‘সম্পত্তি দখলের জন্যই বাঁশখালী হত্যাকাণ্ড’


চট্টগ্রাম, এপ্রিল ২৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বাঁশখালীতে ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল হাশেমের নেতৃত্বে নয়জন আইনজীবী শনিবার বাঁশখালীর সাধনপুরের শীলপাড়ায় যান। নিহতদের স্বজনরা আইনজীবীদের কাছে সেই সময়ের ঘটনার কথা তুলে ধরেন।

শীলপাড়ার নিহতদের স্বজন ও মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলার পর চট্টগ্রাম জেলা পিপি আবুল হাশেম সাংবাদিকদের বলেছেন, “নিহতদের সম্পত্তি দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্যই ২০০৩ সালে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।”

আলোচিত এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন শেষে আগামী ১৫ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার এ কার্যক্রম চলছে।

২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর গ্রামের শীলপাড়ায় তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সাত কর্মকর্তার হাত ঘুরে অষ্টম তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হ্লাচিং প্র“ গত বছরের ৯ জানুয়ারি ৩৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

তার ভিত্তিতে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগ, খুন ও লুটতরাজের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।

কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ চলতি বছরের ২৬ ফেব্র“য়ারি আগের অভিযোগ বাদ দিয়ে আসামি আমিনুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ গঠনের আবেদন জানায়।

এরপর ১৯ এপ্রিল এ হত্যা মামলায় ৩৭ আসামির বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করে আদালত।

তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় এ মামলার আসামি বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান চৌধুরী ওরফে আমিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়নি।

মামলার বাদি বিমল শীল শনিবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের ভিটে ও জমি দখলের জন্য পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছিল। ওইদিন রাতে ঘর থেকে লাফিয়ে কোনো রকমে প্রাণে বেঁচেছিলাম।”

“গত আট বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় নি। সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এখন বিচার কাজ শুরু হচ্ছে। এতে আমরা আশাবাদী” বলেন তিনি।

বিচারকাজ দ্রুত শেষ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ওই ঘটনায় তিন মেয়ে হারানো শচীন্দ্র লাল বলেন, “নতুন ঘরের কাজ চলায় আমার তিন মেয়ে বড়ভাইয়ের ঘরে ঘুমাচ্ছিল। বাড়ির চারপাশে সন্ত্রাসীরা আগুন দেয়। পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুই করতে পারিনি। চোখের সামনে সবাইকে মরতে দেখেছি।”

ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন সময় তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আমার ভাই (তেজেন্দ্র লাল শীল) এলাকার বিচার- সালিশ করতেন। তাকে মেরে ফেললে এ পাড়ায় মুখ তুলে কথা বলার কেউ নেই। সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই সন্ত্রাসীরা এ কাজ করেছে।”

মামলার সাক্ষী মনমোহন শীল ও মো. দেলোয়ার জানান, একটি পুকুরের জমি কেনা-বেচা নিয়ে ২০০৩ সালে আমিন চেয়ারম্যান ও তার সহযোগী নুরুল ইসলাম হুমকি দেয়। তেজেন্দ্র শীল এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলে তারা তাতে বাধা দেয়।

বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান চৌধুরী ওরফে আমিন চেয়ারম্যান সে সময় পার্শ্ববর্তী কালিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন।

মামলার সাক্ষী দেলোয়ার বলেন, গত বছরও আমিন চেয়ারম্যান স্থানীয় একটি সভায় প্রকাশ্যে এ মামলার সাক্ষীদের হুমকি দিয়েছিলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলার পর চট্টগ্রাম জেলা পিপি আবুল হাশেম বলেন, “সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক। ১৫ মে থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে। আশা করি দ্রুত বিচার শেষ হবে।”

অতিরিক্ত পিপি জসিম উদ্দিন, চন্দন বিশ্বাস, প্রদীপ দত্ত, শামসুদ্দিন আহমদ সিদ্দিকী টিপু, দীনমনি দে, খালেদ শাহনেওয়াজ, বিশেষ পিপি চন্দন তালুকদার ও নাসির উদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমসি/এএইচ/জেকে/১০০৫ ঘ.
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা: ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

Thu, Apr 26th, 2012 10:24 pm BdST

জামালপুর, এপ্রিল ২৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জামালপুরে বুধবার মন্দির ভাংচুর, সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বৃহস্পতিবার মাদারগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সাদেকুর রহমান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মমতাজ উদ্দিন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মাদারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ি বাজারের কুমোরদের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের তিন একর জমি জবর দখল করার চেষ্টা করছিল পাশের চর লোটাবর গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।

বুধবার তারা ৩/৪শ’ লোক নিয়ে কুমারদের ৬টি বাড়ি, ১২টি দোকান ভাংচুর এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, গরু-ছাগল লুট করে। হামলায় শিশু ও মহিলাসহ ১৯ জন আহত হয়।

হামলাকারীরা কালিমন্দির ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়।

ওসি আব্দুল আউয়াল আরো জানান, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাদারগঞ্জ থানার তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ি বাজারের নারায়ণ চন্দ্র পাল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

নারায়ণ চন্দ্র পাল সাংবাদিকদের জানান, মাদারগঞ্জের সিধুলী ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদলকে প্রধান আসামি করে ৮৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রভাবশালী আসামিপক্ষের লোকজন তাদের হুমকি দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন চর লোটাবর গ্রামের আব্দুস সালাম (৪৫), তিলাল (৪০), রেহান আলী (৪৫), জিন্নাহ (৪২), বিল্লাল হোসেন (৪০), আব্দুল আজিজ (৪৫), মনজুরুল ইসলাম (৩২), ফরহাদ মিয়া (৩৪), শাহ আলম চৌধুরী (৪৫) ও আব্দুর রশীদ (৩৫)।

আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি আউয়াল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/ডিডি/২২১৭ ঘ.

‘আদর্শহীন রাজনীতির ফল’

ইমরান হোসেন
সাতক্ষীরা থেকে ফিরে

ঢাকা, এপ্রিল ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নাটকে হজরত মুহাম্মদকে কটাক্ষ করা হয়েছে দাবি করে গত ৩১ মার্চ কালীগঞ্জের ফতেপুরে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী হামলা-ভাংচুরের ঘণ্টাখানেক পর স্থানীয় সাংসদ এইচ এম গোলাম রেজা সমাবেশ করে ওই আগুনে ঘি ঢেলে দেন।

“এই মুসলমানরা কখনো থামবে না। আল্লাহ ও তার রসুলের জন্য তারা সব সময় সোচ্চার হবে,” সমাবেশে বলেন ক্ষমতাসীন মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টির এই নেতা।

ওই সমাবেশে গোলাম রেজার সঙ্গে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনও ছিলেন, যাকে পরে হিন্দু ও মুসলিমদের বাড়িতে হামলাকারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার শুরু গোলাম রেজার এই সমাবেশের চার দিন আগে ২৭ মার্চ, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেদিন ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের করা ‘হুজুর কেবলা’ নাটক নিয়ে। এতে হজরত মুহাম্মদকে কটাক্ষ করা হয়েছে ধুয়া তুলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা স্থানীয়দের ক্ষেপিয়ে তোলে। হামলা হয় নাটকের পাণ্ডুলিপি রচয়িতা এবং ফতেপুর স্কুলের শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসহ ১০টি বাড়িতে।

নাটকে হজরত মুহাম্মদের চরিত্র হনন হয়েছে দাবি করে স্থানীয় দৈনিক দৃষ্টিপাত-এ একটি প্রতিবেদন ছাপান জামায়াতের মিজানুর রহমান, এরপর তা ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচার চালায় জামায়াত, পরিস্থিতি গড়ায় অবনতির দিকে।

ওই সময় পরিস্থিতি শান্ত করার কথা বলে সমাবেশ করে এতে বক্তব্যে কার্যত হিন্দুদের বাড়িতে হামলায় উস্কানি দিয়েছিলেন গোলাম রেজা, যিনি জেলাটিতে জামায়াতের শক্ত অবস্থানের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন।

সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় এক সাংবাদিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সংসদ সদস্যের সমাবেশে একটি প্রাইভেটকার, দুটি মাইক্রোবাস ও ৪০টি মটর সাইকেল নিয়ে প্রায় দেড়শ’ মানুষ অংশ নেয়।

ওই সমাবেশে থাকা এবং পরে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ জাতীয় পার্টির নেতা এবং গোলাম রেজার খুবই ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

আওয়ামী লীগের সমর্থনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গোলাম রেজা। হামলার স্থান ফতেপুর ও চাকদা দুটি গ্রামই তার সংসদীয় এলাকায়।

“এই মুসলমানরা কখনো থামবে না। আল্লাহ ও তার রসুলের জন্য তারা সব সময় সোচ্চার হবে”- হামলাকারীদের সামনে দাঁড়িয়ে গোলাম রেজার ওই বক্তব্য স্থানীয় এক সাংবাদিক তার মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। ওই রেকর্ডটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমেরও হাতে এসেছে।

পরিস্থিতি শান্ত করার কথা বলে ওই সমাবেশ ডাকা হলেও সংসদ সদস্যের বক্তব্যে ফতেপুরে সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি কথাও ছিল না। বরং সাংসদের সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকেন, “নবীর শত্রু, ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে সতর্ক হোন।”

সমাবেশে গোলাম রেজা পুলিশ প্রশাসনকেও হুমকি দেন। হামলাকারীদের অসহযোগিতা করার পরিণাম ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনীতিকসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, যারা সবাই বলেছেন- স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভূমিকা সহিংসতা উস্কে দিয়েছে। হামলাকারীরা পুলিশের সামনে জড়ো হয়ে শুনতে পায়, সংসদ সদস্য পুলিশকে হুমকি দিচ্ছেন।

গোলাম রেজার বক্তব্যের পরদিন ১ এপ্রিল গোলাম রেজারই সংসদীয় এলাকার চাকদায় একই ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেদিন সাতটি হিন্দু বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

“এটা সত্য যে, তার ওই ভাবে বলা ঠিক হয়নি,” বলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

ফোনে যোগাযোগ করা হলে গোলাম রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওসি ফরিদ, এসপি হাবিব ও কালীগঞ্জ সার্কেল এএসপি নজরুলের নেতৃত্বে পুরো সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আমাকে ফাঁসাতে তারা এটা করেছিল।”

হামলায় উস্কানিতে জামায়াতের সম্পৃক্ততা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলেও জাপার এই নেতা বলেন, “আমি মনে করি না যে, এ ধরনের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত ছিল। একটি অপরাধী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এটা করেছে।”

সমাবেশের সময় পাশে চিহ্নিত হামলাকারীদের অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, “এলাকার গণ্যমান্য সবাই সেখানে উপস্থিত ছিল।”

হামলায় নেতৃত্বদাতা হিসেবে মোশাররফের নাম অনেকে বললেও তার পক্ষ নিয়ে সংসদ সদস্য রেজা বলেন, “এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি এমন নয় যে জামায়াতে ইসলামী এ ঘটনার জন্য জাতীয় পার্টিকে প্ররোচিত করেছে। আদর্শিক কারণেই উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদীদের পক্ষ নিয়েছিল জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতারা। আর যথাযথ রাজনৈতিক শিক্ষার অভাব এবং ভোটের রাজনীতির বিষয়টি মাথায় রেখে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও এতে যোগ দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, নাটক মঞ্চায়নের সময় প্রথম যিনি বিরোধিতা করেছিলেন তিনি আওয়ামী লীগের এক জন কর্মী।

নাটকের পাণ্ডুলিপি রচয়িতা শাহীনের শ্যালক হাবিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফতেপুরের আওয়ামী লীগ কর্মী মিন্টু প্রথমে নাটকটির বিরোধিতা করেন। সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকদের মধ্যে তিনি অনেক সমর্থক পেয়ে যান।”

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের আমন্ত্রণ না করায় তাদের কর্মীরা এমনিতেই ক্ষেপে ছিলেন বলে জানান হাবিবুর।

সাতক্ষীরার এক প্রবীণ সাংবাদিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আওয়ামী লীগ ভিত্তি তৈরি করে দেয় এবং ধর্মের কার্ড ব্যবহার করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা চালায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু পরিণামে এটা যে জামায়াতে ইসলামীর স্বার্থ হাসিল করবে, এটা তারা বুঝতে পারেনি।”

“রাজনীতিকদের মধ্যে আদর্শ না থাকলে কী হতে পারে, এটা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ,” বলেন তিনি। তবে এই মন্তব্যে বড় সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের রোষে পড়ার শঙ্কা থেকে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন এই সাংবাদিক।

তদন্তকারী, প্রত্যক্ষদর্শী, ক্ষতিগ্রস্ত ও রাজনৈতিক নেতারা সবাই বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অনেকে ছিলেন, যারা এখন অনুতপ্ত যে, প্রকৃত সত্য না জেনে তারা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন।

ওই সাংবাদিক বলেন, “নির্বাচনে জিততে শুরু হওয়া জোট রাজনীতির জন্য আদর্শিক বিচ্যুতি জাতীয় পর্যায় থেকে তৃণমূলেও ঢুকেছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

স্থানীয়রা জানায়, নজরুলের পুরো পরিবার জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং সাতক্ষীরায় বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ নেতার ক্ষেত্রেই বিষয়টি একই রকম।

এক সময়কার ছাত্র ইউনিয়নকর্মী ইফতেখার আলী যিনি বর্তমানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি বলেন, “বিএনপির উচিত, জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করা।”

রাজনীতিকদের মধ্যে কলুষতা ছড়িয়ে পড়লেও এই ঘটনাটি নিয়ে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে আশা দেখছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, অপরাজনীতি যে তরুণদের এখনো গ্রাস করতে পারেনি, এটা তারই স্বাক্ষর।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ইএইচ/এএইচ/এমআই/১৭৫৮ ঘ.
http://bdnews24.com/bangla/details.php?id=192313&cid=2

সাতক্ষীরায় ঘটনা তদন্তে কমিটি করতে নির্দেশ

ঢাকা, এপ্রিল ২৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সাতক্ষীরায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর তদন্তে আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

কালীগঞ্জের ওই ঘটনায় স্বতপ্রণোদিত রুলের শুনানিতে বুধবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সময়কার কালীগঞ্জের ওসি ও সাতক্ষীরার এসপির ভূমিকা এবং হুজুর কেবলা নাটকে হজরত মুহাম্মদকে কটাক্ষ করা হয়েছিল কি-না, তা খতিয়ে দেখতে কমিটিকে বলা হয়েছে।

কমিটিকে আগামী ১৭ মের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ২৭ মার্চ কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘হুজুর কেবলা’ নামে একটি নাটক মঞ্চায়ন করে শিক্ষার্থীরা।

ওই নাটকে হজরত মুহাম্মদের চরিত্র বিকৃত করা হয়েছে দাবি করে স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর এক জন। এরপর তা ব্যবহার করে স্থানীয়দের উস্কানি দিয়ে ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল ফতেপুর ও চাকদা গ্রামে ১৭টি হিন্দু ও মুসলিম বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এই ঘটনার পর কালীগঞ্জের ওসি সৈয়দ ফরিদউদ্দিন এবং সাতক্ষীরার এসপি হাবিবুর রহমান খানকে প্রত্যাহার করা হয়।

তলবের আদেশে ওই এসপি এবং ওসি বুধবার আদালতে হাজির হন।

বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের সভাপতি রবীন্দ্র ঘোষ গত ১৫ এপ্রিল নির্যাতন সংক্রান্ত কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরলে ওই দুই কর্মকর্তাকে ২৩ এপ্রিল হাজির হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেদিন হরতালের কারণে আদালত না বসায় বুধবার হাজিরা দেন তারা।

আগামী ১৭ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে ওই দিনও দুই কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

আদালতে দুই পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এবং সরকারপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান শুনানি করেন।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত শুনানির পুরোটা সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকেন।

১৫ এপ্রিলের স্বতপ্রণোদিত ওই আদেশে কালীগঞ্জে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বন্ধে ব্যর্থতার জন্য এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে কেন বরখাস্ত করা হবে না এবং মানুষের বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের সম্পদ রক্ষায় ব্যর্থতায় তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএন/এএইচ/এমআই/১৯৪৫ ঘ.
http://bdnews24.com/bangla/details.php?id=192329&cid=2

তেজেন্দ্রলাল শীলের ভিটে এখনও শূন্য: বাঁশখালীর সেই ১১ হত্যাকাণ্ড

হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥
বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাধনপুর শীলপাড়ায় পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই তেজেন্দ্রলাল শীলের পরিবারটির কথা মনে পড়ে কি। পরিকল্পিতভাবে ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে মারা হয় ঐ পরিবারের চারদিন বয়সের এক শিশু ও নারীসহ ১১ জনকে। সে ভিটেমাটি এখনও শূন্য পড়ে আছে। সেখানে ওঠেনি নতুন ঘর। বাড়ি যাবার অবস্থা সৃষ্টি না হওয়ায় বিচার না পাওয়া পরিবারটির বেঁচে থাকা সদস্যদের কাটছে পরবাসী জীবন। ঘটনার সাড়ে ৮ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি মামলার। পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন মহাজোট সরকার আমলেও মামলা এভাবে ঝুলে থাকলে আর কখন পাওয়া যাবে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিচার।

পরিবারের সদস্য মামলার বাদী বিমল শীল মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা তিন ভাই বেঁচে আছি। ঘটনার দিন আমি ছিলাম শ্বশুর বাড়ি। বাকি দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই ছিল বিদেশে এবং আরেক ভাই ছিল বাইরে তার কর্মক্ষেত্রে। এ সুবাদেই আমাদের বেঁচে যাওয়া। শূন্য ভিটেতে সাধারণত নতুন ঘর ওঠে। কিন্তু আমাদের পৈত্রিক ভিটেমাটি পড়ে আছে খালি। সেখানে কেউ আর বসবাস করে না। নিজের পৈত্রিক ভিটের সঙ্গে মানুষের আবেগ এবং স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। কিন্তু কিছুই করার নেই। এ যেন আমাদের নিয়তি।

বিমল শীল এখন বসবাস করেন চট্টগ্রাম নগরীতে। বাঁশখালীতে তাঁর একটি ওষুধের দোকান ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে তিনি সেখান থেকে এসে ওষুধের দোকান দেন শহরে। বাকি দুই ভাইয়ের মধ্য একজন এখনও বিদেশে, অপরজন রয়েছেন শিক্ষকতা পেশায়। কারোরই বাড়ি যাওয়া হয় না। কারণ বাড়ি যাওয়া মানেই স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙ্গে পড়া। একান্ত আপন কেউ নেই যাদের জড়িয়ে ধরে সান্ত¡না খুঁজে পাওয়া যাবে। তাছাড়া নেই থাকবার ঘরও।

বিমল শীল জানান, শূন্য ভিটায় ঘর উঠাবার জন্য আমরা সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলাম। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, দগ্ধ হয়ে নিহত ১১ জনের নামে একটি সড়কের নামকরণের। নিরাপত্তা চেয়ে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী বরাবরে। কিন্তু কিছুই মেলেনি এখনও। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আবেদনের জবাবে প্রায় দু’মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব নজরুল ইসলাম সাক্ষরিত একটি পত্র এসেছে, যাতে আমাদের ছবি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব জমা দিয়েছি। এখন অপেক্ষার পালা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদনও করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, সে সুযোগ এখনও কেউ করে দেয়নি।

মামলার বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে বিমল শীল বলেন, সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল আলোচিত এ মামলার দ্বিতীয় দফা চার্জ গঠিত হয়েছে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে। এতে বাদ পড়েছেন সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এমপির চাচাত ভাই বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান চৌধুরী ওরফে আমিন চেয়ারম্যান। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট আবুল হাশেম। এ ব্যাপারে গত ৫ এপ্রিল এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছে বলে জানিয়ে বিমল শীল বলেন, তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ আইনী সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জেলা পিপি এ্যাডভোকেট আবুল হাশেম মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, আমিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত না হওয়া মানে তাঁকে অব্যাহতি দেয়া নয়। আদালতে আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। সেদিন তিনি (আমিন চেয়ারম্যান) উপস্থিত ছিলেন না বলেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়নি। তাছাড়া এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের একটি স্থগিতাদেশও রয়েছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে যে কোন সময়ে অন্তর্ভুক্ত হবেন এ আসামি। দফায় দফায় বিচার কাজ বিলম্বিত হওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবুল হাশেম বলেন, প্রথম দফা অভিযোগ যে ধারায় গঠিত হয়েছিল তাতে আমিন চেয়ারম্যানকে সেভাবে অভিযুক্ত করা যায় না। কারণ সেটি ছিল ডাকাতি করতে না পেরে হত্যার মামলা। আমিন চেয়ারম্যান যেহেতু পূর্বে ডাকাতির মতো কোন অভিযোগে অভিযুক্ত হননি, সেহেতু এমন অভিযোগ প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য ছিল। এ কারণেই বাদীর পক্ষ থেকে নারাজি দিয়ে ধারা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছিল। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় দফায় চার্জ গঠিত হয়েছে অন্য ধারায়। এতে অভিযোগ আসে সংখ্যালঘু এ পরিবারের সম্পত্তি দখলের লক্ষ্যে ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা। মামলাটি এখন গতি পেয়েছে বলে উল্লেখ করে পিপি এ্যাডভোকেট আবুল হোসেন বলেন, আগামী মাস থেকেই শুরু হচেছ সাক্ষ্যগ্রহণ।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৮ নবেম্বর রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর শীলপাড়ায় তেজেন্দ্রলাল শীলের বাড়িতে ঘটে এ নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে একই পরিবারের ১১ জনকে। এ ঘটনায় তৎকালীন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর চাচাত ভাই আমিন চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেও এখনও রয়েছেন আদালতে গঠিত অভিযোগের বাইরে। অনিশ্চয়তার মাঝেও তেজেন্দ্রলাল শীলের পরিবারটি রয়েছে বিচার পাওয়ার আশায়। এ সরকারের আমলেই তাদের সে আশা পূরণ হবে কী।

সূত্র:
দৈনিক জনকণ্ঠ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে কালীমন্দির ভাঙচুর

নিজস্ব সংবাদদাতা জামালপুর থেকে জানান, জামালপুরের মাদারগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় ১০ জন আহত, ১২ দোকান ও ৬ বাড়ি ভাংচুর, লুট এবং আগুন লাগিয়ে কালী মন্দির পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলার শ্যামগঞ্জ কালীবাড়ি বাজারের কুমারদের প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩ একর জমি নিয়ে নারায়ণচন্দ্র পালের সঙ্গে বিরোধ চলছে স্থানীয় প্রভাবশালী বাচ্চু মাস্টার ও মনোহর আলীর। এই বিরোধের জেরে বুধবার সকালে মনোহর ও বাচ্চু মাস্টার কয়েকশ’ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে কুমারদের ৬ বাড়ি, ১২ দোকান ভাংচুর, লুটতরাজ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা লুট করে নিয়ে যায়। নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, গরু, ছাগল, ধান-চাল, ঘরের আসবাবপত্র। এ সময় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা বাড়ির শিশু, মহিলাসহ কমপক্ষে ১০ জনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেছে। হামলাকারীরা কুমারদের কালীমন্দির ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মিরন এ সময় উপস্থিত থেকে কুমারদের ওপর হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছে কুমার পরিবারের সদস্যরা।
শ্যামগঞ্জ কালীবাড়ি বাজারের কয়েকশ’ নিরীহ মানুষ প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় মাদারগঞ্জ থানায় ফোন করা হলেও পুলিশ উপস্থিত হয় সন্ত্রাসীদের তা-বলীলার ৩ ঘণ্টা পর।
মাদারগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে পুলিশ প্রভাবশালী হামলাকারীদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পুনরায় হামলার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে রয়েছে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ বগুড়ায় শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আশীষ কুমার রায় (৩২) খুন হয়েছেন। বুধবার দুপুরে বগুড়া শহরের সবুজবাগ সংলগ্ন জামিলনগর এলাকায় একদল সন্ত্রাসী তাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ এ ঘটনার জন্য শিবির ক্যাডারদের দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৮-১০ জনের একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আশীষের ওপর হামলা চালায়। তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে পার্শ¦বর্তী একটি মুদি দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন। সন্ত্রাসীরা আশীষের মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। হামলার আগে ওই সন্ত্রাসীরা সেখানে একটি হোটেল ভাংচুর করে। ঘটনাস্থল জামিলনগর এলাকায় শিবির ক্যাডারদের তৎপরতা বেশি। আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে উদ্ধার করে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় জমায়। এ সময় দলীয় কর্মীসহ নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এদিকে বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুর রহমান দুলু অভিযোগ করেন, ওই এলাকার এক জামায়াত নেতার পরিচালিত শিবির ক্যাডাররা এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ বিকেলে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। শহরের সাতমাথায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের ক্যাডারদের দায়ী করে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

হুজুর কেবলা নাটকের কারণে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হিন্দু বাড়িঘরের ছবি গ্যালারী

ধ্বংসাবশেষের ভিতরে খুঁজে বেড়াচ্ছেন জীবনের চিহ্ন। কৃষ্ণপদ ও তার স্ত্রী। ০১ এপ্রিল ২০১২
ধ্বংসাবশেষের ভিতরে খুঁজে বেড়াচ্ছেন জীবনের চিহ্ন। কৃষ্ণপদ ও তার স্ত্রী। ০১ এপ্রিল ২০১২

লুটপাটের পর ধ্বংস করা পরেশের বাড়ি। ০১ এপ্রিল ২০১২
লুটপাটের পর ধ্বংস করা পরেশের বাড়ি। ০১ এপ্রিল ২০১২

লুটপাট ও ধ্বংসযঞ্জের শিকার হওয়া শ্যামাপদ'র বাড়ি। ১ এপ্রিল ২০১২
লুটপাট ও ধ্বংসযঞ্জের শিকার হওয়া শ্যামাপদ'র বাড়ি। ১ এপ্রিল ২০১২

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেয়া শ্যামাপদ'র বাড়ি। ০১ এপ্রিল ২০১২
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেয়া শ্যামাপদ'র বাড়ি। ০১ এপ্রিল ২০১২

মুসলমানদের হিংস্র আক্রমণে ধ্বংস হওয়া লক্ষ্মীপদ'র বাড়ি। ফতেপুর। ০১ এপ্রিল ২০১২
মুসলমান সন্ত্রাসীদের আক্রমণে ধ্বংস হওয়া লক্ষ্মীপদ'র বাড়ি। ফতেপুর। ০১ এপ্রিল ২০১২

মুসলিমদের লুট করা ও পুড়িয়ে দেয়ার পর ধ্বংস করা কৃষ্ণপদ'র বাড়ি। ০১ এপ্রিল ২০১২
জামায়াত শিবিরের গুন্ডাদের লুট করা ও পুড়িয়ে দেয়ার পর ধ্বংস করা কৃষ্ণপদ'র বাড়ি। ০১ এপ্রিল ২০১২

মুসলিমদের লুট করা ও পুড়িয়ে দেয়ার পর ধ্বংস করা কল্যাণী'র বাড়ি। ০১ এপ্রিল ২০১২
লুট ও পুড়িয়ে দেয়ার পর ধ্বংস করা কল্যাণী'র বাড়ি। ০১ এপ্রিল ২০১২


লুট ও পুড়িয়ে দেয়ার পর ধ্বংস হওয়া ফতেহপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মিতা রাণী বালা'র বাড়ি। ৩১ মার্চ ২০১২
লুট ও পুড়িয়ে দেয়ার পর ধ্বংস হওয়া ফতেহপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মিতা রাণী বালা'র বাড়ি। ৩১ মার্চ ২০১২

লুট ও পুড়িয়ে দেয়ার পর ধ্বংস হওয়া ফতেহপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মিতা রাণী বালা'র বাড়ি। ৩১ মার্চ ২০১২
লুট ও পুড়িয়ে দেয়ার পর ধ্বংস হওয়া ফতেহপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মিতা রাণী বালা'র বাড়ি। ৩১ মার্চ ২০১২

ফতেহপুর হাইস্কুলের স্কুল কমিটির সদস্য আব্দুল হাকিম সরদারের পোড়া বাড়ি। ২১ মার্চ ২০১২
ফতেহপুর হাইস্কুলের স্কুল কমিটির সদস্য আব্দুল হাকিম সরদারের পোড়া বাড়ি। ২১ মার্চ ২০১২

ফতেহপুর হাইস্কুলের সম্মুখভাগ। এখানেই হুজুর কেবলা নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল
ফতেহপুর হাইস্কুলের সম্মুখভাগ। এখানেই হুজুর কেবলা নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল

এই ছবিগুলো গ্যালারী হিসেবে বিডিনিউজ২৪ এ প্রকাশিত হয়েছে। সাতক্ষীরায় ধ্বংসচিত্র

‘পুলিশ দেখছিল’

সাতক্ষীরা মুসলমান ইসলামী হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হিন্দু বাড়িঘর
সাতক্ষীরা মুসলমান হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হিন্দু বাড়িঘর
ইমরান হোসেন
সাতক্ষীরা থেকে ফিরে

ঢাকা, এপ্রিল ২২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সহিংসতা উস্কে দেওয়ার জন্য দায়ী ‘সাজানো’ সংবাদের প্রতিবেদনকারী জামায়াতে ইসলামীর কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদার সহিংস ঘটনা এড়ানো যেত বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

উল্টো ওই প্রতিবেদনকে আমলে নিয়ে তার ভিত্তিতে করা মামলা নেয় পুলিশ। আর তাতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা ইসলাম ও মহানবীর অবমাননার অজুহাত দেখিয়ে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা সৃষ্টির সুযোগ পায় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৭ মার্চ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর স্কুলের শিক্ষার্থীরা ‘হুজুর কেবলা’ নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করে।

ওই নাটক নিয়ে স্থানীয় দৈনিক দৃষ্টিপাতে একটি খবর প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, নাটকে হযরত মুহম্মদের (স.) চরিত্র ‘বিকৃত’ করা হয়েছে। এই সংবাদের প্রতিবেদক ছিলেন জামায়াতকর্মী।

দলীয় নির্দেশনায় সহিংসতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তিনি ওই ‘মিথ্যা’ সংবাদ লেখেন বলে স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনীতিক, প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্তরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

সৈয়দ আবুল মনসুর আহমদের রম্যরচনা ‘হুজুর কেবলা’ থেকে ওই নাটকের পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়।

নাটকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার মতো কিছু ছিল না- এ বিষয়টি পুলিশের নজরে আনা হয়েছিল জানিয়ে ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল হাকিম সরদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওসি নাটকের পান্ডুলিপি পরীক্ষা করে মূল রচনার সঙ্গে তার হুবহু মিল পেয়েছিলেন।”

২৯ মার্চ রাতে কালীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ ফরিদউদ্দিনের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। ওই ওসিকে পরে সে থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

দৃষ্টিপাতের ওই প্রতিবেদনের পর মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়তে থাকায় নাটকের দুদিন পর হাকিম সরদারসহ ফতেপুরের বেশ কয়েকজনকে ডেকে নেয় পুলিশ।

হাকিম বলেন, “প্রকৃত সত্য ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তখন ওসি আমাদের ধন্যবাদ জানান এবং এ ধরনের একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে ‘বানোয়াট’ খবর প্রকাশের জন্য প্রতিবেদক মিজানুর রহমানের নিন্দা করেন।”

জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা ওই প্রতিবেদনকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারণা চালানোয় মানুষের মধ্যে দ্রুত অসন্তোষ ছড়াতে থাকলেও ওই প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

২৯ মার্চ ও তার পরের দিন জামায়াত কর্মীরা ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা প্রচারপত্র বিলি করে এবং লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে ‘ইসলামের শত্রুদের’ বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জন্য মানুষকে আহ্বান করে এবং জেলা সদরসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে। তখন পুলিশ কোনো ভূমিকা পালন না করায় পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে গড়ায়।

৩০ মার্চ জুমার নামাজের সময় থানা মসজিদসহ সবগুলো মসজিদে ইমামরা এ বিষয়ে বয়ান দেন।

কালীগঞ্জে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে স্থানীয় এক সাংবাদিককে ধাওয়া করলে তিনি থানায় আশ্রয় নেন। ঘটনার তিনদিন পর তা নিয়ে বিক্ষোভ কেন- জানতে চেয়েছিলেন ওই সাংবাদিক। বিক্ষোভকারীরা থানায় হামলা চালিয়ে ওই সাংবাদিককে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।

বিক্ষোভকারীরা সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা থানা ঘিরে রাখে। ‘অবমাননার’ ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে বলে বিক্ষুব্ধদের আশ্বস্ত করা ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

সেদিনই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজওয়ান হারুন এবং নাটকের নির্দেশক ও ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিতা রানী বালাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে এ সময় একটি মামলাও গ্রহণ করে পুলিশ। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ অভিযোগ আরো জোরদার হয়। অথচ ওসি ২৯ তারিখ এ অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, “অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কীভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় - সে কায়দা ভালোই জানে পুলিশ। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগে তারা কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, তা একটা রহস্য।”

পরদিন ৩১ মার্চ সকালে যখন শত শত মানুষ ফতেপুরে নাটকের পান্ডুলিপিকার শাহীনুর রহমান শাহীনের বাড়িতে হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওই বাড়িতে পাঁচটি ঘর ভাংচুর ও মূল্যবান সম্পদ লুট করার পর ঘরগুলোতে আগুন দেয় হামলাকারীরা।

শাহীনের শ্যালক হাবিবুর রহমান বলেন, “তখন সেখানে দুই গাড়ি পুলিশ ছিল। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা শুধু দেখছিল এবং নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছিল।”

ওই বাড়িতে হামলা চালানোর পর বিক্ষুব্ধরা এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করা ফতেপুর স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মিতা রানী বালা, ওই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল হাকিম সরদার ও লক্ষ্মীপদ মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে সেখানে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর তারা সাতক্ষীরা সাংস্কৃতিক পরিষদের ফতেপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে ভাংচুর করে।

আগুন নেভাতে তারা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বাধা দেয়। ঘরগুলো আগুনে ছাই না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে ছিল।

কয়েক ঘণ্টা ধরে এসব হামলা চললেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে স্থানীয়রা জানান। এমনকি এ ঘটনায় তারা কোনো মামলাও দায়ের করেনি।

ফতেপুরে হামলার শিকার লক্ষ্মীপদ মণ্ডল বলেন, “আমার ঘরে যখন আগুন দেওয়া হচ্ছিল তখন পুলিশ সিগারেট ফুঁকছিল। তারা এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করছিল এবং পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে গেছে বলে ওয়াকিটকিতে বার্তা পাঠাচ্ছিল।”

এর পরের ২৪ ঘণ্টায়ও পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জামায়াতকর্মীরা আরেক দফা সহিংস ঘটনা ঘটাতে জন্য উৎসাহিত হয়। এবার তারা ভারতীয় সীমান্তের কাছে চাকদায় হামলা করে। হুজুর কেবলা নাটক নিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে প্রতিবেশী এক মুসলমান নারীকে এক হিন্দু নারী মুহম্মদকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন-এমন গুজবে সেখানে হামলা হয়।

১ এপ্রিল রাত ৬টার দিকে চাকদায় সাতটি হিন্দু বাড়িতে প্রায় দুই ঘণ্টা লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিক ইলাহী চৌধুরী, তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান খান, জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে যান।

এ সময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে কর্মকর্তারা শুধু বিক্ষুব্ধদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান। এ সময় দমকলকর্মীদের যেতে বাধাদানকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করায় বছির আহমেদ নামে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) শাস্তি দাবি করে হামলাকারীরা। ভোর হওয়ার আগে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হবে বলে হামলাকারীদের আশস্ত করেন অতিরিক্ত ডিআইজি। কথামতো ওই এএসআইকে প্রত্যাহারও করা হয়।

চাকদার ঘটনার পর কোনো মামলা করেনি পুলিশ।

চাকদায় হামলার শিকার কৃষ্ণপদ সরদার বলেন, “হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে একটি কাঁদানে গ্যাসের সেলও ব্যবহার করা হয়নি।”

“এর আগে খবরের কাগজে পড়েছি যে, পুলিশ ও প্রশাসন কাজ করে না। কিন্তু এবার নিজের ক্ষেত্রেই তা দেখেছি”, বলেন ৬৩ বছরের কৃষ্ণপদ।

তার প্রতিবেশি শ্যামাপদ সরদারের বাড়িতেও সেদিন আগুন দেওয়া হয়। শ্যামাপদ বাড়ি ছিলেন না। তাই তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে ওই দিনের ঘটনা মনে করে অনেক্ষণ তিনি কোনো কথা বলতে পারছিলেন না।

“পুলিশ হামলাকারীদের উৎসাহিত করেছিল। তা না হলে, তারা অন্তত একটি ফাঁকা গুলি ছুড়তো,” বলেন তিনি।

স্থানীয় সাংবাদিক বা রাজনীতিক কেউই পুলিশের নীরব দর্শকের ভূমিকার ব্যাখ্যা করতে পারেনি। তারা শুধু বলেছে, সহিংসতার সময় পুলিশ কার জন্য কাজ করেছিল তা তারা বুঝতে পারেনি।

চাকদার ঘটনার পর এসপি হাবিবুর রহমান ও কালীগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হলেও ঘটনার সময় তাদের রহস্যজনক আচরণের জন্য কোনো জবাবদিহি চাওয়া হয়নি।

প্রত্যাহারের আগে জেলা আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে এসপির মুখে পরিস্থিতি শান্ত করতে তার উদ্যোগের কথা শুনে অনেকেই বিস্মিত হন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বৈঠকে উপস্থিত একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বৈঠকে এসপি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি বিক্ষুব্ধদের বলেছিলেন যে ‘গায়ে পুলিশের পোশাক না থাকলে ইসলাম রক্ষায় আমিও তাদের সঙ্গে যোগ দিতাম’।

ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের পর অবশেষে গত ৫ ও ৬ এপ্রিল এ ঘটনায় দুটি মামলা করে পুলিশ। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫০ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। দৃষ্টিপাতের সেই প্রতিবেদককে মিজানুরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যে বিক্ষোভ এ সহিংসতার জন্ম দিয়েছিল তার ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্রে নেতৃত্ব দেওয়া দুই ডজনেরও বেশি ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা গেলেও পুলিশ তাদের নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা পাঁচশ’ জনকে আসামি করে মামলা করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাতক্ষীরার এসপি আসাদুজ্জামান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ওই ঘটনার পর তাকে এখানের দায়িত্বে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, ওই দুইদিনের সহিংসতার সময় র‌্যাবও কোনো ভূমিকা পালন করেনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ইএইচ/এএইচ/এসইউ/এমআই/২০০০ ঘ.
খবরের সূত্র

পরশুরামে চার মন্দিরে ভাংচুর, লুটপাট

পরশুরামে মুসলমানদের হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হিন্দু মন্দির
ফেনীর পরশুরামে ধ্বংসপ্রাপ্ত হিন্দু মন্দিরের অভ্যন্তরভাগ
ফেনী, এপ্রিল ২২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ফেনীর পরশুরাম পৌর এলাকায় শনিবার রাতে চারটি মন্দিরে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় রোববার পরশুরাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মন্দির কমিটির সদস্যদের বরাত দিয়ে পরশুরাম থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, রাত ৩/৪টার দিকে ১০/১৫ জন দুর্বৃত্ত উত্তর গুথুমা গ্রামের একটি সার্বজনীন এবং তিনটি পারিবারিক মন্দিরে ভাংচুর করেছে।

তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মূর্তিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর ও তছনছ করে এবং টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

মন্দিওগুলো হল সার্বজনীন রাজ রাজেস্বর মন্দির, সুদীপ চন্দ্র রায়ের রামঠাকুর মন্দির, হরিপদ সাহার রামঠাকুর মন্দির এবং লিটন সাহার রাধাকৃষ্ণ মন্দির।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু আহাম্মদ আল মামুন, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার , পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ আহাম্মদ খান, পরশুরাম পৌরসভা মেয়র নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ওসি আরো বলেন, মন্দির ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের আসামি করে সুদীপ চন্দ্র রায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/ডিডি/১৮৩০ ঘ.
খবরের লিঙ্ক

‘জামায়াতের ইন্ধনেই হামলা-আগুন’

সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ মুসলমানদের পুড়িয়ে দেওয়া লক্ষীমান্ত মন্ডল বাড়ি
  ইমরান হোসেন
সাতক্ষীরা থেকে ফিরে

ঢাকা, এপ্রিল ২০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিদ্বেষের যে কোনো ধর্ম নেই- সপ্তাহ দুই আগে সেটাই দেখেছে সাতক্ষীরা, সঙ্গে সারা দেশের মানুষ।
ফতেপুরে পুড়িয়ে দেওয়া লক্ষ্মীপদ মণ্ডলের বাড়ি >^
স্থানীয় একটি পত্রিকায় ‘উস্কানিমূলক’ খবর প্রকাশের পর কালীগঞ্জের ঘর-বাড়িতে যে আগুন জ্বলেছে, তাতে একইসঙ্গে পুড়েছে হিন্দু ও মুসলমানের পবিত্র গ্রন্থ গীতা আর কোরআন।

আর ওই ঘটনার পেছনে উস্কানিদাতা হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করা দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দিকেই আঙুল তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কালীগঞ্জের ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২৭ মার্চ ‘হুজুর কেবলা’ নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করে। ওই নাটকে মুসলমানদের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) কটাক্ষ করা হয়েছে- এমন একটি প্রতিবেদন স্থানীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ার তিন দিন পর স্থানীয় সাংস্কৃতিককর্মীদের ওপর শুরু হয় তাণ্ডব। ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল এই সহিংসতা চলে।

প্রথম দিন ক্লাস চলা অবস্থায় ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে হামলা চালায় ‘ধর্মীয় মৌলবাদীরা’। পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ভাংচুর চালানো হয়।

ওই নাটকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকার পরও ভাংচুর করা হয় সাতক্ষীরা সাংস্কৃতিক পরিষদের ফতেপুর শাখা কার্যালয়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো খুলনা বিভাগে যে সংগঠন সুপরিচিত।

কালীগঞ্জে আসলে কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল, কারাই বা ছিল এর পেছনে- তা জানতে গত ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল সেখানে অনুসন্ধান চালায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৯ মার্চ দৃষ্টিপাত নামের একটি স্থানীয় পত্রিকায় স্কুলের নাটকটি নিয়ে ‘মিথ্যা’ সংবাদ প্রকাশ করে উস্কে দেওয়া হয় এলাকাবাসীর একটি অংশকে। জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার নেতারা এই জনতাকে ‘ভুল পথে’ পরিচালিত করেন।

দৃষ্টিপাতের প্রতিবেদনে বলা হয়, “নাটকে বিশ্বনবী মোহাম্মদকে (স.) একজন লম্পট ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে তার চরিত্র বিকৃত করা হয়েছে। নাটকে দেখানো হয়েছে, নারী সঙ্গের জন্য মোহাম্মদ পাগল ছিলেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল।”

কিন্তু ওই নাটকের দর্শক ও আয়োজকরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে কয়েকজন নাটকে একজন ভুয়া পীরের বিদ্রুপাত্মক উপস্থাপনার প্রতিবাদ জানালে শুরুর পরপরই নাটকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ওই নাটক দেখতে সেদিন স্কুলের মাঠে যাওয়া কিশোরী সায়মা আক্তার বলেন, “সাউন্ড সিস্টেম খুব খারাপ ছিল, সংলাপই ঠিকমতো শোনা যাচ্ছিল না। আমি বুঝলাম না কীভাবে মুহাম্মদকে (স.) কটাক্ষ করা হল। তাছাড়া একজন অভিনেতা সংলাপের সময় ‘হুজুর’ বলার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক জন লোক তার প্রতিবাদ জানায়। এর পরপরই নাটক বন্ধ হয়ে যায়।”

এই ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা এবং নাটকটি যারা দেখেছিলেন- তাদের সবাই একই কথা বলেছেন।

বিএনপির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আলী বলেন, “আমরা নাটকের স্ক্রিপ্ট দেখেছি। সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের কিছুই আমরা পাইনি। সংবাদটি ছিল পুরো মিথ্যা। মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই তা করা হয়েছিল।”

ওই সংবাদের প্রতিবেদক ছিলেন দৃষ্টিপাতের কালীগঞ্জ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, যাকে স্থানীয় বাসিন্দারা জামায়াতে ইসলামীর ‘ক্যাডার’ হিসাবে চেনে।

হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দৃষ্টিপাতের প্রকাশনার অনুমতি ইতোমধ্যে বাতিল করেছে সরকার।

জামায়াতের ‘শক্ত ঘাঁটি’ হিসাবে পরিচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনে ২০০৮ সাল বাদে স্বাধীনতার পর প্রায় সব নির্বাচনেই বিজয়ী হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সারা দেশে ১৮টি আসনে জয় পায় জামায়াত, যার মধ্যে সাতক্ষীরার পাঁচ আসনের তিনটিতেই জয়ী হয় তারা।

স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতারা জানান, ওই নাটক মঞ্চায়নের পরদিন জেলা সদরের বড়বাজার মসজিদের ইমাম মোহাদ্দেস আব্দুল খালেককে ফতেপুর পাঠায় জামায়াতের জেলা শাখা। এই ইমামকে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা যায় বলেও তারা জানিয়েছেন।

খালেক ফতেপুর গিয়ে দৃষ্টিপাতের প্রতিবেদক মিজানুরের সঙ্গে বৈঠক করার পরদিনই ওই পত্রিকায় ‘বিদ্বেষপূর্ণ ও মিথ্যা’ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

সাতক্ষীরার স্থানীয় দৈনিক পত্রদূতের সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানান, সংবাদটি প্রকাশের পর জামায়াত নেতারা পত্রিকাটির কয়েক হাজার কপি কিনে পুরো সাতক্ষীরাজুড়ে বিলি করেন। এ কারণে দৃষ্টিপাত কর্তৃপক্ষকে ওইদিনের সংখ্যাটি দ্বিতীয়বার ছাপাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দৃষ্টিপাতে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নাটকের প্রতিবাদ জানিয়ে শহরে যে বিক্ষোভ মিছিল হয় তাতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের নিয়ে গঠিত ‘জাতীয় ইমাম সমিতি’র সাতক্ষীরা শাখার নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দেখা যায়।

লাউডস্পিকার ব্যবহার করেও সেই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু মানুষকে জানানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেদিন বেশ কয়েকটি পিকআপ ভ্যানে করে ‘ছোটো দাড়িওয়ালা ও পাজামা-পাঞ্জাবি পরা’ অনেক যুবক শহরে এসে ‘ইসলামের শত্রুদের’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য মানুষের প্রতি আহ্বান জানায়।

জাতীয় ইমাম সমিতির কালীগঞ্জ শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল গফুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইমাম সমিতির জেলা শাখা থেকে তাকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

“তারা আমাকে ফোন করে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বোঝাতে নির্দেশ দেয়।”

স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নেতৃত্বে ওই দিন জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়। দৃষ্টিপাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জামায়াতের রাজনৈতিক স্লোগান লেখা প্রচারপত্রও বিলি করা হয়।

দৃষ্টিপাতে ওই ‘খবর’ প্রকাশের পরদিন ৩০ মার্চ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের পরিচালিত দৈনিক আলোর পরশে একই খবর ছাপা হয়। আর ‘ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা’ যে বিক্ষোভ করেছে, তার সংবাদ প্রকাশ করে দৃষ্টিপাত।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় জেলার মসজিদগুলোতে ইমামরা ওই নাটক নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর নামাজ শেষে রাস্তায় নেমে আসে কয়েক হাজার মানুষ।

খুতবায় স্থানীয় মসজিদের এক ইমামের দেওয়া বক্তব্য উদ্ধৃত করে কালীগঞ্জের অধিবাসী আনোয়ার বলেন, “আমাদের প্রিয় নবীর চরিত্রের ওপর আক্রমণ হয়েছে। যারা এসব করেছে তারা ইসলামের শত্রু। আমরা এ ঘৃণিত চেষ্টার প্রতিবাদ জানাতে যাচ্ছি। আপনারা কি প্রতিবাদে অংশ নেবেন না?”

ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল হাকিম সর্দার জানান, মসজিদে ঢোকা ও বের হওয়ার সময় সবাইকে দৃষ্টিপাতের প্রতিবেদনের ফটোকপি এবং বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য প্রচারপত্র বিলি করে জামায়াতকর্মীরা।

মুহাম্মদের ‘চরিত্রহননের’ অভিযোগে ফতেপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেজওয়ান হারুন ও সহকারী শিক্ষিকা মিতা রানী দাসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর আরো গতি পায় এই বিক্ষোভ।

৩১ মার্চের সহিংসতা

আবুল মনসুর আহম্মেদের মূল রচনা হুজুর কেবলা থেকে ওই নাটকের জন্য পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছিলেন শাহীনুর রহমান শাহীন। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জাড়িত থাকার কারণে এলাকায় সুনাম রয়েছে এই পরিবারের।

শাহীনের বড় বোন রাশিদা বেগম বলেন, শনিবার সকালে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দিতে দুটো মিছিল তাদের বাড়ির দিকে আসতে দেখেন।

সকাল ১০টার দিকে ফতেপুর প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাংচুর চালানোর পর শাহীনদের বাড়িতে চড়াও হয় মিছিলকারীরা। তারা ভাংচুরের পাশাপাশি সেখানে লুটতরাজও চালায়।

এক পর্যায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয় ওই বাড়ির পাঁচ ঘরে। বাড়িতে থাকা কোরআন শরীফও পোড়ে সেই আগুনে।

ওইদিন হামলা শুরুর পরপরই বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান শাহীনের পরিবারের সদস্যরা।

শাহীনের বাবা ৬৫ বছর বয়সী জিয়াদ আলী স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন। তিনি বলেন, “একাত্তরে যারা নৃশংসতা চালিয়েছিল- এরা সেই একই গোষ্ঠী। তাদের রক্তের তৃষ্ণা এখনো মেটেনি।”

শাহীনদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে হামলাকারীরা চড়াও হয় গ্রেপ্তার শিক্ষিকা মিতা রানী বালা, ফতেপুর স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল হাকিম ও লক্ষীপদের বাড়িতে। ফেরার পথে তারা সাতক্ষীরা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালীগঞ্জ শাখা কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়।

এ সময় আশপাশের বাড়ির লোকজনও প্রাণভয়ে পালিয়ে যায়। লুট হয় তাদের ঘরবাড়িও।

১ এপ্রিল চাকদায় হামলা

ফতেপুরের ঘটনার পরদিন সেখান থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের চাকদায় একইভাবে হামলা চালায় হাজারখানেক লোক। হুজুরে কেবলা নাটকে মুহাম্মদের কথিত চরিত্রহানীর সূত্র ধরে এক হিন্দু নারী ফের কটাক্ষ করেছেন- এমন গুজবে চাকদার সাত বাড়িতে এই হামলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাড়িগুলোতে লুটের পর ঘরে আগুন দেওয়া হয়। সব পুড়ে ছাই না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে হামলাকারীরা।

এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরেশ সর্দার (৪০) বলেন, “তিনটা অটো ভ্যানে করে ছোটো দাঁড়িওয়ালা লোকজন পেট্রোল নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত হামলাকারীরা ভাংচুর ও লুটতরাজ চালাতে থাকে।”

“ঘরগুলো পুড়ে ছাই হওয়া পর্যন্ত তারা বাইরে দাঁড়িয়ে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর,’ স্লোগান দিতে থাকে”, বলেন পরেশের মা সুনীতি রানী।

হামলার সময় পালিয়ে পাশের একটি জঙ্গলে অবস্থান করছিলেন তিনি।

বিক্ষোভের ভিডিওচিত্র দেখে পুলিশ অন্তত সাতজনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। এরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর কালীগঞ্জ শাখার সদস্য আয়ুব আলী গাজী (৪২), কানপুর কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন, বালিয়াডাঙ্গা মাদ্রাসার সুপার শামসুর রহমান (৬০), মনপুর মাদ্রাসার শিক্ষক মোস্তফা সরওয়ার (৩৮), কৃষ্ণপুরের শিবিরকর্মী মঞ্জিল হোসেন (২৮), কানপুর মহিলা মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমান (৪৫) ও মোহাম্মদপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার এরশাদ উল্লাহ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি নুরুল হুদার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি হাসতে থাকেন।

তার পাশ থেকে জামায়াতের আরেক নেতা এ সময় বলেন, এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়ার কিছু নেই। জামায়াত কার্যালয়ে কথা বলতে আসার বিষয়টিও গোপন রাখতে বলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ইএইচ/এএইচ/জেকে/১৭২৫ ঘ.
খবরের লিংক

সাতক্ষীরায় সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতা সেই সাংবাদিক গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ কালিগঞ্জের ফতেপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের পুত্র দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার স্থানীয় সংবাদদাতা মিজানুর রহমানকে ঢাকার গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করে বৃহষ্পতিবার বিকালে কালিগঞ্জে নিয়ে আসে। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টিসহ হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে সে এই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে এই অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে । সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জনকণ্ঠকে বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কালিগঞ্জ থানায় নেয়া হয়েছে।

কালিগঞ্জ থানার নিলকন্ঠপুর গ্রামের বদরউদ্দিনের পুত্র খলিলুর রহমান বাদী হয়ে ৫ এপ্রিল কালিগঞ্জ থানায় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলায় দৃষ্টিপাত পত্রিকার দক্ষিণ শ্রীপুর সংবাদদাতা হিসাবে মহানবী (স.) সম্পর্কে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে ¯ম্প্রদায়িক সংঘাতের সৃষ্টি করে। আসমির পাঠানো সংবাদ দৃষ্টিপাতে প্রকাশিত হলে ফতেপুর ও চাকদহে বিক্ষোভকারীরা বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। মামলার অভিযোগে বাদী তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ৮টি হত্যা মামলার আসামি ও শিবির ক্যাডার হিসাবে উল্লেখ করেছে।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

বাগেরহাটে সংখ্যালঘুর বাড়িতে হামলা ভাংচুর

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাগেরহাট, ১০ এপ্রিল ॥ বাগেরহাটের চিতলমারীতে স্কুল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দাঙ্গাবাজ কতিপয় ব্যক্তি মঙ্গলবার হিন্দুবাড়ি ভাংচুর করেছে। এ সময় হামলাকারীদের মারপিটে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূসহ ১১ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলো- সুকান্ত চৌধুরী, তার ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মিনতী চৌধুরী, ডব্লিউ চৌধুরী, কিশোর বিশ্বাস, বিরান বৈরাগী, বংশ বৈরাগী, সুবল মজুমদার, প্রকাশ চৌধুরী, আরতী চৌধুরী, মৃলাণী চৌধুরী ও সঞ্জয় চৌধুরী আহত হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থার সুকান্ত চৌধুরীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় চিতলমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার মুক্ত বাংলা চারিপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন মঙ্গলবার ছিল। এ ঘটনার জের ধরে সকাল সাড়ে ১০টায় পাঙ্গাশিয়া গ্রামের স্কুলের বর্তমান কমিটির সদস্য বিরান বৈরাগীকে বাবুগঞ্জ-চরশৈলদাহ গ্রামের দাঙ্গাবাজ মাসুমসহ ৩-৪ ব্যক্তি মারপিট করে। এ সময় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয়রা ঘটনাটি মীমাংসা করে দেন। এর সূত্র ধরে মাসুম, মামুন ও বাচ্চুর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন লোক পাঙ্গাশিয়া গ্রামের সুকান্ত, সুশান্ত ও ডাব্লিউর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা সুকান্তর বাড়ি ভাংচুর করে। তবে ওই এলাকার মানুষ পুনরায় হামলার ভয়ে আতঙ্কিত রয়েছে। এ ব্যপারে মাসুম ও তার লোকজন বাড়িঘর ভাংচুরের কথা অস্বীকার করেছেন। মুক্ত বাংলা চারিপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলক চন্দ্র মজুমদার জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়। অন্য ঘটনায় বসতবাড়ি ভাংচুর ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। তবে থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

রূপগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ৭ এপ্রিল ॥ রূপগঞ্জে দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এ সময় দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের ৩ সদস্যকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। শনিবার সকালে উপজেলার তারাব পৌরসভার তেতলাব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলার তারাব পৌরসভার তেতলাব এলাকার ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী তোতা মিয়া দেওয়ান ও তার বাহিনী দীর্ঘ দিন একই এলাকার সংখ্যালঘু পরিবারের হরেন্দ্র বিশ্বাসের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল হরেন্দ্র বিশ্বাস টাকা দিতে অস্বীকার করেন এরই জের ধরে শনিবার সকালে সন্ত্রাসী তোতা মিয়া দেওয়ানসহ তার লোকজন হরেন্দ্র বিশ্বাস মাঠে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় পথ রোধ করে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। এ সময় তার স্ত্রী কবিতা বিশ্বাস ও ছেলে অর্ঘ বিশ্বাস প্রতিবাদ করায় তাদেরও পিটিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

বরিশালে দু’গ্রুপের বিরোধ, মন্দির ভাংচুর লুট

নিজস্ব সংবাদদাতা, গৌরনদী, ৭ এপ্রিল ॥ বরিশাল নগরীতে মতুয়া সম্প্রদায়ের দু’গ্রপের বিরোধের জেরধরে মন্দিরে ব্যাপক ভাংচুর করে লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় একজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। শনিবার দুপুরে সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দু’পক্ষের প্রভাব বিস্তার নিয়ে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে। খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মতুয়া সম্প্রদায়ের দু’গ্রুপের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা অসীম সমদ্দারের নেতৃত্বে নিখিল হালদার, সুধীর চন্দ্র ঘরামী, ননী গোপাল হালদার ও বিপুল হালদারসহ অন্যরা নগরীর নতুনবাজার এলাকার পরিত্যক্ত পুকুর ভরাট করে শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ মতুয়া সম্প্রদায়ের মন্দির নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরণ ওই মন্দিরের উদ্বোধন করার পর মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। অনুষ্ঠান ও নেতৃত্ব নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে গান্ধী বড়াল, বিপুল হালদার ও কনাই কর্মকারসহ কতিপয় ব্যক্তি ২০১১ সালের শেষের দিকে একই এলাকায় আলাদা মন্দির নির্মাণ করে ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিকবার নানা অপ্রতিকর ঘটনা ঘটে। দু’পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বৈঠক ব্যর্থ হয়। পূর্ব বিরোধের জেরধরে শুক্রবার দুপুরে প্রতিপক্ষ গান্ধী বড়াল, বিমল হালদার, ভাষাই কর্মকার, শিব শংকর দাসসহ অর্ধশত ব্যক্তি অসীম সমদ্দার ও তার সমর্থকদের প্রতিষ্ঠিত হরি গুরু“চাঁদ ঠাকুরের বিগ্রহ ও অন্য সরঞ্জামাদি লুট করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে রাখে। ওইদিন রাতে হামলা চালিয়ে মন্দিরে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। ভাংচুরের সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন প্রেমানন্দ নামের একজন। খবর পেয়ে ওইরাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পোঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে প্রতিপক্ষের হামলা, মন্দির ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মতুয়া নেতা স্বপন কুমার ব্যাপারী জানান, হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তারা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ মতুয়া নেতা ভাষাই কর্মকার জানান, প্রতিপক্ষের লোকজনে তাদের ফাঁসাতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের নাটক সাজিয়েছে। অপরদিকে মতুয়া সম্প্রদায়ের দু’গ্রুপের উত্তেজনার খবর পেয়ে শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরণ। তিনি উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের ৩ ঘণ্টা অবরোধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এপ্রিল ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের’ বাড়িতে লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনায় চার দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্ররা।

শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকালে হল থেকে মিছিল করে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে শাহবাগে যায়। এরপর বেলা পৌনে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ফলে শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন, বিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মগেইট ও সায়েন্স ল্যাবরোটরিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধে তারা আবরোধ তুলে নিলে বেলা ১টা ৪০ এ যান চলাচল আবার শুরু হয়।

এর আগে বুধবার রাতেও একই অভিযোগে প্রায় এক ঘণ্টা শাহবাগ এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখে জগন্নাথ হলের ছাত্ররা।

এদিকে রাজধানীর গুলশান লেক সংলগ্ন কড়াইল বস্তি উচ্ছেদ করায় বস্তিবাসী সকালে মহাখালী থেকে গুলশান এক নম্বর মোড় পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে ওই এলাকাতেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় পুরো শহরে সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজট। অফিসগামী যাত্রী ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সকালে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন।

শহবাগ এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী জানান, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। ওই নাটকে ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করা হয়েছে- এমন অভিযোগ এনে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালায় এবং তাদের ওপর নির্যাতন করে।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র মানিক রক্ষিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে একই রকম ঘটনা ঘটেছে। এবার ঘটেছে সাতক্ষীরায়। এভাবে বারবার কেন সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে? সরকার কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না?”

আরেক শিক্ষার্থী অনন্ত ভৌমিক অভিযোগ করেন, বারবার সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হলেও মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এর কোনো প্রতিবাদ করছেন না।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের হাতে এ সময় বিভিন্ন বক্তব্য লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর একটিতে লেখা ছিল- ‘মিতা রানী আমার নাম, এই কি আমার অপরাধ?’

অ্যাকাউন্টিং শেষ বর্ষের ছাত্র মানিক রক্ষিত বলেন, তাদের দাবি চারটি। কালিগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সারা দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এসব বিষয়ে প্রশাসনকে সক্রিয় অবস্থান নিতে হবে।

পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার এস এম শিবলী নোমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা সংখ্যালঘু নির্যতনের প্রতিবাদে রাস্তা অবোরধ করে রাখে। তবে তারা যানবাহন ভাংচুর করেনি।”

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে তাদের অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, “সাতক্ষীরায় যে ঘটনা ঘটেছে তা লজ্জাকর, বেদনাদায়ক। তারা যে দলের সদস্য হোক না কেন- এই ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। দোষীদের শাস্তির আওতায় নেওয়া হোক- এটা আমাদের দাবি। আমরা আশা করি, সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, “এই সড়ক দিয়ে পুরো ঢাকার মানুষ চলাচল করে। আমি অনুরোধ করবো- তোমরা অবরোধ তুলে নাও। তারপরও আমাদের অন্তহীন প্রতিবাদ চলবে।”

পুলিশের রমনা জোনের সহকারী উপ কমিশনার নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করেছি। বলেছি, তারা যেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাদের স্মারকলিপি নেবেন।”

সাতক্ষীরার ঘটনায় পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উপাচার্য ও পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধে বেলা দেড়টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মানিক রক্ষিত বলেন, “আমরা শাহবাগ থেকে সরে যাচ্ছি। তবে আমাদের আন্দোলন চলবে।”

শিক্ষার্থীরা সরে যাওয়ার পর বেলা ১টা ৪০ থেকে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এলএইচ/এএসটি/জেকে/১৩৪৫ ঘ.

সূত্র: bdnews24.com

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু-বৌদ্ধ ঐক্যপরিষদ নেতৃবৃন্দের অভিযোগ : প্রশাসনের ব্যর্থতার কারনে কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদা গ্রামে এই নারকীয়

দেশনিউজ২৪ ডটকম : ধর্মন্ধতাকে পুঁজি করে একটি মহল অতি উৎসাহী হয়ে কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদা গ্রামে ১২টি হিন্দু পরিবার ও ৩টি মুসলিম পরিবারের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের বাড়ী-ঘর যেভাবে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে তা মধ্যযোগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারনে আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ হামলার ঘটনার সাথে জড়ীতদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং ক্ষতিগ্রসত্ম পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপুরন দেয়ার দাবী জানিয়েছে।

বাংলাদেশ হিন্দু -বৌদ্ধ ঐক্যপরিষদ ও বাংলাদেশ পুঁজা উৎজাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় নের্তৃবৃন্দ মঙ্গলবার কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদা এলাকা পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন এই অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মন্ডলির সদস্য বাসুদেব ধর সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে তারা জানতে পেরেছেন, ফতেপুর হাইস্কুল গত ২৭ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যে নাটক মঞ্চস্থ করেছিল তাতে মহানবী (স:) সম্পর্কে কোন ধরনের কটুক্তি করা হয়নি। অথচ সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকা ঘটনার ২ দিন পর পরিকল্পিত ভাবে গত ২৯ মার্চ সংখ্যায় মিথ্যে ও মনগড়া তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ঘটনা উস্কে দিয়েছে। উদ্ভত এই পরিস্থিতির জন্য ওই পত্রিকার সম্পাদক দায়ী। তিনি ওই রিপোর্টের সমালোচনা করেন এবং পত্রিকাটি বন্ধ করার দাবি জানান। তিনি বলেন, ঢাকায় ফিরে গিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পত্রিকার ভূমিকা সহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরবেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রথম থেকে যদি প্রশাসন আরও কঠোর হতো তাহালে পরিস্থিতি এতদূর গড়াত না। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারনে কালিগঞ্জের ফতেপুর এলাকায় এই নারকীয় হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং যা পরে উপজেলার চাকদহা পর্যমত্ম বিস্তৃতি লাভ করেছে। ভবিষ্যতে যাতে এধরনের ঘটনা ওই এলাকায় আর না ঘটে সেজন্য প্রশাসনকে সজাগ থাকার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিতি ছিলেন বাংলাদেশ পুঁজা উৎজাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি, সাতক্ষীরা পুঁজা উৎজাপন পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন মুখার্জি সহ জেলার নের্তৃবৃন্দ।
সূত্র: দেশনিউজ২৪

ধর্মান্ধদের হামলায় জ্বলছে সাতক্ষীরার ফতেপুর গ্রাম

পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক
স্টাফ রিপোর্র্টার, সাতক্ষীরা ॥ কালিগঞ্জের ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মিতা রানীকে স্কুলে ডেকে এনে গ্রেফতার করে থানার ওসি ফরিদ আহমেদ। একই সময়ে গ্রেফতার করা হয় প্রধান শিক্ষক রেজওয়ান হারুনকে। স্বাধীনতা দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছাত্রদের অভিনীত একটি নাটকে নবীজী সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছে এই অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হলেও শনিবার কয়েক হাজার মানুষ হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে হাজতে আটক থাকা মিতা রানীর বসতবাড়ি। আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আকুল মেম্বরসহ তাঁর তিন ভাইয়ের বসতবাড়ি। পোড়ানো হয়েছে স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিষদ। ভেঙ্গে তছনছ করা হয়েছে ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র। লুট করা হয়েছে হাকিমের বাঁশতলা বাজারের কম্পিউটারের দোকান। শনিবার সকাল ১১টায় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা কয়েক হাজার মানুষ এই অতর্কিত হামলায় অংশ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলায় অংশ নেয়া অধিকাংশই ছিল বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র ও মৌলবাদী সংগঠনের সদস্য। অভিযোগ, হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবি করে পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষোভ প্রশমনের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা প্রশাসক ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, আনওয়ানটেড ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বিচ্ছিন্নভাবে ঘটনা ঘটায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্কুলের পাশে লক্ষ্মীপদ ম-লের বাড়িতে হামলাকারীরা নতুন করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বাড়িটি এখনও জ্বলছে।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের নাটকে নবীজী সম্পর্কে কি কটূক্তি করা হয়েছিল এ বিষয়টি এলাকার কারও কাছে স্পষ্ট না হলেও এই ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুল প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলামসহ সকলে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার ঘোষণা দেন। এরপরও এ ঘটনায় দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি সদস্য আবু জাফর সাঁপুই বাদী হয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, তিন সদস্য, দু’জন শিক্ষক ও নাটক পরিচালনাকারীর নাম উল্লেখ করে শুক্রবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা করার পরই ওসি স্কুলে এসে শিক্ষকদ্বয়কে স্কুলে ডেকে এনে তাদের গ্রেফতার করেন।
এদিকে মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনার পরও শনিবার সকাল ১১টার দিকে কৃষ্ণনগর, বালিয়াডাঙ্গা ও রামনগর গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষ লাঠি নিয়ে হামলিয়ে পড়ে ফতেপুর গ্রামে। কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আনছার উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান জাপানেতা মোশারাফ হোসেনের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও অংগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটালেও সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা ছিল একেবারেই নির্বিকার। পুলিশ সুপার জানান, শনিবারের এই হামলার বিষয়টি সম্পর্কে তাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যর্থ হয়েছে। তারা কোন ভাবেই অবগত ছিলেননা।
সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের এই ফাতেপুর গ্রামে বেলা দেড়টায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১১টায় ধরিয়ে দেয়া আগুনে জিবির সদস্য আকুল মেম্বারসহ তার তিন ভাইয়ের বসতঘর তখনও জ্বলছে। হাজতে আটক মিতা রানীর বাড়িতে প্রথমে আগুন দেয়া হলেও প্রতিবেশীদের অনুরোধে আগুন না দিয়ে বাড়িটি ভাংচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে প্রতিটি জিনিস। ৩ বছরের ছোট ছেলে দীপুর বালিশটি পড়ে আছে পুকুর ধারে। মায়ের শাড়ির ছেড়া অংশ পড়ে আছে বাড়ির সামনে।
এই হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের পর সেখানে প্রায় ৪ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সকলে এলাকায় অবস্থান করছেন। হামলাকারীদের ভয়ে গ্রামের মানুষ এখন মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, ধর্মীয় ইস্যুর পাশাপাশি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষকে জব্দ করতে এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে। সরকারকে বিব্রত কর অবস্থায় ফেলতে এবং ইমেজ নষ্ট করতেই এই ঘটনা বলে অনেকের অভিযোগ। এ ছাড়া কালিগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ উদ্দিনের ভূমিকাও রহস্যজনক এমন অভিযোগ করে এলাকাবাসী জানান, পুলিশ সতর্ক থাকলে ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটতনা। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার করতে এই ওসির আগ্রহ অনেক বেশি- এমন অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি করেছে এলাকাবাসী।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

হিন্দু বাড়িতে হামলা, সাতক্ষীরায় এসপি-ওসি প্রত্যাহার

সাতক্ষীরা, এপ্রিল ০৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটাক্ষ করার কথিত একটি ঘটনাকে ঘিরে হিন্দুদের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার পরদিন পুলিশ সুপার (এসপি) ও কালীগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার সোমবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, এসপি হাবিবুর রহমান খান ও ওসি ফরিদউদ্দিনকে প্রত্যাহারের কথা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সোমবার একটি ফ্যাক্স বার্তায় জানানো হয়।

জয়দেব কুমারকে পুলিশ সুপারের দায়িত্ব এবং ডিবি ইন্সপেক্টর আমানউল্লাহকে কালীগঞ্জের ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

ইসলামী মৌলবাদীদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পাটাতন জামায়াতে ইসলামীর শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিতি রয়েছে সাতক্ষীরার।

জামায়াতের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতৃত্ব যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ মার্চ ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসের নাটকে একটি চরিত্রের মাধ্যমে মহানবী (সা.)’র প্রতি কটূক্তি হয়েছে বলে শোরগোল বাঁধে।

এ নিয়ে একদল মুসলমানেরর বিক্ষোভের পর ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নাটকের রচয়িতা সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাকদহা গ্রামে রোববার রাতে সালিশ বসলে সেখানে মন্তব্য-প্রতি মন্তব্যের সূত্র ধরে স্থানীয় হিন্দুদের বাড়িতে হামলা চালায় একদল মুসলমান।

এ সময় তারা চাকদহা গ্রামের শ্যামাপদ সরদার, তার ভাই কৃষ্ণপদ সরদার, রণজিত সরদার, সুধির সরদার, শিবুপদ সরদার, দেশবন্ধু সরদার, আশুতোষ সরদার, সুজিত সরদার, নিরঞ্জন সরদার, জগবন্ধু সরদারের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করে।

এ সময় কৃষ্ণপদ, রণজিত, সুধির ও শ্যামাপদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করা হয়।

খবর পেয়ে অগ্নি নির্বাপক বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বাধার মুখে তারা কাজ করতে পারেনি।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌফিক-ইলাহী চৌধুরী, ওসি সৈয়দ ফরিদউদ্দীন এবং পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হামলাকারীরা লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, অতিরিক্ত ডিআইজি রফিকুল ইসলাম রফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান।

তারা দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়ে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এসময় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেয় প্রশাসন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/এএইচ/পিডি/০০৪০ ঘ.

সূত্র: bdnews24.com

সাতক্ষীরায় ৭ সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে

পিবিসি নিউজঃ

সাতক্ষীরায় ৭ সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে পুলিশ ছিল নীরব দর্শক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটপূর্বপরিকল্পিত মিজানুর রহমান, কালীগঞ্জের চাকদহা থেকে ফিরে ॥ চারদিকে পোড়া গন্ধ হাঁড়ির ভাত, মেটেতে রাখা চাল, পোড়া কাপড়, হাঁড়ি পাতিল, ঘরেরচালের টিন আর মাটির পোড়া গন্ধের মধ্যে বসে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে চাকদহা গ্রামের ৭টি সংখ্যালঘু পরিবার রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ব্যবসায়ী পরিবারে সহায়সম্বল আর খাদ্য সবই ছিল সোমবার সকালে এসব পরিবারে চলছে সব হারানোর বোবা কান্না।

প্রচ- রোদে মাথা গোঁজার ঠাই নেই। গৃহবধূ থেকে স্কুলছাত্র সকলেই একটি পরিধেয় বস্ত্রে এখন দিন কাটাচ্ছে। রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ সবপরিবারে কোন চুলো জ্বালানো সম্ভব হয়নি। ভাংচুর, লুটপাট আর অগ্নিসংযোগে এরা এখন নিঃস্ব। কালিগঞ্জের ফতেপুরে ধর্মান্ধদের তা-বের পর চাকদহা গ্রামেরনারকীয় তা-ব হার মানিয়েছে ’৭১-এর পাকসেনা ও তাদের দোসরদের।

চাকদহা গ্রামে যেভাবে হামলা করা হয়

ফতেপুর গ্রামের লক্ষ্মীপদ ম-লের মেয়ে নমিতা চাকদহা গ্রামের শ্যামাপদ সরদার পরিবারের গৃহবধূ। শনিবার রাতে হামলাকারীরা পুড়িয়ে দেয় ফতেপুরের লক্ষ্মীকান্তের বসতবাড়ি। রবিবার দুপুরে বাড়ির পুকুর ঘাটে বসে শ্যামাপদের স্ত্রী ললিতা সরদার (৪৫) ও পাশের গ্রামের ফজর আলির স্ত্রী আনুরা (৪০)এর মধ্যেকথা হয় ফতেপুরের হামলার ঘটনা নিয়ে। ফতেপুরের নিরীহ গ্রামবাসীর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া অন্যায় হয়েছে এমন মন্তব্যে নাখোশ হয় আনুরা বেগম। নবীজি সম্পর্কে কটূক্তি করেছে ললিতা এমন প্রচারে বিকাল থেকেই এই সরদার পরিবারের বাড়ির সামনে লোক জড়ো হতে থাকে সন্ধ্যার কিছু আগে স্থানীয় নাজিমগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি ফিরোজ কবীর কাজল, স্থানীয় ইউপি মেম্বারসহ সকলে ললিতার বাড়িতে বসে তাকে এধরনের কথা বলার জন্য ক্ষমা চাইতে চাপপ্রয়োগ করে সমঝোতা বৈঠকে উত্তেজিত হয়ে ওঠে বাইরের গ্রাম থেকে আসা ২ শতাধিক যুবক ও ক্যাডার তারা লাথি মেরে তাদের ভারতে পাঠিয়ে দেয়ারহুমকি দিয়ে জড়ো হতে থাকে, এসব বাড়ি থেকে প্রায় ৫শ’ গজ দূরের চৌরাস্তায়। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে এই আশঙ্কায় সেখানে প্রায় ৩০ সদস্যের পুলিশ রাখা হয সন্ধ্যার পর প্রায় ৭টার দিকে মোবাইলের মাধ্যমে ডেকে আনা হয় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক হাজার কিশোর যুবককে। পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েথাকা এসকল বহিরাগতরা আধাঘণ্টার মধ্যেই চিৎকার দিতে দিতে জড়ো হয় এসকল বাড়ির সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেবাড়ির মধ্যে। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ আশ্র্রয়ের জন্য ছুটতে থাকলে শুরু হয় লুটপাট। দরজাজানালা ভেঙ্গে তারা ঘরে ঢুকে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান কাপড়সহ জমির দলিল, মূল্যবান কাগজপত্র সব কিছু লুট করতে থাকে দলবদ্ধ ভাবে। ঘর থেকেপালিয়ে যাওয়ার সময় তারা সুজিতের স্ত্রীর কানের দুল খুলে নেয়।ললিতার হাতে থাকা সোনার গয়নার কৌটা কেড়ে নেয় তারা কৃষ্ণপদ, শ্যামাপদ, রনসরকার, সুধীর সরদার, নিরঞ্জন, শিবু, ভবরঞ্জন, জগদীশ, বিশ্বজিতসহ ১০টি পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুট করা হয়। লুটের মালামাল নিরাপদ স্থানেরেখে এসে তারা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্যামাপদ সরদারের পাকা ঘরে। এ সময় পুড়িয়ে দেয়া হয়

কৃষ্ণপদের ৩টি, শ্যামাপদের ২টি, রনসরকারের ৩টি ও সুধীর সরদারের ১টি বসতঘর। পুলিশের উস্থিতিতে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে এই নারকীয় তা-ব চললেও পুলিশ ছিল নির্বিকার ও নীরব দর্শক।



আগুন নেভাতে বাধা

ধর্মীয় ইস্যুকে পুঁজি করে চাকদহা গ্রামে ধর্মান্ধদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের তা-বে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদ্যের নমনীয়তার কারণে আগুননেভাতে যাওয়া অগ্নিনির্বাপক দলের সদস্যরা এলাকায় ঢুকতে পারেনি। আগুনের লেলিহান শিখায় ৮টি বাড়ি পুড়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলাকারীরাঅগ্নিনির্বাপক দলের সদস্যদের ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। রাতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এডিশনাল ডিআইজি, র‌্যাব সদস্যসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।



ঘটনার সূত্রপাত যে কারণে

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কালীগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ডিগ্রী বাংলা ভাষা পাঠ্য বইয়ের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ওরাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের লেখা ‘হুজুর কেবলা’ নাটকটি অভিনয় করে। এই নাটকে নবীজী সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছে এই অভিযোগে স্থানীয়একটি দৈনিকে ২৯ মার্চ রিপোর্ট প্রকাশিত হলে উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলায় বাদী আবু জাফর সাপুই লিখিত অভিযোগে বলেছেন, দৈনিক দৃষ্টিপাতে এ বিষয়ে লেখা প্রকাশিত হলে কালীগঞ্জসহ ফতেপুর ওই এলাকায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা মিছিল মিটিং করে আসামিদের বিচার দাবি করে। এ কারণে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলামসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলাদায়ের করেন বলে

মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন। কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এই মামলায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষিকাকে ডেকে এনে গ্রেফতার করলেও শনিবারসকাল থেকে বহিরাগত কয়েক হাজার মানুষ গ্রামে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। রাতে তারা হাজতে আটক স্কুল শিক্ষিকা মিতারানীর বাড়িসহ আরও ৩টি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং লুটপাট করে। পুলিশের উপস্থিতিতে এই নারকীয় তা-ব হলেওকালীগঞ্জ থানার ওসি ফরিদউদ্দিনসহ পুলিশের জেলা পর্যায়ের চেন অব কমান্ড ভেঙ্গে যায় বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা অভিযোগ করেন। এই হামলা ওউত্তেজনায় মদদদাতা হিসেবে প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরেকালীগঞ্জ থানায় থাকা ওসি ফরিদ উদ্দিনের প্রত্যাহারসহ জেলা পুলিশের প্রত্যাহার দাবি করেন। ফতেপুর গ্রামে অব্যাহত হামলা ও তান্ডবের পর রবিবার ফতেপুর গ্রামবাসী এলাকায় শান্তি মিছিল ও প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ফতেপুর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে চাকদহা গ্রামে একই ইস্যুকে পুঁজি করে এই হামলা,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়। হামলায় অংশ নেয়া অধিকাংশ ব্যক্তির ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সূত্র: www.pbc24.com

দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারন ধর্মীয় নয়, আ. লীগ:

দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারন ধর্মীয় নয়, আ. লীগ: দেশে চলছে বাবুদের শাসন চললেও সাধারণেরা নির্যাতিত
লিখেছেন হাসান , রাত ০৩: ২৯, ১৪ নভেম্বর, ২০১১

সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি যেভাবে প্রচার করা তার মাধ্যমে সত্যিকার নির্যাতনকারীরা আড়ালে চলে যাচ্ছে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/hassan201111091320812768_2.jpg
নির্যাতনের শিকার অমরেন্দ্র
http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/hassan201111091320812768_1.jpg
http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/hassan201111091320812768_dshaha_1285285425_1-P1_saradeshe-songkhaloghude.jpg
http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/hassan201111091320826424_udashpothik_1281711612_1-1_66.jpg
রাজধানীর সূত্রাপুরে দুই আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী দুইশ’ বছরের প্রাচীন একটি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ৫টি প্রতিমা ভেঙে চুরমার করছে Click this link
http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/hassan201111091320826424_mandir%201.jpg
লালমনিরহাটের সদর উপজেলার ভোলার চওড়া নামক গ্রামে গভীর রাতে ক্ষমতাসীনরা সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের (হিন্দুর ) মহাদেব ও কালীমায়ের মন্দিরে প্রবেশ করে প্রায় ভরি খানেক স্বর্ণালঙ্কার লুট করা ছাড়াও ভেঙ্গে দিয়েছে মহাদেব ঠাকুরের মূর্তি
http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/hassan201111091320826424_15.jpg
শেরপুরে মন্দির ভাংচুর করে জায়গা দখল

সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি যেভাবে প্রচার করা তার মাধ্যমে সত্যিকার নির্যাতনকারীরা আড়ালে চলে যাচ্ছে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশে অন্যান্য ধর্মালম্বীদের উপর অত্যাচার যা হয়, তার সাথে কোন ধর্মীয় কারন বা ধার্মিক কেউ জড়িত থাকার ঘটনাও আমার জানা নেই। অধিকাংশই হয়ে থাকে বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতাসীনদের দ্বারা। আমার এলাকায় হিন্দু কিংবা অসহায় মুসলমানদের যেসব সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে তার সবগুলোই করেছে ক্ষমতাসীনরা।

যদিও বিশেষ দেশের সাথে বিশেষ সম্পর্কের কারনে বিশেষ সম্প্রদায়ের সংশ্লিষ্ট লোকেরা দেশের শীর্ষ পর্যায়ের পদে আসীন হয়ে অন্যরকম সুবিধা পাচ্ছে। তবে বিশেষ সম্প্রদায়ের সাধারন লোকেরা ক্ষমতাসীনদের হাতে বরাবরের মতই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। দেশে চলছে বাবুদের শাসন Click this link (http://www.sonarbangladesh.com/blog/actvisit/49793)


দেখুন সারা দেশের মত বাংলাদেশ ব্যাংকও চালাচ্ছেন এরা কারা? তাদের দাপটে গভর্ণর বেচারা বড়ই অসহায়!

Click this link (http://sonarbangladesh.com/blog/jihad2009/74855)

বিদেশী ম্যানেজারদের কাছে বন্দী পোশাকশিল্প: অবৈধভাবে বসবাসকারী ৬ লাখ ভারতীয়: সারা দেশে দাবড়ে বেড়াচ্ছেন ৪০০০০ Click this link (http://www.sonarbangladesh.com/blog/hassan/71410)

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী পরিচয় দেয়া একশ্রেণীর সুবিধাভোগীর হাতে দেশজুড়ে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ। সংখ্যালঘুদের মধ্যে যারা দুর্বল তাদের জায়গা-জমি, ঘরবাড়ি, মন্দির, শ্মশান, সমাধিক্ষেত্র থেকে শুরু করে ভিটেমাটি, সহায়-সম্বল দখল ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ওইসব সুবিধাভোগীর বিরুদ্ধে। অথচ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, ‘ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে; কিন্তু বাস্তব ঘটনা পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এখন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতেই বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। গত বছরের ৬ জানুয়ারি মহাজোট সরকার গঠনের কয়েকদিন পর থেকেই দখল প্রক্রিয়া ও নির্যাতন শুরু হয়ে এখনও অব্যাহত রয়েছে। মারধর, শ্লীলতাহানির পাশাপাশি আগুনে পুড়িয়ে, কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি। এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে নালিশ জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। কোনো কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা নির্যাতিতদের সহযোগিতার বদলে দলীয় দখলবাজ সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলা ও নির্যাতনের তালিকায় কয়েকটি স্থানে পুলিশের নামও রয়েছে।
http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/hassan201111091320812768_3.jpg
http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/hassan201111091320812768_4.jpg
ঝিনাইদহে আবারো সংখ্যালঘু নির্যাতন ...


বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের হাতে নির্যাতিত হিন্দু ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা ঢাকায় এসে বেশ কয়েকটি সংবাদ সম্মেলন করেও এসব অভিযোগ জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনগুলোর একটির ব্যানারে লেখা ছিল, ‘নৌকার কাণ্ডারী ও মাঝিমাল্লা কর্তৃক হামলা, মামলা, নির্যাতন ও বাপ-দাদার ভিটে-ভূমি, সহায়-সম্পত্তি জবরদখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।’ এসব সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত হিন্দুরা স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই তাদের জমি, বাড়ি দখলের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এর মধ্যে অনেককে নির্যাতনের মাধ্যমে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

সরকারদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্যকেও তারা অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তারা আরও বলেন, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলেও সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছিল। তবে এ সময় তাদের দেশ বা এলাকা ছেড়ে যেতে হয়নি, এখন পালিয়ে থাকতে হচ্ছে বা দেশান্তরী হতে হচ্ছে। তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিচারের জন্য কমিশন গঠন করেছে। অথচ তারই বিপরীতে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের হাতে জমিজমা, ভিটেমাটি, সহায়-সম্বল হারিয়ে সংখ্যালঘুদের দেশান্তরী কিংবা উদ্বাস্তু হতে হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসাবে, ২০০৯ সালে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনে ৫৬৯ জন এবং ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর ৬১ জন আহত হয়েছে। চলতি বছরের ৯ মাসেও নির্যাতনের শতাধিক ঘটনা ঘটেছে।

পর্যবেক্ষক মহল বলে, দেশ স্বাধীনের পর রক্ষী বাহিনী ও বাকশাল গঠনের পর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক হিন্দু পরিবার দেশ ত্যাগ করেছিল বলে অভিযোগ আছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেও বিপুলসংখ্যক হিন্দু পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও চলছে নির্যাতন-নিপীড়ন। এসবের মূল উদ্দেশ্য তাদের ভিটেমাটি ও জমিজমা দখলে নেয়া। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান আমার দেশকে বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এদের সিংহভাগই আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নৌকা প্রতীকের ভোটার। এ কারণে মারলে-কাটলেও তারা কোনো প্রতিউত্তর করতে পারেন না।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা সিআর দত্ত বীরউত্তম আমার দেশকে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এ কথা সত্য। তবে তারা কেউ ব্যক্তিগতভাবে কাছে গিয়ে প্রতিকার চায়নি। তিনি এর আগেও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পত্রিকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি নির্যাতনের বেশ কিছু খবর জেনেছেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের তারা বিষয়গুলো জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছেন। তিনি বলেন, সবার বোঝা উচিত সংখ্যালঘু হিসেবে হিন্দুদের ওপর যে হামলা-নির্যাতন হচ্ছে তা দেশের মানুষ পছন্দ করে না। এগুলো যারাই করুক তারা পার পাবে না। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার্থে দেশের গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান সিআর দত্ত।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত আমার দেশকে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর থেকে সংখ্যালঘুদের জমি দখল, ভিটেমাটি থেকে তাদের উচ্ছেদ, মন্দির দখল, সমাধি দখল, মন্দিরে তাদের যেতে বাধা, মারধর ও খুনের ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সংখ্যালঘু নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা বর্তমান সরকারি দলের পরিচয় দিচ্ছে।

পিরোজপুর, নাটোর, সীতাকুণ্ড ও গফরগাঁওয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও প্রত্যক্ষভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, তারা কয়েক দফায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। গত বছর ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে তারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী পরিচয়দানকারীদের হাতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরিষদের নেতারা বলেছিলেন, দুষ্কৃতকারীরা সরকারি দলের লোক বলে পরিচয় দিচ্ছে। ফলে তারা একের পর এক অপরাধ করলেও দলের লোক বলে থানা পুলিশও মামলা নিতে চায় না। ওই সময় আশরাফুল ইসলাম তাদের বলেছেন, তিনিও বিষয়টি কমবেশি জানেন। সরকারি দলবদল না হলে দিনবদল হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন। পরিষদের পক্ষ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আদলে প্রধানমন্ত্রীর অধীন একটি সেল ও প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলে একটি সংখ্যালঘু সেল করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, প্রস্তাব ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। রানা দাসগুপ্ত আরও বলেন, গত ২৮ আগস্ট জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারি দলের পরিচয়দানকারীদের হাতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি তাকে অবগত করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে তার অধীনে একটি সংখ্যালঘু সেল গঠনের প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন।

আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অসংখ্য চিত্র ওঠে এসেছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০টি ঘটনা চাঞ্চল্যকর।

:-t গত ১৯ সেপ্টেম্বর পিরোজপুরের নাজিরপুরে রুহিতলাবুনিয়া গ্রামে মন্দিরের জমি দখল করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন মাঝি ও অপর আওয়ামী লীগ নেতা মনোরঞ্জন গোলদার গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হয় ২৫ জন। মনোরঞ্জনের দাবি, ৪০ বছর ধরে শ্রী শ্রী গোবিন্দ মন্দিরের কমিটির নিয়ন্ত্রিত জমিটি দখলের জন্য আলাউদ্দিন মাঝির লোকজন হামলা করে প্রতিমাসহ মন্দিরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

:-t গত ১১ আগস্ট রাজধানীর সূত্রাপুর ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা হাজী ইসলাম ও সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক দলীয় লোক দক্ষিণ মৈশুণ্ডির ২২২, লালমোহন সাহা স্ট্রিটে শ্রী শ্রী রাধাকান্ত ঠাকুরানী লক্ষ্মী জনার্ধনচক্র বিওবিগ্রহ মন্দিরে হামলা করে। তাদের হামলায় ৩৫টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ওই হামলার পর এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ৩৫টি হিন্দু পরিবার।

:-t গত ৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চানতারা গ্রামে সরকারি দল আশ্রিত একদল দুর্বৃত্ত আহমদিয়া জামাতের উপাসনালয় নির্মাণের সময় হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা আহমদিয়াদের বেশ কয়েকটি বাড়ি এবং দুটি পোলট্রি ফার্ম ভাংচুর করে। হামলায় ১০ জন আহত হন। এর আগে গত ১৭ জুন একই জায়গায় আহমদিয়া জামাতের নির্মাণাধীন উপাসনালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়েছিল।

:-t গত ১২ জুলাই নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার নাকইলে ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর এক পল্লীতে আওয়ামী লীগ কর্মী শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ভূমিদস্যু জমি দখলের জন্য হামলা চালায়। এ সময় ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। হামলাকারীরা সংখ্যালঘু নারী-পুরুষদের মারধর করে।

:-t গত ২৫ মে রাজশাহীর চারঘাটে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী আজহার উদ্দিন তার দলবল নিয়ে অনিলচন্দ্র মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা অনিলচন্দ্র, তার স্ত্রী বাসন্তী রানী, ছেলে শ্যামলচন্দ্র মণ্ডল, তার ভাই অভিচরণ মণ্ডল, অভিচরণ মণ্ডলের স্ত্রী শান্তা রানীকে কুপিয়ে জখম করে।

:-t ১৭ মে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজারের সিঙ্গরপুর পানপুঞ্জিতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সমাধি দখল করে ক্রুস গুঁড়িয়ে দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মতিন ও তার সহযোগীরা। হামলাকারীরা প্রয়াত এক মন্ত্রীর সমাধি গুঁড়িয়ে দেয় এবং আরও ১০টি সমাধির ক্রুস গুঁড়িয়ে দিয়ে সমাধি দখল করে নেয়।

:-t গত ১৪ মে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের উজয়মারিতে ২২টি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল করে নেন আওয়ামী লীগের এক কর্মী। ওই জমিতে ইটভাটা তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। দখলে বাধা দেয়ায় রমেশ মণ্ডলসহ তিনজন আহত হন।

:-t গত ২০ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের আতাশুর গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে সালাউদ্দিন, সালাম, মোস্তফা, সাজু, সাজ্জাদ, পিন্টুর নেতৃত্বে একটি দল জমি দখল করতে গেলে বাধা দেয়ায় অজিত করাতি ওরফে খিরমহনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় আহত হয়েছিল ১০ জন হিন্দু।

:-t ৫ মার্চ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামে হিন্দু তিন পরিবারের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। কয়েক বছর আগে আওয়ামী লীগ কর্মী আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রেজাউলসহ কয়েকজন স্থানীয় হিন্দু নবকুমারের ছেলে প্রদীপ কুমারকে রামদা দিয়ে কোপায়। এতে রেজাউলসহ তিনজনের নামে মামলা হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ওরা মামলাটি তুলে নিতে চাপ দেয়। মামলা না তোলায় সন্ত্রাসীরা নবকুমারের জমি থেকে পাট কেটে নেয়। নবকুমার আরেকটি মামলা করলে তার ভাই শৈলেন্দ্রনাথকে কয়েক দফা মারধর ও বাড়ি লুট করা হয়। ফের ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করা হয়। সন্ত্রাসীরা বাড়িতে গিয়ে নবকুমারকে মামলা ওঠানোর জন্য সাদা স্ট্যাম্পে সই দিতে বলে। রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা তার পরিবারের সদস্যদের সামনে বাবা-ছেলে ও মা সুধারানীকে বেদম মারধর করে। বাবা ও ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে আবদুর রাজ্জাকের বাড়িসংলগ্ন একটি শিমুল গাছে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে গলায় রামদা ধরে তাদের কাছ থেকে মামলা তুলে নিতে কাগজে সইও নেয়া হয়। পরে তাদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

:-t পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখালীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান ছায়েদের লোকজন ১ এপ্রিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী শংকরের বাড়িতে হামলা করে তার ভাই সুভাষকে জখম করে। ছায়েদের এক ছেলে এএসপি ও ছোট ছেলে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে হিন্দুরা প্রশাসনের তেমন কোনো সমর্থন পায়নি। এর কয়েকদিন পরই হিন্দু ব্যবসায়ী বলরাম বেপারির দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়। বলরামের একটি বলদ গরু ধরে নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। একই এলাকার অনিলচন্দ্র হালদারের ছেলে শ্যামলচন্দ্র হালদার ও সুধীর রঞ্জন হালদারের ছেলে সুশান্ত হালদারের প্রায় ২৫ বিঘা জমি দখলের চেষ্টায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের অপর একটি গ্রুপ বেশ কয়েক দফা ওই বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আমড়াগাছিয়া ইউপি মেম্বার বিকাশকেও নির্বাচনে প্রার্থী না হতে হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল ওই এলাকার তিন শতাধিক হিন্দু গণস্বাক্ষর দিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। তারা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব ঘটনার প্রতিকার চায়। এসব ঘটনার জন্য তারা স্থানীয় এমপিকে দায়ী করে।

:-t সংখ্যালঘু নির্যাতনের ন্যক্কারজনক কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। স্থানীয় এমপির ছেলে বন বিভাগের গাছ কেটে জায়গা দখলের পর ওই জমিসংলগ্ন জেলেপাড়ার ৭০/৮০টি হিন্দু পরিবারের চলার পথ বন্ধ করে দেন। পরিবারগুলোর অভিযোগ, তাদের উচ্ছেদের জন্য এসব করা হয়েছে। প্রতিকারের দাবিতে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করেন। প্রশাসন দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মামলা নেয়ার অঙ্গীকার করলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। ওই মামলার তদন্ত এখনও শেষ করতে পারেনি পুলিশ। ফলে পরিবারগুলো এখনও এ নিয়ে চরম উত্কণ্ঠায় রয়েছে।

:-t গত ৫ এপ্রিল সীতাকুণ্ডে সংখ্যালঘুদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ, নির্যাতন ও হামলা-মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করায় সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধ ও কল্যাণ কমিটির সভাপতি আমিরাবাদ মায়াকুঞ্জের বাসিন্দা অমরেন্দ্র মল্লিককে পিটিয়ে এলাকাছাড়া করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। অমরেন্দ্রের বাড়িতে হামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে ও তাকে উলঙ্গ করে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাদের প্রকাশ্যে পেটাতে পেটাতে পৌর ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। ভবনের একটি কক্ষে আটকে রেখে পৌর মেয়র শফির নেতৃত্বে বাবা ও ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন অমরেন্দ্র। ওই সময় অমরেন্দ্রের বিবাহিত মেয়ে বাবা ও ভাইয়ের খোঁজে কাঁদতে কাঁদতে পৌর ভবনে এলে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। একইদিন বাবা-ছেলের নামে চুরি ও মারধরের মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয়। এসব ঘটনার পর সীতাকুণ্ডের স্থানীয় এমপি আবুল কাশেম মাস্টারের ভাগ্নের হাতে শতাধিক সংখ্যালঘু জেলে পরিবার অবরুদ্ধ হওয়ার প্রতিকার চাইতে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে অমরেন্দ্র লেখেন, চট্টগ্রামে নৌকার কাণ্ডারী ও মাঝিমাল্লা কর্তৃক হামলা-মামলা, নির্যাতন ও বাপ-দাদার ভিটেভূমি, সহায়-সম্পত্তি জবরদখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।’ অমরেন্দ্র আমার দেশ কার্যালয়ে এসে তার ওপর নির্যাতনের করুণ কাহিনীর বর্ণনা দেন।

:-t গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি সঞ্জীব দ্রং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে ২২ জানুয়ারি তার ওপর হামলার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সৌভাগ্যক্রমে তিনি মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন।

:-t গত বছর ২২ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ার তাজপুর গ্রামে দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ও খড়ের পালায় দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এতে রাজবিহারী ঘোষ নামের এক বৃদ্ধ দগ্ধ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ঐক্য পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত বলেন, সরেজমিন অনুসন্ধানে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আসে।

:-t একই বছরের ২০ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার দেবহাটার ঢেবুখালিতে ৩০০ বিঘার একটি ঘের দখল করে নেয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগিতায় একটি বাহিনী।

:-t গত বছরের ২৫ জুলাই নরসিংদীর পলাশের চরসিন্দুর গ্রামে শ্মশানের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের চারটি বাড়িঘর ও মূর্তি ভাংচুর এবং তাদের বাড়িতে লুটপাট করা হয়।

:-t ১১ জুলাই ঢাকার দোহারের নারিশা পূর্বচর গ্রামে সংখ্যালঘু নৃপেন মালাকারের জমিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে তা দখল করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

:-t ২২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের সিকদার বাড়িসহ চার সংখ্যালঘু পরিবারের পানের বরজ ও খড়ের গাদা পুড়িয়ে দেয়া হয়।

:-t গত বছরের ২২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয় দেয়া একদল সন্ত্রাসী বন্দুক উঁচিয়ে কাফরুল থানার পুলিশের সামনেই ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী রীতা গমেজের বাড়ির একাংশ দখল করে নেয়। রীতার পরিবার থানায় অভিযোগ করতে গেলে তা নেয়া হয়নি। রীতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জানান, তিনিও আওয়ামী লীগের কর্মী। গত নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। অথচ এখন আওয়ামী লীগের পরিচিত লোকজন পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে তাদের উচ্ছেদ করছে। রীতা অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় উপস্থিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে এবং হুমকি দিয়ে বলে তারা রীতার পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেই ছাড়বেন। ওই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দলের লোকজনকে নিবৃত্ত না করে উল্টো বলেন, বাংলাদেশে জমিজিরাত দখলের ঘটনা ঘটছে, এগুলো স্বাভাবিক অপরাধ। এগুলোকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে কেন? আপনারা তো বিএনপি-জামায়াত সরকারের তুলনায় অনেক ভালো রয়েছেন। আর কী চান? ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের উদাসীনতার অভিযোগ আনা হয় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে।

:-t গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় একদল দুষ্কৃতকারী গভীর রাতে মন্দিরে ঢুকে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বালাশুর গ্রামে নাগমন্দিরে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় মন্দিরের সেবায়েতসহ ৮ জন আহত হন। শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হানিফ বেপারির নেতৃত্বে দুষ্কৃতকারীরা এ হামলা চালায়।

:-t গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরের রাজৈরের খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সাতপাড় গ্রামে রামমোহন মণ্ডলের পূজামণ্ডপে পুলিশ এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে। পূজারিরা এর প্রতিবাদ করায় মধ্যরাতে এসআই কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা প্রতিমা ভাংচুর করে।

:-t গত বছরের ২২ আগস্ট রাজধানীর সূত্রাপুরের ৯৫, ঋষিকেশ দাস লেনে আওয়ামী লীগ আশ্রিত সন্ত্রাসীরা এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি দখল করতে গিয়ে ওই পরিবারের ৯ জনকে মারধর, লুটপাট ও পরে তাদের অপহরণ করে। এর আগে তাদের বাড়িটি বিক্রি করার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়েছিল।

:-t গত বছরের ১২ জুন নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার ছাওর ইউনিয়নে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং লুটপাট চালায়। হামলায় ২৫ জন আহত হয়। নূর হোসেন নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা জাল দলিল করে জমি দখল করার উদ্দেশ্যে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর নেতা নরেন্দ্রনাথ মুর্মু।

:-t গত বছরের ১৪ জুন খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ের বরাইতলি গ্রামে ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর ৩০০ একর জমি স্থানীয় দুর্বৃত্তরা দখল করার চেষ্টার সময় ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর সদস্যরা বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এতে ১৪ ব্যক্তি আহত হন।

:-t ২০০৯ সালের মে মাসে সাতক্ষীরার আবাদের হাটের ঘোষাল পরিবারের ৩৮ বিঘা জমি দখল করে নেয় স্থানীয় যুবলীগের এক ক্যাডার ও তার সহযোগীরা। পরে গ্রামের পাঁচ শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই জমি থেকে দখলবাজদের হটিয়ে দেয়।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে গোবিন্দকাটি গ্রামের আওয়ামী লীগের এক নেতা দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপির সাবেক মেম্বার স্মৃতি সরকারকে তার জমি থেকে হটিয়ে দিয়েছেন।

:-t গত ১৯ এপ্রিল দিনাজপুর সদর উপজেলার পাড়বড়ইল গ্রামের ১১৩টি ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ করে জোতদারকে জমি দখল করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ওইসব পরিবারের ঘরবাড়ি।

:-t ২০০৯ সালের ৩১ মার্চ সাতক্ষীরা দেবহাটার কালাবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ ঘোষের মালিকানাধীন ৩০০ বিঘার ঘের দখল করে নেয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। ১৯৭৯ সালে সুভাষ ঘোষের বাবা ওই জমি সরকারের কাছ থেকে নিলামে কেনেন। দখলে বাধা দিলে তার স্বজনদের পিটিয়ে আহত করা হয়।

১:-t ৫ মার্চ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার যুগিপোতা গ্রামের রবিন মণ্ডলের ১২ বিঘা জমির চিংড়িঘের দখল করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ আশ্রিত তিন সন্ত্রাসী। এতে বাধা দেয়ায় রবিন মণ্ডলকে তারা মারধর করে। পরে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার সহযোগিতায় এ ঘটনায় উল্টো রবিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা করা হয়।

:-t গত বছরের ২৭ মার্চ ফেনী সদর উপজেলার কাজীরবাগ বাজারে যুবলীগ ক্যাডার সুমনের নেতৃত্বে বেলাল হোসেন অপেল, মহিউদ্দিন নূরন নবী, অনিক বিশ্বাস, দেলু, মো. ইসমাইল, নিজাম উদ্দিন, মো. আজাদ ও আবদুর রহিম সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সংখ্যালঘু হীরা বণিকের ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে।

:-t গত বছর ২৮ মার্চ জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের পণ্ডিতপুরের হিন্দু ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত সরকারপাড়ার বিমলচন্দ্র সরকারের বাড়িতে সরকারি দল আশ্রিত সন্ত্রাসীরা অগ্নিসংযোগ করলে গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরু পুড়ে মারা যায় এবং আরও তিনটি গরু অগ্নিদগ্ধ হয়।

:-t গত বছর ৩০ মার্চ রাজধানীর সূত্রাপুরে ৫০ বছরের পুরনো একটি মন্দির ভেঙে ফেলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। ৩২ কাঠা সম্পত্তি রয়েছে এই মন্দিরের। ওই সম্পত্তিতে হিন্দু-মুসলমান মিলে মোট ৬৮টি পরিবার বসবাস করে। আওয়ামী লীগ সমর্থক সালেহ এবং তার দুই ছেলে দিপু ও আসাদ ১৩টি হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদ করে মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে নেয়। ওই সময় শিব, কালী ও সরস্বতীর প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়।

:-t একই তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এলাকার উত্তর পৈরতলা দারিয়াপুরে শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি মুসলিম মিয়া এবং তার পরিবারের হামলার শিকার হয় জেলে পরিবারসহ কয়েকশ’ সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার।

:-t গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়িতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক বাঙালিদের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর সদস্যদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে খাগড়াছড়ি পৌরসভার এক কর্মচারী নিহত হন। এ সময় ৬৬টি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয় এবং প্রায় ৫০ জন আহত হন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার গঙ্গারাম ও বেতছড়ি গ্রামে ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রায় ২০০ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়।

:-t গত বছরের ২২ আগস্ট রাজধানীর সূত্রাপুরের ৯৫ ঋষিকেশ দাস লেনে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি দখল করতে তাদের নয়জনকে মারধর, লুটপাট এমনকি পরে তাদের অপহরণ করে। এর আগে তাদের বাড়িটি কেনার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে দীর্ঘ আট ঘণ্টা চেষ্টার পর সূত্রাপুর থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলের চাপে আওয়ামী লীগের স্থানীয় চার নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।

:-t ২ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সংখ্যালঘুরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

:-t ২০ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে অজিত করাতি ওরফে ক্ষীরমোহনকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় চারটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটও করা হয়। অজিত করাতিকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ফুটেজ ক্যামেরায় ধারণ করায় পুলিশ সাংবাদিকদের লাঞ্ছিতও করে।

:-t গত বছর ২২ ডিসেম্বর রাতে সিংড়ার তাজপুর গ্রামে দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ও খড়ের পালায় দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। এতে রাজবিহারী ঘোষ নামে একজন বৃদ্ধ দগ্ধ হন। দুই দিন পর তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ঐক্য পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত অভিযোগ করেছেন, আমি ওই গ্রামে তদন্ত করতে যাই। পরে দেখি ৯০ একর জমি নিয়েই এ বিরোধের সূত্রপাত। পরিস্থিতি অনুযায়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদেরই স্থানীয় সংখ্যালঘুরা দায়ী করেছেন।

:-t গত বছরের ২৫ জুলাই নরসিংদীর পলাশের চরসিন্দুর গ্রামে শ্মশানের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের চারটি বাড়িঘর ও মূর্তি ভাঙচুর এবং তাদের বাড়িতে লুটপাট করা হয়।

:-t ১১ জুলাই দোহারের নারিশা পূর্বচর গ্রামে সংখ্যালঘু নৃপেন মালাকারের জমিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখল করা হয়।

:-t ২২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের সিকদারবাড়িসহ চার সংখ্যালঘু পরিবারের পানের বরজ ও খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।


:-t মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় বিদেশ ফেরত এক ছাত্রলীগ নেতা পুরনো সাতক্ষীরায় দেবেন্দ্র চ্যাটার্জির মালিকানাধীন জমি দখল করে নেয়।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন বলছেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল; কিন্তু বর্তমানে এর সঙ্গে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্ম এবং জাতির মানুষের সমান আইনি সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার জানায়, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের আইনসঙ্গত অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের ভূমি অধিকার ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

ক্ষমতাসীনদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়। তাদের জায়গাজমি দখল করে নিচ্ছে সরকারদলীয় নামধারী কিছু সন্ত্রাসী। পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কয়েকজনকে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে নালিশ জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার বদলে দলীয় দখলবাজ সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্যাতিত হিন্দুরা ঢাকায় এসে বেশ কয়েকবার সংবাদ সম্মেলন করেও অভিযোগ জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা হিন্দুদের জমি, বাড়ি দখলের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এর মধ্যে অনেককে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্যকেও তারা অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। এর মধ্যে পিরোজপুরের হিন্দুরা দলমত নির্বিশেষে গণস্বাক্ষর দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অত্যাচারের প্রতিকারের আবেদন জানিয়েছেন। চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করার অপরাধে সরকারদলীয় লোকজন অমরেন্দ্র মল্লিকের পরিবারের সদস্যদের নামে চুরি ও মারপিটের মিথ্যা মামলা দেন। পরে তার বাড়িতে হানা দিয়ে সবাইকে বেদম পেটান। অমরেন্দ্র মল্লিককে স্ত্রী-পুত্র-কন্যার সামনে উলঙ্গ করে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে হাজারো মানুষের সামনে দিয়ে প্রথমে পৌরসভা ভবনে নিয়ে আরেক দফা নির্যাতন করা হয়। অমরেন্দ্রের বিবাহিত কন্যাকে আটকে রেখে অপমান করা হয়। শেষে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ মিথ্যা মামলায় তাদের আদালতে চালান দেয়। গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলেও সংখ্যালঘূ নির্যাতন হয়েছিল। বর্তমান সরকার ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হিন্দুদের ওপর হামলার বিচারের জন্য কমিশন গঠন করে বিচারের আয়োজন করছে। অন্যদিকে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের হাতে জমিজমা, বাড়িঘর হারিয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সংখ্যালঘুরা- বিষয়টি দুখজনক।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা সি আর দত্ত বীরউত্তম এ ব্যাপারে সোমবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনা সত্য। এগুলো আমি অবহিত হয়েছি। আমরা এর বিরুদ্ধে কাজ শুরু করব। আওয়ামী লীগকে এর মধ্যেই আমরা জানিয়েছি। আমার কথা হলো – সবার বোঝা উচিত সংখ্যালঘু হিসেবে হিন্দুদের ওপর যে হামলা-নির্যাতন হচ্ছে তা দেশের মানুষ পছন্দ করে না। এগুলো যারাই করুক পার পাবে না। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এ স্থান থেকে সরকারকে যারা বিচ্যুত করছে তারা পার পাবে না। এদের রক্ষার্থে দেশের গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে আহবান জানিয়েছেন সি আর দত্ত।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত মঙ্গলবার বলেন, গত বছরের জুলাই থেকে সংখ্যালঘুদের জমি দখল, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ, মন্দির দখল, মন্দিরে যেতে বাধা ও খুনের ঘটনা লক্ষ্য করছি। অনেক জায়গায় সংখ্যালঘু নারী অপহরণ ও ধর্ষণ করা হচ্ছে। আমরা দেখেছি এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতরা বর্তমান সরকারি দলের লোকজন। পিরোজপুর, নাটোর এবং গফরগাঁওয়ের সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও প্রত্যক্ষভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারে জড়িত হওয়ারও প্রমাণ পেয়েছি। আমরা চার মাস আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রতিকার চেয়েছি। গত বছর ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হাতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছি। বলেছি, দুষ্কৃতকারীরা সরকারি দলের লোক বলে পরিচয় দিচ্ছে। সরকারি দলের লোকেরা অপরাধ করে বলে থানাও মামলা নিতে চায় না। এ সময় আশরাফুল ইসলাম আমাদের বলেছেন, তিনিও বিষয়টি কমবেশি জানেন। সরকারি দল বদল না হলে দিনবদল হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন। আমরা তাকে পশ্চিমবঙ্গের আদলে প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ও দলে একটি সংখ্যালঘু সেল করার প্রস্তাব দেই। তিনি বলেছিলেন, প্রস্তাব ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। পরে বিষয়টি আর এগোয়নি।

তিন এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ : হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য সরকারি দলের তিনজন এমপিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, এদের প্রশ্রয়েই তাদের অনুসারীরা সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেছেন।

৫ মার্চ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের তিনটি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এ বিষয়ে মামলা করতেও নির্যাতিতদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ কর্মী আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী স্থানীয় বাসিন্দা নবকুমারের পুত্র প্রদীপ কুমারকে রামদা দিয়ে কোপায়। এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম আমলি আদালতে রেজাউলসহ তিনজনের নামে মামলা হয়। মামলাটি এখনো চলছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ওরা মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় সন্ত্রাসীরা তার জমির পাট কেটে নেয়। এ ব্যাপারে নবকুমার আরেকটি মামলা করেন। এতে ওরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে প্রদীপের চাচা শৈলেন্দ্রনাথ প্রামাণিককে কয়েকদফা মারধর এবং বাড়িঘর লুটপাট করে। এসব ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে আরো একটি মামলা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে সন্ত্রাসীরা প্রদীপ কুমারের বাড়িতে গিয়ে নবকুমারকে মামলা উঠানোর জন্য সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বলে। তাতে রাজি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা তার পরিবারের সদস্যদের সামনে বাবা-ছেলে ও মা সুধারানীকে বেদম মারধর করে। তাতেও রাজি না হওয়ায় বাবা-ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে আবদুর রাজ্জাকের বাড়িসংলগ্ন রাস্তার পাশে শিমুলগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে বেদম মারধর করে। শেষ পর্যন্ত গলায় রামদা ধরে তাদের কাছ থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য কাগজে সই নেয়। এরপরও মামলা তুলে না নেওয়ায় তাদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্যাতনের বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেতাদের জানালেও তারা অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে সালিশ করার নামে মামলা তোলার ব্যবস্থা করেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রানা দাসগুপ্ত বলেন, এ ঘটনায় তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু স্থানীয় এমপির কারণে মামলা নেওয়া যাচ্ছে না বলে ওসি জানিয়ে দেন। পরে এমপি আবদুস সাত্তারের সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাকে বলেন, ওরা তো গয়েশ্বর। আমি তাদের বললাম, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে হিন্দুরা গয়েশ্বর আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সুরঞ্জিত। তাহলে হিন্দুরা যাবে কোথায়? আর গয়েশ্বর হওয়ার কারণে কি তাদের উচ্ছেদ করে দেবেন? এর কোনো জবাব ওই এমপি দেননি। পরে জানতে পারি আগুন দেওয়ার আগের দিন এমপি ওই সন্ত্রাসীদের নিয়ে থানায় গেছেন। তিনি ওসিকে বলে দিয়েছেন, এরা আমাদের লোক। এদের কথামতো থানা চলবে। এদের বিরুদ্ধে যেন মামলা না নেওয়া হয়। পরদিনই তারা আগুন দিয়ে তিনটি ঘর পুড়িয়ে দেয়। পরে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগের পর এসপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মামলা নিতে নির্দেশ দেন।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার দক্ষিণ সোনাখালীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান ছায়েদ ও তার বাহিনী ১ এপ্রিল শঙ্করের বাড়িতে হামলা করে তার ভাই সুভাষকে আহত করেন। ছায়েদের এক ছেলে এএসপি ও ছোট ছেলে আশরাফ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। এ কারণে হিন্দুরা প্রশাসনের তেমন কোনো সমর্থন পাচ্ছেন না। মারধরের পর একই এলাকার হিন্দু বলরাম বেপারীর দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর কয়েকদিন আগে বলরামের বড় একটি বলদ গরু ধরে নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা। দক্ষিণ সোনাখালীর অনিল চন্দ্র হালদারের পুত্র শ্যামল চন্দ্র হালদার ও সুধীর রঞ্জন হালদারের পুত্র সুশান্ত হালদারের প্রায় ২৫ বিঘা জমি দখলের চেষ্টা করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এই জমির মালিকানা নিয়ে সুরেন্দ্রনাথ তালুকদার কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা আমড়াগাছিয়া ইউপি মেম্বার বিকাশকেও নির্বাচনে প্রার্থী না হতে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। ১৯ এপ্রিল ওই এলকার হিন্দুরা একজোট হয়ে গণস্বাক্ষর দিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তারা এ ঘটনার জন্য স্থানীয় এমপিকে দায়ী করেন। পরদিন বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে এমপি প্রতিবাদপত্র পাঠান। এ ঘটনায় মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ জনস্বার্থে একটি রিট হাইকোর্টে দায়ের করে। রিট আবেদনে জমি দখলের ঘটনায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা পালনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিরোজপুরের এসপি ও মঠবাড়িয়ার ওসিকে ৬ মে হাইকোর্টে হাজির হয়ে তাদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে বলেন হাইকোর্ট।

শুনানিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ডা. আনোয়ার হোসেনের প্রতিবাদের বিষয়টি জানানো হলে আদালত বলেন, আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িকতার বিপক্ষে। কিন্তু এ ধরনের কর্মকান্ডের মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের বদনাম করছেন।

রাজধানী থেকে তৃণমূল : শুধু হিন্দু নয়, অন্য সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীরাও আওয়ামী লীগের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এমনকি রাজধানীর খ্রিস্টান সম্প্রদায় সংখ্যালঘুদের জানমাল রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদাসীনতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে নালিশও জানিয়েছে।


পরিষদ নেতারা অভিযোগ করেন, বরিশালের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনের মন্দিরে গত কোরবানির সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা গরু ঝুলিয়ে কোরবানি দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের এমপির পুত্র বনবিভাগের গাছ কেটে জায়গা দখল করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি জমিসংলগ্ন জেলেপাড়ার ৭০-৮০টি সংখ্যালঘু পরিবারের চলার পথ বন্ধ করে দেন। এদের উচ্ছেদের জন্য এ পন্থা নেন বলে ওই পরিবারগুলো অভিযোগ করে। পরে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধও করেন। পরে প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মামলা নেওয়ার অঙ্গীকার করলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। মামলার বাদীপক্ষের অ্যাডভেঅকেট অজিত কুমার অধিকারী বুধবারকে বলেন, ওই মামলার তদন্ত এখনো শেষ করতে পারেনি পুলিশ। পরিবারগুলো এখনো এ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন করার অপরাধে নির্যাতন : চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সংখ্যালঘুদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ, নির্যাতন ও হামলা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করায় অমরেন্দ্র মল্লিককে পিটিয়ে এলাকাছাড়া করেছে স্থানীয় এমপি ও পৌর মেয়রের অনুসারী আওয়ামী লীগ নামধারী কিছু নেতাকর্মী। অমরেন্দ্রর বাড়িতে হামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের সঙ্গে তাকে উলংগ করে বেধড়ক মারপিট করে ওই সন্ত্রাসীরা। পরে প্রকাশ্যে পেটাতে পেটাতে পৌরভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে পৌর মেয়র ডাকাত নায়েক শফির নেতৃত্বে পিতা ও পুত্রকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এসময় অমরেন্দ্রর বিবাহিত কন্যা কাদঁতে কাঁদতে পৌর ভবনে হাজির হলে তাকেও পাশের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রেখে শ্লীলতাহানী করা হয়। পরে পিতা পুত্রের নামে একই দিন চুরি ও মারপিটের মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয়।

মধ্যযুগীয় এ ঘটনাটি সীতাকুন্ড পৌর এলাকায় গত ৫ মে ঘটলেও কোন পত্রিকায় সংবাদ হয়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরা সাহসই পাননি- এ নিয়ে কোন সংবাদ লেখার। এর আগে সীতাকুন্ডে তীর্থযাত্রীদের গণডাকাতি করা হলেও কোন খবর হয়নি। অমরেন্দ্র চট্টগ্রামে চিকিৎসাও নিতে পারেন নি। তিনি ঢাকায় পালিয়ে এসেছেন। আজ আমার অফিসে বসে তার ওপর বর্বর যুগের কায়দায় নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের আমিরাবাদ মায়াকুঞ্জের এলাকার অমরেন্দ্র মল্লিক সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে গত ৫ এপ্রিল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। তিনি সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধ ও কল্যান কমিটির সভাপতি। ওই সংগঠনের ব্যানারেই তিনি সীতাকুন্ডের স্থানীয় এমপি আবুল কাশেম মাস্টারের ভাগ্নের হাতে শতাধিক সংখ্যালঘু জেলে পরিবার অবরুদ্ধ হওয়ার প্রতিকার চাইতে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি ব্যানারে লিখেছিলেন, চট্টগ্রামে নৌকার কান্ডারী ও মাঝিমাল্লা কর্তৃক হামলা মামলা নির্যাতন ও বাপ দাদার ভিটে ভূমি সহায় সম্পত্তি জবরদখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। এমপি ভাগ্নে বন বিভাগের গাছপালা উজাড় করে জাহাজ ভাংগার ইয়ার্ড তৈরী করে সংবাদ শিরোণাম হয়েছিলেন। কিন্তু সরকারী জমির পর তার লোলুপ দৃষ্টি গিয়ে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর জমির ওপর পড়ে। তিনি টাকা নিয়ে ওই এলাকা ছেড়ে দিতে সংখ্যালঘুদের নির্দেশ দেন। কিন্তু হিন্দুরা নিজেদের বাপ দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র যেতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবারগুলোর বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়াও শ্মশানঘাটে যাওয়ার রাস্তায় মুরগির খামার তৈরী করে এমপির ভাগ্নে। এর প্রতিবাদে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো ঢাকা চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে। একপর্যায়ে প্রশাসন এ ঘটনায় তদন্ত ও মামলা নেয়ার কথঅ বললে তারা অবরোধ তুলে নেন। মামলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তনন্তর নামে ঝুলে রয়েছে। এরই ফাঁকে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কাড়তেই তারা সংবাদ সম্মেলন করেন। পরদিন বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলেই এমপি ও পৌর মেয়র বাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সংখ্যালঘুদের নামে একের পর এক মামলা দেয়া হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শচীন্দ্রলাল দের নামেও একটি ৫০৬ ধারায় হুমকির মামলা দেয়া হয়েছে। তিনিও ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
যেভাবে সপরিবারে নির্যাতিত হলেন অমরেন্দ্র
নির্যাতনের শিকার অমরেন্দ্র মল্লিক খোড়াতে খোড়াতে নিউ এজ অফিসে এসেছিলেন। তার এক হাত ভেংগে গেছে। শরীরে নির্যাতনের অসংখ্য চিহ্ন। কাদতেও যেন ভুলে গেছেন তিনি। একটি সভ্য সমাজে কিভবে জনসমাক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা বুঝেও উঠতে পারছেন না। বর্তমানে ঢাকায় গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাসগুপ্ত আমাকে তার সন্ধান দেন। বলেন, অসুস্থ থাকার কারণে অমরেন্দ্রর পাশে দাড়াতে পারিনি। সংখ্যালঘু নিয়ে রাজনীতি করে আওয়ামী লীগ সরকারও এর পাশে দাড়াবে বলে মনে হয়না। আপনারা সাংবাদিকরা এর জন্য কিছু করুন। আমি তাকে আমার অফিসে আসতে বলি। কোনক্রমে অফিসে হাজির হয়ে অমরেন্দ্র তার উপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর সরকার দলীয় ক্যাডারদের হামলা মামলা ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করায় কর্মকান্ডে স্থানীয় এমপি প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হন। গত ৫ মে দুপুর আড়াইটায় কিছু আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী আমার বাড়িতে যান। তারা গিয়েই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়–য়া পুত্র শিমুল মল্লিককে বেধড়ক মারধর শুরু করে। আমি খবর পেয়ে বাড়ি যাই। আমাকে সামনে পেয়ে আমার ওপরেও চড়াও হয়। আমরা দ্রুত ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা দড়জা লাগানোর সময় দেয়নি। ঘড়ের ভেতর ঢুকে আমাকে ও আমার পুত্রকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে মারধর করতে থাকে। আমাকে পরিবারের সামনেই উলংগ করে ফেলে পেটাতে থাকে। পরে আমাকে দড়ি দিয়ে পিছমোড়া বেঁধে কিল ঘুষি মারতে মারতে টেনে বাইরে নিয়ে যায়। আরেকটি গ্র“প ঘরে ভাংচুর ও তল্লাশী চালায়। আমার কন্যার স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে প্রকাশ্যে রাস্তায় পেটাতে পেটাতে পৌর ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে আামকে ও শিমুলকে আটক করে। আমার বিবাহিত কন্যা পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে সেখানে উপস্থিত হলে তাকেও পাশের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। এসময় পৌর মেয়র কক্ষে ঢুকে গালিগালাজ করতে থাকেন। তিনি চিৎকার দিয়ে বলেন, শুয়ারের বাচ্চা, সংবাদ সম্মেলন করিস। এখন তোর আইন কানুন কই? কথায় কথায় তিনি থাপ্পড় মারতে মারতে নিচে ফেলে দেন। একই সঙ্গে শিমুলকেও মারা হয়। একপর্যায়ে পৌর মেয়র চিৎকার দিয়ে বলেন, চোখ বেধে দুরমুজ দিয়ে এর হাড্ডিগুড্ডি চুড়মার করে দাও। এরপরই আমার চোখ কালো কাপড় দিয়ে বেধে লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু করে কয়েক কাউন্সিলর। এসময় আমার শরীর অবশ হয়ে পড়ে। আমি তাদের পা ধরে বলি, আমার শরীর অবস হয়ে গেছে। আমি পঙ্গু হয়ে গেছি। এ অবস্থায় মারধর করলে আমি আর বাচবো না। তারা আমার কথায় কোন কর্ণপাত করেনি। একজন কাউন্সিলর আমার পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল নিয়ে যায়। এরপর মাটিতে ফেলে আমার বুকের ওপর উঠে তামাশা করেই নাচতে থাকে। পাশের কক্ষে আমার মেয়েকে আটকে রেখে তার বুকে হাত দিয়েছে। অশ্লীল গালিগালাজ করে যা করা হয়েছে তা বাবা হয়ে আমি কিভাবে বলবো? বিকাল চারটা পর্যন্ত আমদের সেখানে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়। আমরা নিস্তেজ হয়ে পড়লে আমাদের বেঁধে থানার দিকে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে যায়। এসময় হাজার হাজার মানুষ আমাদের করুন দৃশ্য দেখতে থাকে। আমি বলতে থাকি আপনারা দেখুন, আমাদের ওপর কিভাবে অত্যাচার হচ্ছে। আমি ডায়াবেটিসের রোগী। হাত পা নাড়াতে পারছিনা। আমাকে আগে একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাও। তারা আমাকে উল্টো মারধর করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আমার অবস্থা দেখে একজন চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। চিকিৎসক কিছু এক্সরে করতে দেন। আমি বললাম আমাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করেন। তিনি আমাকে হাসপাতালে রাখতে রাখতে পারলেন না। আমাকে ফোন করে ওসি মনিরুল ইসলাম গালিগালাজ করতে থাকেন। বলেন, শুয়োরের বাচ্চা হাসপাতাল থেকে স্বেচ্চায় থানায় চলে আয়। নইলে পেটাতে পেটাতে নিয়ে আসবো। রাতে গিয়ে দেখি একজন এসআই একটি মামলা লিখছেন। আমাদের নামে চুরি ও মারপিটের মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা নাকি আমাদের বাড়িতে যেসব লোকজন গেছে তাদের মারধর করেছি। পরের দিন আমাকে ও পুত্রকে আদালতে চালান দেয়া হয়। আমি থানার ওসিকে বলেছিলাম, আমার উপর যে নির্যাতন হয়েছে, তা তো নিজের চোখে দেখেছেন। আমি পুলিশের কর্মকর্তা থাকতে এ ধরনের অনেক মৌখিক এজাহার নিয়েছিলাম। কিন্তু ওই কর্মকর্তা কোন এজাহার নেননি। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভেঅকেট রানাদাস গুপ্ত বলেন, অমরেন্দ্রর ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা অকল্পনীয়। আমি তাকে মামলা করতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি নিজেই পঙ্গু হয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি সাংবাদিকদের সহায়তা চান। সংবাদ সম্মেলন করার অপরাধে সংগঠনের সচিব শচীন্দ্র কুমার দে’র বিরুদ্ধেও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সীতাকুন্ড থানায় যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, আমি ১২ মে দায়িত্ব নিয়েছি। আগের ওসি বর্তমানে নোয়াখালীতে বদলি হয়েছেন। তাকে থানায় এসে আমার কাছে অভিযোগ দিতে বলুন।

খ্রিস্টানদের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা : গত বছরের ৩০ অক্টোবর ঢাকার কাফরুলের একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি বেদখলকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের উদাসীনতার অভিযোগ করা হয় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে। ২ নভেম্বর এনা এ সংবাদটি প্রচার করে। এতে বলা হয়, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি না পেলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সহায়তা বন্ধের আহবান জানিয়েছে দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়।

ঢাকা ক্রিস্টিয়ান ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (সিডিএ) নির্বাহী পরিচালক উইলিয়াম নিকলাস গমেজ এ পত্রটি লেখেন। ওই পত্রের কপি যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন সিনেটর এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকেও দেওয়া হয়। ২২ অক্টোবর আওয়ামী লীগ নামধারী একদল সন্ত্রাসী বন্দুক উঁচিয়ে কাফরুল থানার পুলিশের সামনেই ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য রীতা গমেজের বাড়ির অধিকাংশ জমি জবর-দখল করে। রীতা গমেজের পরিবার থেকে পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ করতে গেলে তা নেওয়া হয়নি। রীতা গমেজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জানান, তিনিও আওয়ামী লীগের কর্মী। গত নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। অথচ এখন আওয়ামী লীগের পরিচিত লোকজনই পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় উপস্থিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা এ সময় রীতা গমেজের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন এবং হুমকি দেন, তারা তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করবেনই। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দলের লোকজনকে নিবৃত্ত না করে উল্টো বলেন, বাংলাদেশে জমিজিরাত দখলের ঘটনা ঘটছে, তাকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে কেন? এটা তো স্বাভাবিক একটি অপরাধ। আওয়ামী লীগের সদস্যরাও তো এহেন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। আপনারা তো বিএনপি-জামায়াত সরকারের তুলনায় অনেক ভালো রয়েছেন। আর কী চান?

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকারের আমলে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা থেকে ২৫টি সংখ্যালঘু পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ কর্মীরা সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর জবর-দখল করছেন।

১৫ মে রাতের আধাঁরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সহযোগীরা উপজেলার পানপুঞ্জির খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কবরস্থান দখল করে ক্রুশ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।

সাতক্ষীরা থেকে সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী তার পাঠানো রিপোর্টে জানান, চারদলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছরের মতো এবারো সাতক্ষীরার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতিত হচ্ছেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের জায়গাজমি দখল করে নিচ্ছে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা। নির্যাতিতরা অভিযোগ দিতেও ভয় পাচ্ছেন।

এসব ঘটনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নালিশ জানিয়েও ক্ষতিগ্রস্তরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তারা জানান, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষাবলম্বন করে। এর ফলে তারা নিজেদের জমি নিজেদের মতো করে আর ব্যবহার করতে পারছেন না।

মহাজোট ক্ষমতাসীন হওয়ার মাত্র ক’দিনের মাথায় বিদেশফেরত এক ছাত্রলীগ নেতা পুরান সাতক্ষীরায় দেবেন্দ্র চ্যাটার্জির মালিকানাধীন জমি হস্তান্তরের আইনগত জটিলতার ফাঁকে দখল করে নিয়েছেন। সেখানে বিশাল এক বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি।

২০০৯ সালের মে মাসে সাতক্ষীরার আবাদের হাটের ঘোষাল পরিবারের ৩৮ বিঘা জমি দখল করে নেয় যুবলীগের এক ক্যাডার ও তার সহযোগীরা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি শুরু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ঘোষাল পরিবার আইন আদালতের আশ্রয় নেয়। পরে গ্রামের পাঁচশতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই জমি থেকে দখলবাজদের হটিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ওই নেতাকে সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

কালিগঞ্জের গোবিন্দকাটি গ্রামের আওয়ামী লীগের আরেক নেতা দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপির সাবেক মেম্বার স্মৃতি সরকারকে তার ভোগদখলীয় জমি থেকে হটিয়ে দিয়েছেন। স্মৃতি সরকার জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে ওই জমি আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করে তার নেতৃত্বে সুফলভোগীরা চাষবাস করে আসছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় তা দখল করে নেওয়া হয়। স্মৃতি মেম্বার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুফল পাননি।

২০০৯ সালের ৩১ মার্চ দেবহাটার কালাবাড়িয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ ঘোষের মালিকানাধীন ৩০০ বিঘার ঘের দখল করে নেয় ভূমিহীন আওয়ামী লীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা। সুভাষ ঘোষ জানান, ১৯৭৯ সালে তার বাবা ওই জমি সরকারের কাছ থেকে নিলামে কেনেন। দখলে বাধা দিলে তার স্বজনদের পিটিয়ে আহত করা হয় ।

একই বছরের ২০ ডিসেম্বর দেবহাটার ঢেবুখালিতে ৩০০ বিঘার অপর একটি ঘের দখল করে নেয় আরেক ডাকাত বাহিনী। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ১৯৬৮-৬৯ সালে মণিলাল স্বর্ণকার তার পুত্র তপন, স্বপন, শঙ্কর, কিঙ্কর, রমেশ ও তাদের মা মৈত্রী স্বর্ণকারের নামে দানপত্র করে দেন। এর আগে সরকার ১৯৮৩ সালে ওই জমির একাংশ খাস করে নেয়। স্বর্ণকার পরিবার আইনগত লড়াই করে ইনজাংশন লাভ করে। ২০ ডিসেম্বর ওই ডাকাত দল বোমাবাজি করে ওই জমি দখল করে নেয়। এ দুটি ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে চলতি মে মাসের ১৪ তারিখে কালিগঞ্জের উজয়মারিতে ২২টি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল করে নেন আওয়ামী লীগের আরেক কর্মী। এরপরই ওই জমিতে ইটভাটা তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। এতে বাধা দিতে গিয়ে জমির মালিক রমেশ মন্ডলসহ আহত হন তিনজন। সদর উপজেলার যুগিপোতা গ্রামের রবিন মন্ডলের ১২ বিঘা জমির চিংড়ি ঘের দখল করে নিয়েছে তিন সন্ত্রাসী। এতে বাধা দেওয়ায় রবিন মন্ডলকে তারা মারধর করে। পরে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার সহযোগিতায় ১৫ মার্চ এ ঘটনায় উল্টো রবিন মন্ডলের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে আরেক আওয়ামী লীগ নেতা শ্যামনগরের গোপালপুরের সুরেশ মন্ডলের দুই বিঘা জমি জোর করে দখল করে নিয়েছেন। তিনি সুরেশ মন্ডলের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা ও ফেনী আদালতে একাধিক মিথ্যা মামলাও করেছেন।

বর্তমান সরকারের দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচবার ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইশতেহারের অগ্রাধিকারের ৫.৪ স্থানে ছিল ‘ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’ কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে – দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগেরই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এর সঙ্গে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। দিন দিন এটা বেড়েই চলেছে। সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান আইনি সুবিধা ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের লোকদের দ্বারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা যে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাতে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, আমরা কোন গণতান্ত্রিক সমাজে বাস করছি।

http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/hassan201111091320812768_5.jpg

অধিকারের রিপোর্ট : হাসিনা সরকারের সোয়া দুই বছরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের শিকার ৮১৩, ৫১টি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের গত সোয়া দুই বছরে ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর উপর অমানবিকভাবে নির্যাতন হয়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৮১৩ ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এ নির্যাতনের কারণে ৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৭৬৬ জন এবং ৫১টি মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। ১২ জনের জমি দখল করা হয়েছে, ৪ জনের ঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘‘অধিকার’’ এর গবেষণাধর্মী রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়।

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর ২০১১ সালের জানুয়ারি-মার্চ মাসের রিপোর্টে বলা হয়, ১৩ জানুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা পৌরসভা নির্বাচনের পর সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তৈয়বুর রহমান পরাজিত হলে তার সমর্থকরা শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে ব্যবসায়ীদের মারপিট করে ও তাদের দোকান বন্ধ করে দেয়। যাদের দোকানে হামলা করা হয় তারা অধিকাংশই হিন্দু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর শৈলকুপা শহরের হিন্দু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন স্বর্ণকারপট্টির অধিকাংশ দোকান বন্ধ হয়ে যায়। হামলার শিকার প্রিয়াংকা জুয়েলার্স এর মালিক কজ্জল দে কে আহত অবস্থায় শৈলকুপা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। কজ্জল দে জানান, তিনি রাজনীতি করেন না। ভোট দেয়ার অভিযোগে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে।

‘অধিকার’-এর ২০১০ সালে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২৪৪ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ২৩টি মন্দির ভাংচুর হয়েছে। অপরদিকে জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১০ মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার দেউলভোগ গ্রামে দুর্বৃত্তরা কালী মন্দিরে হামলা চালিয়ে দূর্গা প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মন্দির কমিটির নেতারা জানান, আলেক মিয়া, মিজানুর ও আশিকুরের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১০ মন্দিরের জায়গা দখল করতে গেলে তারা বাঁধা দেন। এতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে পূজা করলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ মিজানুরকে গ্রেফতার করেছে। ১১ অগাস্ট ২০১০ ঢাকার সূত্রাপুরের লালমোহন সাহা স্ট্রিটে ৭৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা হাজি ইসলাম ও সুত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত পিস্তল, রামদা, হকিস্টিক ও শাবল নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রীশ্রী রাধাকান্ত ঠাকুরানী লক্ষ্মী জর্নাধনচক্র জিওবিগ্রহ মন্দিরে হামলা চালায়। এ সময় দুর্বৃৃত্তরা মন্দিরের দরজা জানালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে পাঁচটি প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মন্দির কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গৌরগোপাল সাহা ও সেক্রেটারি শ্রী মলচন্দ্র ঘোষ অভিযোগ করেছেন, ‘‘আওয়ামী লীগ নেতারা দুর্বৃত্ত দিয়ে মন্দির ভাঙচুর করে এর মূল্যবান সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এদের ভয়ে তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’’ ৭ আগস্ট ২০১০ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চানতারা গ্রামে একদল দুর্বৃত্ত আহমদীয়া জামাতের মসজিদ নির্মাণের সময় হামলা করে। হামলাকালে দুর্বৃত্তরা আহমদীয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের বেশ কয়েকটি বাড়ি এবং দুইটি পোলট্রি ফার্ম ভাংচুর করে। দুর্বৃত্তদের হামলায় আহমদীয়া সম্প্রদায়ের ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকেই গ্রেফতার করেনি।

উল্লেখ্য, ১৭ জুন ২০১০ এই দুর্বৃত্তরাই একই জায়গায় আহমদীয়া জামাতের নির্মাণাধীন মসজিদে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছিল। ১২ জুলাই ২০১০ নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার নাকইলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির এক পল্লীতে ক্ষমতাসীন দলের শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ভূমিদস্যু হামলা চালায়। এ ঘটনায় ক্ষুদ্রজাতি গোষ্ঠির প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট হয়। এ সময় হামলাকারীরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির নারী-পুরুষদের প্রচন্ড মারপিট করে।
জাল দলিল করে জমি দখল করার জন্যে এ হামলা করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। ১২ জুন ২০১০ হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমার অপহরণের ১৪ বছর উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক সভার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিবাসীদের তাদের নিজ নিজ জমিতে পুনর্বাসিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গত ৬ মে ২০১০ এই নির্দেশ প্রদান করেন। ১৯ এপ্রিল ২০১০ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিবাসীদের পক্ষে শংকর মিত্র অভিযোগ করেন আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান ছায়েদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, জালাল, আমির হোসেন মানিক, হাসান হোসেন, তোপা, হারেস ও তাজুলের অত্যাচারে তারা দিশেহারা। তারা তাদের ভিটেমাটিতে থাকতে পারছেন না। তাদের ৫শ’ বিঘা জমি দখল করে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর ২০০৯ সালের রিপোর্টে সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ বছরে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫৬৯ ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে ৫০২ জন আহত হয়েছে, ১ জন নিহত হয়েছে, ১২ জনের জমি দখল করা হয়েছে, ৪ জনের ঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এবং ২৮টি মন্দির ভাংচুর করা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ফেনী সদর উপজেলার কাজীরবাগ বাজারে যুবলীগ ক্যাডার সুমনের নেতৃত্বে বেলাল হোসেন অপেল, মহিউদ্দিন নূরন নবী, অনিক বিশ্বাস, দেলু, মো. ইসমাইল, নিজাম উদ্দিন, মো. আজাদ ও আব্দুর রহিম সশস্ত্র হামলা করে সংখ্যালঘু হীরা বণিকের ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। ২৮ মার্চ জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের পন্ডিতপুরের হিন্দু ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত সরকার পাড়ার বিমল চন্দ্র সরকারের (৫০) বাড়িতে একদল দুষ্কৃতিকারী অগ্নিসংযোগ করলে গোয়ালঘরে থাকা ৪টি গরু অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায় এবং আরো ৩টি গরু অগ্নিদগ্ধ হয়। রাজধানী ঢাকার সূত্রাপুরে পঞ্চাশ বছরের পুরানো একটি মন্দির ভেঙ্গে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। স্থানীয় সূত্র জানায়, ৩২ কাঠার সম্পত্তি রয়েছে এই মন্দিরের। এই সম্পত্তিতে হিন্দু-মুসলমান মিলে মোট ৬৮টি পরিবার বসবাস করে। ৩০ মার্চ আওয়ামী লীগ সমর্থক সালেহ এবং তার দুই ছেলে দিপু ও আসাদ ১৩ টি হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদ করে মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে নেয়। এই সময় শিব, কালী এবং সরস্বতীর প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এলাকার উত্তর পৈরতলা দারিয়াপুরে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুসলিম মিয়া এবং তার পরিবারের অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ এলাকার জেলে পরিবারসহ কয়েকশ’ সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার। নির্যাতিত পরিবারের সদস্য মৎসজীবী হরে কৃষ্ণ দাস বলেন, প্রায়ই তাদের বাড়ি-ঘরে হামলা করে কিশোরী ও মহিলাদের সম্মানহানি এবং লুট-পাট চালানো হয়। ২২ আগস্ট রাজধানী ঢাকার সূত্রাপুরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে এক হিন্দু পরিবারের নারী শিশুসহ ৯ সদস্যকে অপহরণের প্রায় আটঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হৃষিকেশ দাস লেনের ৯৫ নম্বর বাড়ি থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা পয়সা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ স্থানীয় আওয়ামী লীগের চার কর্মীকে গ্রেফতার করে। ১০ সেপ্টেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় একদল দুষ্কৃতিকারী গভীর রাতে মন্দিরে ঢুকে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করে। ২৫ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বালাশুর গ্রমে নাগমন্দিরে দুষ্কৃতিকারীদের হামলায় মন্দিরের সেবাইতসহ ৮ জন আহত হন। শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক হানিফ বেপারীর নেতৃত্বে দুষ্কৃতকারীরা এই হামলা চালায়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরের রাজৈরে খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সাতপাড় গ্রামে রামমোহন মন্ডলের পূজামন্ডপে পুলিশ এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে। পূজারীরা এর প্রতিবাদ করায় মধ্যরাতে এসআই কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা প্রতিমা ভাঙ্চুর করেন। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলাধীন কারাল গ্রামের নাথপাড়ায় বসবাসকারী নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০০ সদস্য উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৯৯০-এর দশক থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করছে যা সরকারিভাবে আরএনআইএমপি-২ নামে পরিচিত। সম্প্রতি এ প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবর্তিত প্রকল্পে কারাল গ্রামের নাথপাড়ার বাসিন্দাদের ভূমিকে অধিগ্রহণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পটিয়া বাইপাস নির্মিত হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে কারাল গ্রামের নাথপাড়ার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই মর্মে একটি নোটিশ জারি করা হয় যে, ১৪ অক্টোবর ২০০৯ তারিখের মধ্যে তাদেরকে ওই এলাকা ছেড়ে দিতে হবে, অথচ নোটিশ জারির আগে পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের কোন ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। উচ্ছেদের শিকার বাসিন্দাদের প্রত্যেককে তাদের বাসস্থানের জন্য নতুন জমি কেনার খরচ বাবদ ৫০ হাজার করে টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যা যথেষ্ট নয়। তাছাড়া এ ব্যাপারে লিখিতভাবে কোন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়নি। বাংলাদেশে জমির ঘোষিত বাজার দর ও প্রকৃত বাজার দরের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। সংশিষ্ট এলাকায় এক একর জমির সরকার-নির্ধারিত মূল্য এক লাখ টাকা হলেও বাস্তবে এক একর জমি বিক্রি হয় প্রায় এক কোটি টাকায়। এই এলাকার ৩০০ অধিবাসী পুরুষানুক্রমে হস্তশিল্পের পেশায় জড়িত। নাথ সম্প্রদায়ের দুই নেতা শ্রীমত শুভসন্ধ্যা অবধূত এবং দিলীপ দে মনে করেন, সংখ্যালঘু হিসেবে তারা সরকারের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।

অধিকারের এ রিপোর্ট প্রমাণ করেছে যে, আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। তারা সেকুলারের কথা বলে একদিনে ইসলামপন্থীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের অধিকারও নষ্ট করছে। এ অবস্থায় দেশের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উচিত আওয়ামী লীগকে বয়কট করা।


তথ্যসূত্র:
- সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে আ’লীগ কর্মীরা- আমার দেশ
- অধিকার
- ক্ষমতাসীনদের হাতে সংখ্যালঘু নির্যাতন - সাপ্তাহিক বুধবার

সূত্র: আমার বর্ণমালা