ওরা কেন বারবার আশ্রয়হীন হবে?

ওরা কেন বারবার আশ্রয়হীন হবে?

সংখ্যালঘুদের বিড়ম্বনা
জয়নুল আবেদীন

সন্ত্রাসের জনপদ কালিয়াকৈর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলের পর প্রায় দু’বছর এ সরকারের আমলে শান্ত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি জরুরি অবস্থার মধ্যেও হযরত আলীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কালিয়াকৈর উপজেলার সাহেবাবাদ গ্রামসহ আশপাশের দু’তিন গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হিংস্র হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১০ সেপ্টেম্বর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ইটিভির সচিত্র প্রতিবেদনে ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করলাম। শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙেচুরে-মারপিট করে অর্থসম্পদ লুটে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় শাসিয়ে যায় তিনদিনের মধ্যে দেশ ছেড়ে ভারতে না গেলে ‘কল্লা কেটে নেব’। সন্ত্রাসীদের হাতে তাদের পূজামণ্ডপগুলোও রেহাই পায়নি। সেখানে গৃহবধূ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পড়ূয়া মেয়েরা সন্ত্রাসীদের ভয়ে তটস্থ। ছাত্রীরা সস্ত্রাসীদের ভয়ে স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ কোন মগের মুল্লুকে বাস করছি আমরা?

জরুরি অবস্থার মধ্যেই যখন এ অবস্থা, তখন জরুরি অবস্থা উঠে গেলে কী অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমেয়। বাপ-দাদার চৌদ্দপুরুষের ভিটা ছেড়ে কেন তারা পরবাসী হবে? গৌরনদী-আগৈলঝাড়া এলাকায় জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের ক্যাডার বাহিনী ২০০১ সালে নির্বাচনী বিজয় উৎসব করতে গিয়ে নজিরবিহীন নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছিল। সেই জনপদে কিছুদিন আগে সন্ত্রাসীরা নারীর সম্ভ্রমহানির যে ঘটনা ঘটিয়েছিল, তা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করতে ড. কামাল হোসেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নেত্রী ও সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল এবং কয়েকজন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী গিয়েছিলেন। প্রশাসনের মধ্যে যাদের মামলা নিতে অনীহা ছিল, তারা বাধ্য হয়েছিল মামলা গ্রহণ করতে। মনীষী মাইকেল জোন্সের একটি বিখ্যাত উক্তি মনে পড়ল, ‘নির্বাচিত সরকার যখন স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে তখন তার চেয়ে ভয়াবহ আর কিছু হতে পারে না।’ দেশবাসী বিগত জোট সরকারের শাসনামলে ওই উক্তির সারবত্তা সঠিকভাবেই উপলব্ধি করেছে।

৩১ আগস্ট সমকালের শীর্ষ খবর ছিল ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা দেশে আসা-যাওয়া করছে’। মনে হয়, নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা খোঁজ-খবর নিতে আসে এবং তাদের বাহিনীর কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে আবার গোপন আস্তানায় ফিরে যায়। আসন্ন নির্বাচনে কিংবা নির্বাচনোত্তর সেই ভয়াবহ উল্লাস শুরু হয় কি-না এ শঙ্কা তাড়া করে। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত ও প্রায় তিন লাখ নারীর সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে এবং অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের মাধ্যমে যে লাল-সবুজ পতাকার দেশটি পেলাম, সে দেশ তো সব মানুষের। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই তো একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও ক্ষমতাবানদের এমন সর্বগ্রাসী উন্মত্ততা ২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর নারকীয় নির্যাতনে প্রত্যক্ষ করলাম। সভ্য সমাজের সর্বজনীন স্বীকৃত মানদণ্ডগুলো, মানুষের জীবন ও সম্পদ এবং নারীর সম্ভ্রম-মর্যাদা-মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, রাজনৈতিক, ধর্মীয় নৃতাত্ত্বিক স্বাধীনতা কেন ভূলুণ্ঠিত হলো? রাউজানের অনাথ আশ্রমের শান্তির দূত বৌদ্ধভিক্ষু জ্ঞানজ্যোতি মহাথেরো ও মানিকছড়ির হিন্দু পুরোহিত মদন গোপাল গোস্বামীকে কারা হত্যা করেছিল? কেন আমাদের প্রিয় সহকর্মী সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীকে জামায়াত ক্যাডাররা হত্যা করল? এরা তো সবার নমস্য ও সব দলাদলির ঊর্ধ্বে। আমাদের আরেক শিক্ষক নেতা মাগুরার শালিখা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ রায়কে রাজনৈতিক ক্যাডাররা নৃশংসভাবে নির্যাতন করে দুই পা ও ডান হাত ভেঙে পঙ্গু করেছিল। তার অপরাধ- তিনি মিথ্যা কথা বলতে পারেননি। ক্যাডারদের জিজ্ঞাসার উত্তরে বলেছিলেন, লীগকে ভোট দিয়েছি।

উজিরপুর, গৌরনদী, আগৈলঝাড়ার স্কুলপড়ূয়া তের-চৌদ্দ বছরের ছাত্রীসহ অধিকাংশ গৃহবধূ গোপালগঞ্জের রামশিলে আশ্রয় নিল। তারপরও ওরা রক্ষা করতে পারেনি সম্ভ্রম। ভোলার ৮ বছরের মেয়ে রিনা পালিয়েও রক্ষা পায়নি। হার্ডিঞ্জের অর্ধবয়সী এক পা খোঁড়া শেফালী পালাতে না পারায় গণধর্ষণের শিকার হন। আগৈলঝাড়ার সম্মানিত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রেনুকা অধিকারীর আর্তচিৎকারে তার সর্বস্বহরণের কাহিনী বর্ণনা আর উল্লাপাড়ার দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাহসিকা পূর্ণিমা ঢাকায় এসে সংবাদ সম্মেলন করে নররূপী পশুদের নির্যাতনের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর মানুষ জেনেছে। এক শিক্ষকের কন্যা ফাহিমা ধর্ষিত হওয়ার পর রাগে-দুঃখে-ক্ষোভে আত্মহত্যা করে প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছে। এমনি করে মহিমা, ইন্দ্রানি ও সিমি একগুচ্ছ ফুটন্ত ফুল আত্মহনন করে প্রতিবাদের ভাষা বেছে নিল। এসবই আমাদের ইতিহাসের কলঙ্কিত অংশ।
গণতন্ত্রের মূলকথা পরমতসহিষ্ণুতা। কেউ কেউ গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা দিয়েছেন- ভয়শূন্য সমাজব্যবস্থা।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির’। শির উঁচু করে রাখতে পারাই গণতন্ত্র। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনের কথায়- ‘গণতন্ত্র ফিরে এলে দেশের উন্নতি হবে।’ আমরা কি ভয়শূন্য সমাজব্যবস্থার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হতে পারি? যারা লালন করেছে সন্ত্রাসী এবং ২০০১ সালে যাদের ইঙ্গিতে বিজয়ের বীভৎস ও নিষ্ঠুর আনন্দে মেতে উঠেছিল তাদের ক্যাডার বাহিনী, রাজনীতির মঞ্চে তাদের উপস্থিতিতে কি গণতন্ত্র ফিরে আসবে? কালিয়াকৈরের হযরত আলী ও তার সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। বাল্যবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধা অশোক, বিপ্রদাস, বিজয়সহ আরো অনেককে হারিয়েছি। আর যেন আমাদের বন্ধু, ভগ্নি, কন্যা, জায়া-জননীকে পরবাসী হতে না হয়। রাষ্ট্রে বসবাসকারী সব নাগরিকের অধিকার সমান। আইনের শাসন সবার জন্য সমভাবে চলুক।
লেখক : শিক্ষা গবেষক

সমকাল, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

ফরিদপুরে মন্দির থেকে ৪টি বিগ্রহ চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
ফরিদপুর শহরের শোভারামপুর এলাকায় রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকে বৃহস্পতিবার রাতে অষ্টধাতুর তৈরি চারটি বিগ্রহ চুরি হয়েছে। স্বর্ণালঙ্কার পরিহিত শ্রীকৃষ্ণ, শ্রী রাধা, শ্রী গৌর ও শ্রী প্রভুপদের এই চুরি যাওয়া বিগ্রহগুলোর মূল্য প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। ইসকন পরিচালিত এই মন্দিরের পূজারি বলরামকৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী শুক্রবার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় এ ব্যাপারে একটি চুরি মামলা দায়ের করেছেন।

সমকাল, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

ফরিদপুরে মন্দিরে ঢুকে মূর্তি ভাংচুর

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর, ১৪ সেপ্টেম্বর।।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গ্রামে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা শনিবার গভীর রাতে এক মন্দিরে ঢুকে ৫টি মূর্তি ভাংচুর করেছে। এ ব্রাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের কীর্ত্তনিয়াপাড়া বটতলা সার্বজনীন রাধা গোবিন্দ মন্দিরে শনিবার গভীর রাতে একদল অজ্ঞাত সন্ত্রাসী ঢুকে মন্দিরের দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের নির্মাণাধীন মূর্তি ভাংচুর করে পালিয়ে যায়। সকালে এলাকার লোকজন মন্দিরে এসে দেখে মন্দিরের মূর্তিগুলো ভাঙ্গা। দুর্বুত্তরা মূর্তিগুলোর হাত ও মাথা ভেঙ্গে রেখে এবং কিছু অংশ নিয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে মন্দির কমিটির পরিতোষ কুমার কীর্ত্তীনিয়া জানান, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মন্দিরের মূর্তিগুলো ভাংচুর করে।

দৈনি জনকণ্ঠ, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

বগুড়ায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস।। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় এক জামায়াত নেতার হুমকি ও হামলার মুখে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় অসহায় হয়ে পড়েছে এক সংখ্যালঘু পরিবার। জামায়াত নেতা তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে বেড়া ও প্রাচীর তুলে অসহায় পরিবারটির ভূসম্পত্তি গ্রাসের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শনিবার বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। তবে জামায়াত নেতা আজাদুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অভিযোগ করা হয়েছে, উপজেলার মাদলা গ্রামের স্বপন কুমার কুণ্ডুর প্রায় সাড়ে ১৫ শতক জায়গা প্রভাবশালী জামায়াত নেতা দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা করছে। ইতোপূর্বে কিছু জমি দখলও করেছে আজাদুর রহমান। গত বছর জামায়াত নেতা জোরপূর্বক ঐ জায়গায় গাছ কেটে প্রাচীর নির্মাণ করে। এ ছাড়া জামায়াত নেতা রাস্তার ওপর ঘর তুলে চলাচলও বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে জায়গা দখল ও জোরপূর্বক প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। চলতি বছরে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এই রিপোর্ট দাখিল করেন। পরবর্তী উপজেলা প্রশাসন জামায়াত নেতা আজাদুর রহমানকে দখল ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অভিযোগ করা হয়েছে, এ পরিস্থিতিতে ৬ সেপ্টেম্বর জামায়াত নেতা তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক আবার জায়গা দখলের জন্য হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হয়। স্বপন কুমার কুণ্ডু তার পরিবারেরর নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, জামায়াত নেতার নির্যাতনের কারণে মাদলা গ্রামে পরিবার নিয়ে বাস করতে তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে জামায়াত নেতা আজাদুর রহমান জানায়, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সত্য নয়। সে নিজে নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে।

দৈনিক জনকণ্ঠ, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

দর্শনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে দুইজন আটক

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখের ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত খবর। লিংক
।। দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা ।।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে গত সোমবার গভীর রাতে দর্শনা পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা কোরআন শরীফের পাতা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে। পুলিশ জানায়, ঐ দিন রাতে তারাবির নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লিরা প্রথমে আনোয়ারপুর গ্রামের যুবক আনোয়ারকে (২০) এবং পরে ওলু হোসেনকে (৬০) ধরে ঘটনা জানতে চায়। তারা সবকিছু স্বীকার করলে গণপিটুনি শুরু হয়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় জনতা শাস্তির দাবিতে শ্লোগান দিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
লক্ষ্য করুন- ইসলাম ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার অভিযোগে যুবকদ্বয়কে অপরাধী বিবেচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশে এর আগে হিন্দু ধর্মের মন্দিরে ঢুকে মূর্তি ভাংচুর করায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে (যেমন: ঢাকার জয়কালী মন্দির)। কিন্তু তাদেরকে মানসিক রোগী সাজিয়ে আইনের হাত থেকে বাঁচানো হয়েছে। বিচারের মুখোমুখি করা হয় নাই। আসলে বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতি বলতে ইসলাম ধর্মীয় অনুভূতিকে বোঝানো হয়, অন্য ধর্ম নয়। যেন অন্য ধর্মগুলোকে আঘাত হানলে তা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হয় না।

বখাটের চুম্বন ও অধ্যক্ষের উল্টো তিরস্কারে আত্মহত্যা করে কৃষ্ণা

ঝিনাইদহে কলেজছাত্রী আত্মহনন রহস্য উদ্ঘাটিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে কলেজছাত্রী কৃষ্ণা আত্মহননের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। একই কলেজের বখাটে ছাত্র রুবেল কর্তৃক তাকে জোরপূর্বক চুম্বন এবং এর ফলে উল্টো অধ্যক্ষের তিরস্কার আর অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে কৃষ্ণা আত্মহনের পথ বেছে নেয়। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন সহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে অধ্যক্ষকে বাঁচাতে এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ সিকদার আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন তদন্তকালে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার টিকারী গ্রামের কৃত্তিবাস বিশ্বাসের একমাত্র কন্যা কৃষ্ণা টিকারী জেএম সম্মিলিত কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। সুন্দরী ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী কৃষ্ণার পেছনে অনেক যুবক ঘুরঘুর করত। এ অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর কলেজের ইংরেজি শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান চলাকালে রুবেল কৃষ্ণাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক চুম্বন করে। এই দৃশ্য দেখে ফেলে অনেক ছাত্র। কৃষ্ণার পরিবার প্রতিকার চেয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেনের নিকট আবেদন করে।

কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ৪ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ উল্টো কৃষ্ণার বিরুদ্ধে কলেজের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ এনে তাকে তিরস্কার করেন। এছাড়া অধ্যক্ষ কৃষ্ণাকে কলেজে না আসার কিংবা এলেও একা একটি বেঞ্চে বসার আদেশ দেন। এ ঘটনার পর ক্ষোভে ও অপমানে ৪ সেপ্টেম্বর রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে অভিমানী কৃষ্ণা। এলাকার প্রভাবশালী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সিকদার আত্মহত্যার বিষয়টি পেটের ব্যথাজনিত মৃত্যু বলে প্রচার করতে বাধ্য করে কৃষ্ণার পরিবারকে।

জানা যায়, এর অন্যথা হলে তাদেরকে এলাকা ছাড়া করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। সংখ্যালঘু পরিবারটি এই ভয়ে ভীত হয়ে শহীদুল ইসলামের আদেশ মেনে তার শেখানো বুলি আওড়াতে থাকে। তবে তদন্তকালে কৃষ্ণার পিসি সবিতা সত্য তথ্য প্রকাশ করে দেন। একই তথ্য দেয় কলেজের অপর ছাত্র কৃষ্ণার প্রতিবেশী প্রণব।

অন্যদিকে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলেজের অপর ছাত্র রাজিব প্রতিবাদ করায় তার সঙ্গে বিবাদ সৃষ্টি হয় বখাটে রুবেলের। তবে এত কিছু সত্ত্বেও পুরো ঘটনা অস্বীকার করেন অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন। এদিকে একটি সূত্রে জানা যায়, রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায় মৃত্যুর আগে লেখা কৃষ্ণার ৩টি চিঠি। এর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ান সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ শিকদার। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ওয়াজেদ জানান, শহীদ শিকদার কৃষ্ণার লাশ পোস্টমর্টেম ছাড়াই দাহ করার চেষ্টা চালালে তিনি শ্মশান থেকে লাশটি ফিরিয়ে এনে পোষ্টমর্টেম করান।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, বৃহস্পতিবার রাতে টিকারী গ্রামের রাজিব নামে এক যুবককে আটকের পর কৃষষ্ণার আত্মহননের মূল রহস্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এই আত্মহত্যার প্ররোচনার পেছনে অধ্যক্ষের ভূমিকা ছিল অন্যতম।

সমকাল, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

শেরপুরে জগন্নাথ দেব মন্দিরের বিপুল সম্পত্তি বেদখলের অভিযোগঃ

শেরপুর প্রতিনিধি

সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের হাওড়াগড় গ্রামের একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি স্থানীয় জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ৭ একর দেবোত্তর সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেরপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, মন্দির কমিটি ওই সম্পত্তি উদ্ধারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে।

হাওড়াগড় জগন্নাথ দেবের মন্দির কমিটির সভাপতি রবীন্দ্র চন্দ্র দাস (৭৩) ও পূজারী দিলীপ চক্রবর্তী জানান, মুক্তাগাছার মহারাজা শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী শেরপুরের হাওড়াগড় এলাকায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দিরের জন্য ৭ একর ৭ শতাংশ জমি দান করেন, যা দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে সিএস আরওআর ও বিআরএস রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। কালক্রমে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই সম্পত্তি জবরদখল করে। কেউ কেউ জাল দলিলও তৈরি করে আসছে। মন্দির কমিটির কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় প্রভাবশালীরা ১৯৮৩ সালে এবং ১৯৯২ সালে এসব জমি জবরদখল করে নেয়। সম্প্রতি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের চাপে সেলিম নামে এক জবরদখলকারী তার দখলে থাকা ২৮ শতাংশ জমি মন্দিরের অনুকূলে ফিরিয়ে দেয়। বর্তমানে সেখানেই একটি ছাপড়া ঘর তুলে জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ স্থাপন করে পূজা অর্চনা চলছে।

এদিকে মন্দির কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে শেরপুর সদর এসিল্যান্ড অফিস থেকে সরেজমিনে তদন্ত করে বেশকিছু সম্পত্তি জবরদখলের সত্যতা পাওয়া গেছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এর তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্থানীয় ডা. আবদুস সালামের জবরদখলে রয়েছে ১ দশমিক ২৭ একর, মোঃ শহীদুজ্জামান খোকার দকলে ১ দশক ৬৮ একর, আবু হায়দার আলী খানের দখলে দশমিক ৭০ একর এবং কমরুদ্দিন মাস্টারের দখলে দশমিক ৮১ একর জমি রয়েছে।

এসব জমি জবরদখলের ব্যাপারে ডা. আবদুস সালাম বলেন, ১৯৮২ সালে মন্দিরের তৎকালীন সেবায়েত বণিক্য দাস বৈরাগীর কাছ থেকে দশমিক ৯৬ একর সম্পত্তি ক্রয় করে তিনি ভোগদখল করছেন। তার বিরুদ্ধে মন্দিরের জমি জবরদখলের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শক্তিপদ পাল জানান, আমরা হাওড়াগড়ের জগন্নাথ দেবের মন্দিরের জমি উদ্ধার চাই। এ জন্য আমরা ডিসি-এসপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তারা আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

সমকাল, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৮