নিয়ে গিয়ে তার বাড়িতে চড়াও হয়। পরদিন সন্ত্রাসীরা বাড়ইপটল বাজারের রিন্টু ঠাকুর ও লিচু মিয়ার দুটি কাপড়ের দোকান ও মোতালেবের মনোহারী দোকানে ভাঙচুর লুটপাট করে। বাড়ইপটল এলাকায় ২২৫ জন সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন। সন্ত্রাসীরা তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে আতঙ্গে অনেকে গ্রাম ছেড়ে শহরে আশ্রয় নিচ্ছে।
৯ অক্টোবর ২০০১ মঙ্গবার প্রথম আলো
আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুরা অসহায়
বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় নির্যাতিন অব্যাহত, প্রশাসন নীরব
তৌফিক মারুফ, বরিশাল: বরিশাল জেলাসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভোটের পরদিন থেকে আওয়ামী লীগ কর্মী, সমর্থকদের উপর একের পর এক হামলা, বাড়িঘর দোকারপাট ভাঙচুর লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। এসব সহিংসতা বন্ধে প্রশাসন থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরিশালের উজিরপুরে শুধু আওয়ামী লীগই নয় ওয়ার্কাস পার্টি, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপরও চলছে নির্যাতন। কেবল হামলা, ভাঙচুর, লুট বা হুমকিই নয়, নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে গেছে ভোটের দিন থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা।
১০ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
লুটপাটের পর বাড়ির সামনে ‘বিক্রি হবে’ সাইনবোর্ড!
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনে স্থানীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও লুটপাটের কারণে তারা প্রাণ বাঁচাতে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সদর উপজেলার চরাঞ্চল নলবিনিয়াকান্দিতে বিএনপি সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে সংখ্যালঘুদের গরু-ছাগল ও নৌকাসহ সব কিছু লুট করে নিয়ে যায়।
১২ অক্টোবর ২০০১ আজকের কাগজ
গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় নির্বাচনী বিজয়ের পাশবিক উল্লাস, প্রশাসন নীরব
কাগজ প্রতিনিধি: অষ্টম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আগেই গৌরনদী আগৈলঝাড়ায় যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্ম ও সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন ও সন্ত্রাস শুরু হয়েছে, নির্বাচনের পর তা আরো বেড়ে গেছে। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ নেত-কর্মীরা কেউ কেউ নির্যাতনের শিকার হয়ে আবার কেউ কেউ নির্যাতনের আশঙ্কায় ভীত সন্ত্রাস্তভাবে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে গৃহবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। গৌরনদী-আগৈলঝাড়া থানার বিভিন্ন গ্রামে লুট-পাট, অগ্নিসংযোগ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায় গৌরনদী থানায় বিএনপির কতিপয় নেতা-কর্মী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা পার্টির জিয়া গ্রুপের আঞ্চলিক নেতা রেজাউল করিম, সেকান্দার মৃধা, জাহাঙ্গির মৃধা ও জাহাঙ্গির গোমস্তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার নিপীড়ন চালাচ্ছে, এরা চাঁদাবাজি লুটপাট, ধর্ষণসহ গরুছাগল পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।
১২ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
বরিশালের হিজলায় বিএনপি ক্যাডারদের দাপট
গ্রামছাড়া নিতাই মায়ের মৃত্যুর খরব পেয়েও ঘরে ফিরতে পারেননি।
বরিশাল অফিস: বরিশালের হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজারের ক্ষুদ্র সেলুন ব্যবসায়ী নিতাই শীল বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে শেষ দেখাও করতে পারেননি। ধর্মীয় বিধান অনুসারে মায়ের মৃত্যুর পর শেষ কৃত্যানুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেন নি তিনি। বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে গ্রাম ছাড়া করেই ক্ষান্ত হয় নি, উপরন্ত মায়ের মৃত্যুর পর নিতাইকে নিজ গ্রামে ঢুকতে দেয়নি।
২০ অক্টোবর ২০০১ জনকণ্ঠ
নির্বাচনের পর নির্যাতন। পার্বতীপুর নৌকার সমর্থকরা হাটে যেতে না পেরে বসিয়েচে আলাদা বাজার
পার্বতীপুর, ১৯ অক্টোবর, সংবাদদাতা: নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় পার্বতীপুরের পরিস্থিতি এখনও অশান্ত ও উত্তপ্ত। আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে। সুযোগ পেলেই নৌকার সমর্থক বলে তাদের মারধর করা হচ্ছে। এই অত্যাচারে শেষ পর্যন্ত বাজার-হাট করার জন্য আলাদাভাবে বাজার বসানো হয়েছে।
৭ নভেম্বর ২০০১ আজকের কাগজ
মীরসরাই দাশপাড়ায় মধ্যরাতে বিএনপি সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব। নিহত ১ আহত ৩০
চট্টগ্রাম অফিস: মীরসরাই উপজেলার মিঠানালার দাশপাড়ায় সোমবার মধ্যরাতে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় আওয়ামী লীগ কর্মী সুনিল দাস সাধু (২৮) নিহত এবং প্রায় ৩০ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছে। জানা গেছে হামলা ও লুটপাটে ৫১টি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
১৭ নভেম্বর ২০০১ যুগান্তর
চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে অধ্যক্ষ গোপাল মুহুরীকে গুলি করে হত্যা
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জামাত-শিবির ক্যাডাররা জড়িত, পুলিশ
চট্টগ্রাম ব্যুরো: গতকাল শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টায় নগরীর কেন্দ্রস্থল জামাতখান রোডে নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হয়েছে হাটহাজারী উপজেলা নাজিরহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ গোপালকৃষ্ণ মুহুরী (৫৮)। সস্ত্রাসীরা সকালে তার বাসায় ঢুকে মাথায় রাইফেল ঠেকিয়ে গুলি করে তাকে তাকে হত্যা করার পর বেবিট্যাক্সি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
১২ ডিসেম্বর ২০০১ জনকণ্ঠ
সাকা ক্যাডাররা পাঁচ লাখ টাকা না পেয়ে অপহরণ করেছে নলিনী মাস্টারকে
স্টাফ রির্পোটার, চট্টগ্রাম অফিস: রাউজানে নলিনী মাস্টার বলে পরিচিত এক ব্যক্তিতে সা’কার ক্যাডাররা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় রাউজানের ডাবুয়া এলাকার জগন্নাথহাট হতে ক্যাডাররা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
সূত্র: ফিরে দেখা ২০০১ সাল এবং যুদ্ধাপরাধী প্রেমিক বিএনপি। লিংক
Subscribe to:
Posts (Atom)













